ইসলামের শুরুর দিকে কবর জিয়ারত নিষিদ্ধ ছিল মুসলিমদের জন্য। পরে জাহেলি যুগের বিশ্বাস দূর হলে এর অনুমতি দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের এর আগে কবর জিয়ারতে নিষেধ করেছিলাম, এখন থেকে কবর জিয়ারত করো। কেননা তা দুনিয়াবিমুখতা এনে দেয় এবং আখেরাতের স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৫৭১)
রাসুলুল্লাহ (সা.) কবর জিয়ারতের জন্য সাহাবিদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি জুমায় তার মা-বাবা বা তাদের একজনের কবর জিয়ারত করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহারকারীদের মধ্যে গণ্য করা হবে।’ (আল মুজামুল আউসাত, ৬১১৪)
নবিজি (সা.) কবরের পাশ দিয়ে কিংবা কবরে গেলে কবরবাসীদের সালাম দিতেন। তাদের জন্য দোয়া করতেন। আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি কবর জিয়ারতে যান এবং বলেন—বাংলা উচ্চারণ: আস সালামু আলাইকুম দারা কাওমিম মুমিনিন ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লা হিকুন।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৪৯)
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার কবরবাসীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এই দোয়া পাঠ করেন—
বাংলা উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর; ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম, আনতুম সালাফুনা ওয়া নাহনু বিল আসার।
বাংলা অর্থ: হে কবরবাসী, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের ক্ষমা করুন, তোমরা আমাদের আগে কবরে গিয়েছ এবং আমরা পরে আসছি। (তিরমিজি, হাদিস: ১০৫৩)
কবর জিয়ারতে এসে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি দোয়া পড়তেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কবরে আসতেন তখন তিনি উল্লিখিত দোয়া পড়তেন—
বাংলা উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম আহলাদ দিয়ারি মিনাল মুমিনিনা ওয়াল মুসলিমিন, ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লাহিকুন, আসআলুল্লাহা লানা ওয়ালাকুমুল আফিয়াহ।
বাংলা অর্থ: হে গৃহের অধিবাসী মুমিন ও মুসলিমরা, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় তোমাদের সঙ্গে মিলিত হব। আমি আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য ও তোমাদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। (মুসলিম, হাদিস: ৯৭৫)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক