ইবলিস— মানবজাতির চিরন্তন ও প্রকাশ্য শত্রু। ফিতনা-ফাসাদ, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও যাবতীয় অকল্যাণের পেছনে তারই প্রভাব। প্রশ্ন জাগে, এমন এক অনিষ্ট সৃষ্টিকারীর সৃষ্টি কেন? এই রহস্যের পূর্ণ জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই। তবে কোরআন-সুন্নাহ ও মনীষীদের ব্যাখ্যার আলোকে কিছু বিষয় আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়।
আল্লাহতায়ালা মানুষ ও জিন জাতিকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তাদের পরীক্ষা করা যায়। আল্লাহ বলেন, ‘আমি জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছি, কে ভালো কাজ করে তা যাচাই করার জন্য’ (সুরা মূলক: ২)। এ পরীক্ষার অংশ হিসেবেই ইবলিসের সৃষ্টি।
ইবলিসের অস্তিত্ব আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির পার্থক্য নির্ধারণে সহায়ক। তার বিরোধিতাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে চালিত করে। তাই তার সৃষ্টিতে রয়েছে প্রজ্ঞা। ইবলিস এক সময় ছিল মর্যাদাপূর্ণ, কিন্তু অহংকার ও অবাধ্যতার কারণে সে আল্লাহর অভিশপ্ত হয়েছে। এতে মানব ও জিনজাতির জন্য শিক্ষা— অমান্যতার পরিণাম কত ভয়াবহ হতে পারে।
ইবলিস আরেকটি পরীক্ষার মাধ্যমও বটে। যেমন- সেতু বা সড়ক নির্মাণের পর তা পরীক্ষা করা হয়, তেমনি ইবলিসের কুমন্ত্রণা ও দুনিয়ার লোভ-লালসা উপেক্ষা করে যারা উত্তীর্ণ হবে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতের অফুরন্ত শান্তি। আর যারা ব্যর্থ হবে, তাদের স্থান জাহান্নামে।
আদম (আ.)-এর মতো কেউ গুনাহ করেও লজ্জিত হয়ে ফিরে আসে, আর কেউ ইবলিসের মতো অহংকারে ডুবে যায়। এ পার্থক্য নির্ধারণেই ইবলিসের সৃষ্টি। আল্লাহ বলেন, ‘ভালো ও মন্দ পৃথক না করা পর্যন্ত আল্লাহ মুমিনদের বর্তমান অবস্থায় ছেড়ে দেবেন না।’ (আলে ইমরান: ১৭৯)।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক