ঢাকা মসজিদের শহর হিসেবে পরিচিত। এই শহরের প্রতিটি অলি-গলিতে ছড়িয়ে আছে নতুন ও পুরাতন অসংখ্য মসজিদ। এর মধ্যে বিশেষ এক মসজিদ হলো বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ, যা দেশের জাতীয় মসজিদ হিসেবে খ্যাত। বায়তুল মোকাররম মসজিদ বিশ্বের দশম বৃহত্তম মসজিদ, যা নির্মাণ করা হয়েছে মক্কার কাবা ঘরের আদলে। এটা চারকোনা আকৃতির এবং মোগল স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণ এই মসজিদটিকে অন্য সব মসজিদ থেকে আলাদা করে তোলে। যা এটিকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছে।
এ মসজিদটির নির্মাণের পেছনে রয়েছে বেশকিছু চমকপ্রদ ইতিহাস। মসজিদটি ঢাকা শহরের নতুন এবং পুরান ঢাকার মিলনস্থলে, নগরীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রের কাছেই অবস্থিত। এক সময় যেখানে মসজিদটি এখন দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে ছিল একটি বড় পুকুর, যা 'পল্টন পুকুর' নামে পরিচিত ছিল। এই পুকুর ভরাট করে ১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান মসজিদটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।
বায়তুল মোকাররম মসজিদটির আয়তন ২৬৯৪.১৯ বর্গমিটার এবং এর প্রধান গম্বুজের উচ্চতা ৩০.১৮ মিটার। মসজিদটি ১৯৬৩ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো নামাজের জন্য খোলা হয়। বর্তমানে এই মসজিদে একসঙ্গে ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।
এ ছাড়া, নারীদের জন্য রয়েছে ৬ হাজার ৩৮২ বর্গফুটের নামাজের স্থান, যা মসজিদের তিনতলার উত্তর পাশে অবস্থিত। পুরুষদের জন্য ব্যবহৃত ওজুখানা ৬ হাজার ৪২৫ বর্গফুট, আর নারীদের ওজুখানার জন্য রয়েছে ৮৮০ বর্গফুট। যা মসজিদটির দক্ষিণ ও উত্তর পাশে অবস্থিত ওজু করার জন্য জায়গা রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত সুবিধাজনক।
এ ছাড়াও মসজিদটির বারান্দার ওপর দুটি ছোট গম্বুজ নির্মাণ করা হয়েছে, যা মসজিদটির প্রধান গম্বুজের অভাব পূর্ণ করেছে এবং মসজিদটির সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করেছে।
প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে নামাজ আদায় করেন, যা এই মসজিদকে জীবন্ত ও প্রাণবন্ত করে তোলে। বায়তুল মোকাররম মসজিদটি তার স্থাপত্য, ইতিহাস এবং আধুনিক সুবিধার জন্য কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং ঢাকার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিত।