ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অভিনয়ে লাক্স সুপারস্টার বর্ণিতা গলায় ফাঁস দিয়ে অভিনেত্রীর আত্মহত্যা চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বৃক্ষরোপণ যে আশ্বাস শুনলে সব ভয় দূর হয়ে যাবে বৈশ্বিক চিকিৎসাসেবায় বেক্সিমকো ফার্মার নতুন মাইলফলক নাফ নদীতে ২ নৌকাসহ ৭ জেলে আটক করেছে আরাকান আর্মি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু বিশ্বকাপ উন্মাদনায় খবরের কাগজে প্রতিদিন ৪ পৃষ্ঠার বিশেষ আয়োজন কাজের আশায় রাশিয়ায়, প্রাণ গেল ড্রোন হামলায় কিয়েভের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে রাশিয়ার হামলায় নিহত ১১ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র বিমানের ঢাকা-নারিতা রুট পুনরায় চালু ২৭ জুলাই দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র গাজীপুর: সেমিনারে বক্তারা জুলাই হত্যা মামলায় আবুল বারকাতের জামিন নামঞ্জুর প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইথিওপিয়ায় বাস খাদে পড়ে ২৮ জন নিহত মাগুরায় আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু আইফোনের ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ এয়ারপডসে হাংচৌতে চায়না এআই উদ্যোক্তা সম্মেলন শুরু রংপুরের বাজারে আসছে হাড়িভাঙ্গা আম ইসাক-গাইকোরেস রসায়নে মুগ্ধ কোচ পটার মাগুরার জেলা প্রশাসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর দিল্লির ঘটনায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব চীনে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের রক্তদান বাজেট কি শিশুবান্ধব ও শিশুর খাতে দৃশ্যমান? পেকুয়ায় বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪ হল ছাড়লেন জাকসুর জিএস, সময় চাইলেন ভিপি হোটেল হলিডে ইনে ম্যাচডে ফিস্ট বাগেরহাটে জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও বৃক্ষরোপণ জন-আকাঙ্ক্ষার বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বড় চ্যালেঞ্জ
Nagad desktop

ইবলিস শয়তানকে কেন সৃষ্টি করা হয়েছে?

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৫, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ০৮ মে ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম
ইবলিস শয়তানকে কেন সৃষ্টি করা হয়েছে?
আরবিতে ইবলিশ লেখা ছবি। সংগৃহীত

ইবলিস— মানবজাতির চিরন্তন ও প্রকাশ্য শত্রু। ফিতনা-ফাসাদ, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও যাবতীয় অকল্যাণের পেছনে তারই প্রভাব। প্রশ্ন জাগে, এমন এক অনিষ্ট সৃষ্টিকারীর সৃষ্টি কেন? এই রহস্যের পূর্ণ জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই। তবে কোরআন-সুন্নাহ ও মনীষীদের ব্যাখ্যার আলোকে কিছু বিষয় আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়।

 

আল্লাহতায়ালা মানুষ ও জিন জাতিকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তাদের পরীক্ষা করা যায়। আল্লাহ বলেন, ‘আমি জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছি, কে ভালো কাজ করে তা যাচাই করার জন্য’ (সুরা মূলক: ২)। এ পরীক্ষার অংশ হিসেবেই ইবলিসের সৃষ্টি।

 

ইবলিসের অস্তিত্ব আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির পার্থক্য নির্ধারণে সহায়ক। তার বিরোধিতাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে চালিত করে। তাই তার সৃষ্টিতে রয়েছে প্রজ্ঞা। ইবলিস এক সময় ছিল মর্যাদাপূর্ণ, কিন্তু অহংকার ও অবাধ্যতার কারণে সে আল্লাহর অভিশপ্ত হয়েছে। এতে মানব ও জিনজাতির জন্য শিক্ষা— অমান্যতার পরিণাম কত ভয়াবহ হতে পারে।

 

ইবলিস আরেকটি পরীক্ষার মাধ্যমও বটে। যেমন- সেতু বা সড়ক নির্মাণের পর তা পরীক্ষা করা হয়, তেমনি ইবলিসের কুমন্ত্রণা ও দুনিয়ার লোভ-লালসা উপেক্ষা করে যারা উত্তীর্ণ হবে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতের অফুরন্ত শান্তি। আর যারা ব্যর্থ হবে, তাদের স্থান জাহান্নামে।

 

আদম (আ.)-এর মতো কেউ গুনাহ করেও লজ্জিত হয়ে ফিরে আসে, আর কেউ ইবলিসের মতো অহংকারে ডুবে যায়। এ পার্থক্য নির্ধারণেই ইবলিসের সৃষ্টি। আল্লাহ বলেন, ‘ভালো ও মন্দ পৃথক না করা পর্যন্ত আল্লাহ মুমিনদের বর্তমান অবস্থায় ছেড়ে দেবেন না।’ (আলে ইমরান: ১৭৯)।

 

লেখক : আলেম ও সাংবাদিক

যে আশ্বাস শুনলে সব ভয় দূর হয়ে যাবে

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে আশ্বাস শুনলে সব ভয় দূর হয়ে যাবে
ছবি: সংগৃহীত

আকাশচুম্বী পাপের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ানো একজন ক্লান্ত মানুষের জন্য স্রষ্টার সবচেয়ে বড় এবং পরম আশ্বাসের বাণীটি আসলে কী?
মানুষ মাত্রই ভুলের আবর্তে বন্দি। অনুশোচনা আর হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষের বুকে আশার আলো জ্বালাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের শুনিয়েছেন এক অনন্য হাদিসে কুদসি। যেখানে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা মানবজাতিকে পরম মমতায় সম্বোধন করে এক চিরন্তন ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহর ক্ষমার এই মহিমান্বিত রূপটি তিনটি স্তরে বিন্যস্ত:

প্রথমত, আল্লাহ মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন যে, অতীতে সে যত বড় অপরাধই করুক না কেন, যখনই সে মন থেকে আল্লাহকে ডাকবে এবং আন্তরিকভাবে তাঁর দয়া ও ক্ষমার আশা রাখবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। বান্দার অতীতের মন্দ আমল বা তার সামাজিক অবস্থান কেমন ছিল, মহান আল্লাহ তার কোনো পরোয়া করেন না।

দ্বিতীয়ত, মানুষের পাপের পরিমাণ যদি কল্পনাতীতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে মহাকাশের মেঘমালা বা আকাশ পর্যন্তও পৌঁছে যায়, আর সেই চূড়ায় দাঁড়িয়েও যদি বান্দা অহংকার ভেঙে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চায়, তবে পরম দয়ালু আল্লাহ তার সমস্ত পাপ মোচন করে দেন। আল্লাহর অসীম দয়ার সাগরে মানুষের পর্বতসম পাপও এক নিমেষে মিলিয়ে যায়।

তৃতীয়ত, এই ক্ষমার সবচেয়ে বড় শর্ত ও চমকপ্রদ দিকটি হলো, তাওহিদ বা একত্ববাদ। একজন মানুষ যদি পৃথিবীভর্তি পাপের বোঝা নিয়ে আল্লাহর সামনে হাজির হয়, কিন্তু জীবনে কখনো আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক (শিরক) না করে থাকে, তবে আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুত ন্যায়বিচার ও দয়ার খাতিরে ঠিক সমপরিমাণ, অর্থাৎ পৃথিবীভর্তি ক্ষমা নিয়ে বান্দার দিকে এগিয়ে আসেন।

এই হাদিস আমাদের কেবল ক্ষমার আশাই দেখায় না, বরং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক মুক্তি দেয়। এটি আমাদের শেখায় যে, পাপের কারণে কখনো আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ হতে নেই। তবে এই ক্ষমার চাবিকাঠি হলো ‘শিরকমুক্ত জীবন’। অর্থাৎ, সব অপরাধের ক্ষমা মিলতে পারে, যদি অন্তরে আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাস অবিচল থাকে।

লেখক: আলেম ও সা

কিয়ামতের আদালতে সবচেয়ে ভয়ংকর সাক্ষী কে জানেন?

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
কিয়ামতের আদালতে সবচেয়ে ভয়ংকর সাক্ষী কে জানেন?
ছবি: সংগৃহীত

সিসিটিভি ক্যামেরা কিংবা সাইবার নজরদারি এড়াতে আজকের দুনিয়ায় কত কৌশলী পথই না খোঁজে মানুষ! নামি আইনজীবীর চাতুর্য আর আইনের ফাঁক গলে অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার ঘটনাও অহরহ। কিন্তু এমন এক মহাজাগতিক আদালতের মুখোমুখি আমাদের হতেই হবে, যেখানে কোনো জাগতিক প্রভাব, তদবির বা আইনজীবীর সওয়াল-জবাব খাটবে না। যেখানে বিচারক স্বয়ং মহাবিশ্বের একমাত্র অধিপতি।

আজকের সভ্যতায় মানুষ নিজের প্রাইভেসি নিয়ে তুমুল সচেতন। অথচ শেষ বিচারের দিন মুমিন বান্দার গোপনীয়তার এক অনন্য ও অলৌকিক নজির দেখা যাবে। হযরত ইবনু ওমর (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানান, হাশরের মাঠে আল্লাহতায়ালা তাঁর মুমিন বান্দাকে নিজের কাছাকাছি এনে কুদরতি চাদরে ঢেকে নেবেন, যাতে অন্য কেউ তার পাপের কথা জানতে না পারে। একান্তে গুনাহের স্বীকারোক্তি শেষে যখন বান্দা নিজেকে ধ্বংসোন্মুখ ভাববে, তখন পরম করুণাময় বলবেন, দুনিয়াতে আমি তোমার অপরাধ ঢেকে রেখেছিলাম, আজ তা মাফ করে দিলাম। (মিশকাত, ৫৫৫১)। বিপরীতভাবে, অহংকারী ও মোনাফিকদের অপরাধ পুরো সৃষ্টির সামনে উন্মোচন করে দেওয়া হবে।

কোনো সাক্ষী বা প্রমাণ ছাড়া কেবল নিজের বাকপটুতা দিয়ে পার পাওয়ার শেষ চেষ্টা মানুষ করবে হাশরের মাঠেও। হযরত আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, এক বান্দা আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে দাবি করবে, নিজের অঙ্গ বা আপনজন ছাড়া সে বাইরের কারও সাক্ষ্য মানবে না। আল্লাহ তার এই দাবি মেনে নিয়ে তৎক্ষণাৎ তার মুখের ওপর মোহর বা সিল মেরে দেবেন। বাকশক্তি হারিয়ে ফেলা সেই মানুষের হাত, পা, চোখ আর ত্বক তখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার সমস্ত গোপন অপরাধের সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করবে। মুখের মোহর খোলার পর নিজের দেহের এই চরম বিশ্বাসঘাতকতায় স্তম্ভিত হয়ে মানুষটি আক্ষেপ করে বলবে, তোদের ধ্বংস হোক! তোদের বাঁচানোর জন্যই তো আমি এতক্ষণ বিতর্ক করছিলাম! (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৫৫৪)।

এই কঠিন আদালতের মুখোমুখি হওয়ার আগে যাপিত জীবনকে পাপাচারমুক্ত রাখার এক চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক দাওয়াই দিয়ে গেছেন সাহাবি জারির ইবনু আব্দুল্লাহ (রা.)। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে তিনটি বিষয়ে বিশেষ শপথ নিয়েছিলেন, নামাজ আদায় করা, জাকাত দেওয়া এবং সমাজের প্রতিটি মানুষের কল্যাণ কামনা করা (বুখারি, ৫৭; মুসলিম ৫৬)।

অন্যের পেছনে লাগা, ক্ষতি করা এবং গোপন ত্রুটি খুঁজে বেড়ানোর এই যুগে পরকালের মুক্তি লুকিয়ে আছে অন্যের দোষ আড়াল করার মধ্যে। আজ আমরা আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে যেভাবে ব্যবহার করছি, শেষ বিচারের দিন ঠিক সেভাবেই তারা আমাদের পক্ষে বা বিপক্ষে জবানবন্দি দেবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে চুলের সিঁথি কাটতেন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে চুলের সিঁথি কাটতেন
তিনি কখনো চুল অবিন্যস্ত রাখতেন না। ছবি: সংগৃহীত

ফ্যাশন বা স্টাইল নয়, আল্লাহর রাসুলের (সা.) চুল আঁচড়ানো ও সিঁথি কাটার পেছনেও ছিল এক চমৎকার আদর্শিক ও মনস্তাত্ত্বিক পটভূমি। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক তাঁর চুলের সুন্নাহর এক অনন্য অধ্যায়। বিশ্বনবির কেশবিন্যাসের সেই অজানা ইতিহাস জানলে আপনি মুগ্ধ হবেন।

ইসলাম শুধু মানুষের ভেতরটা পরিবর্তনের কথা বলে না, বরং বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যেরও নিখুঁত পাঠ দেয়। প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র অবয়ব, পোশাক এবং কেশবিন্যাসের প্রতিটি দিক ছিল অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। তাঁর চুল রাখার এবং সিঁথি কাটার অভ্যাসটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এক সুন্দর ঐতিহাসিক বিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

ইসলামের প্রথম যুগে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর পবিত্র মাথার চুল সামনের দিকে কপালে ও ঘাড়ের দিকে সোজা ঝুলিয়ে রাখতেন, কোনো সিঁথি করতেন না। সে সময় মক্কার মুশরিকরা মাথায় সিঁথি করত, আর ইহুদি ও খ্রীষ্টানরা (আহলে কিতাব) চুল ঝুলিয়ে রাখত। যেহেতু মুশরিকদের চেয়ে তাওহিদে বিশ্বাসী আহলে কিতাবদের প্রতি নবিজির (সা.) এক ধরনের পছন্দ ছিল, তাই যে বিষয়ে সরাসরি কোনো ওহি বা ঐশী নির্দেশনা আসত না, সে বিষয়ে তিনি আহলে কিতাবদের অনুকরণ করা পছন্দ করতেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর কেশ নিম্নদেশে ঝুলিয়ে রাখতেন (অর্থাৎ প্রথম দিকে তিনি সিঁথি করতেন না)। আর মুশরিকরা তাদের মাথায় সিঁথি করত। পক্ষান্তরে আহলে কিতাব তাদের মাথার চুল ঝুলিয়ে রাখত। প্রথম দিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে ব্যাপারে প্রত্যাদেশ না পেতেন, সেসব ব্যাপারে আহলে কিতাবদের অনুসরণ পছন্দ করতেন। এর পর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর কেশকে সিঁথি করতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৫৫৮; সুনানে নাসাঈ, হাদিস নম্বর: ৫২৩৮; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৬০৫)

নবিজির (সা.) এই অভ্যাসে পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন আসে। আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশনা বা ইঙ্গিত পাওয়ার পর তিনি চুল ঝুলিয়ে রাখা ছেড়ে দেন এবং মাথার মাঝখান থেকে সুন্দর করে সিঁথি করা শুরু করেন। জীবনের শেষভাগ পর্যন্ত তিনি এই নিয়মই বজায় রেখেছিলেন। সাধারণত আমরা মনে করি বেণি করা কেবল নারীদের সৌন্দর্য। কিন্তু আরব সংস্কৃতি এবং সফরের সুবিধার্থে পুরুষদের দীর্ঘ চুল থাকলে তা গুছিয়ে রাখার চমৎকার এক পদ্ধতি ছিল এটি। মক্কা বিজয়ের সময় যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তাঁর চুল মোবারক চার ভাগে চমৎকারভাবে বিন্যস্ত ছিল।

উম্মে হানি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আমি চুলের চারটি বেণী বাঁধা অবস্থায় দেখেছি।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২৭৪৩০; আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী, ২০৪৮৩)। নবিজির (সা.) অবয়ব সিরিজের এই অংশটি আমাদের শেখায় যে, চুলের যত্ন নেওয়া এবং তা পরিপাটি রাখা সুন্নাহ। তিনি যেমন কখনো চুল অবিন্যস্ত রাখতেন না, তেমনি প্রতিটি আচরণের পেছনে উম্মাহর জন্য রেখে গেছেন সুনির্দিষ্ট আদর্শ।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৫ জুন ২০২৬, সোমবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৬ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে ডাকের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর ভালোবাসা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে ডাকের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর ভালোবাসা
ছবি: সংগৃহীত

আমরা প্রতিনিয়ত পাপ করি, আবার নিজেই নিজের ভাগ্যের ওপর দোষ চাপাই। কিন্তু আপনি কি জানেন, মহান আল্লাহ আমাদের ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে নিজের ভুলগুলো অনুধাবন করার তাগিদ দিয়েছেন?

ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু বাণী আছে যা সরাসরি আল্লাহর কথা, কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জবানীতে আমাদের কাছে পৌঁছেছে; পরিভাষায় একে বলা হয় ‘হাদিসে কুদসি’। হযরত আবুজর গিফারি (রা.) বর্ণিত সহিহ মুসলিমের একটি দীর্ঘ ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হাদিসে মহান আল্লাহ মানবজাতিকে এক অদ্ভুত সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।

এই বাণীর শুরুতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, তিনি নিজের ওপর জুলুম বা অন্যায়কে হারাম করেছেন এবং মানুষের সমাজেও একে নিষিদ্ধ করেছেন। এর পর মানুষের চরম অসহায়ত্ব ও আল্লাহর অসীম ক্ষমতার এক চমৎকার বৈপরীত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আল্লাহ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষের হিদায়াত, খাদ্য ও বস্ত্রের কোনো স্বাধীন ক্ষমতা নেই; সবই আল্লাহর দান। মানুষ দিন-রাত পাপ করলেও আল্লাহর দরবার ক্ষমা করার জন্য সর্বদা উন্মুক্ত।

তবে এই হাদিসের সবচেয়ে চোখ খোলার মতো অংশটি হলো আল্লাহর ‘অমুখাপেক্ষী’ হওয়ার ধারণা। সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত মানুষ ও জিন যদি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পুণ্যবান বা সবচেয়ে বড় পাপী হয়ে যায়, তাতে আল্লাহর রাজত্বের এক চুলও লাভ বা ক্ষতি হবে না। সৃষ্টির সব চাওয়া একসঙ্গে পূরণ করলেও আল্লাহর ভাণ্ডারে কোনো কমতি পড়ে না।

আসলে আল্লাহ মানুষের এই পুরো জীবনটাকে একটি পরীক্ষার খাতা হিসেবে দেখছেন। তিনি আমাদের সমস্ত আমল বা কর্ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংরক্ষণ করছেন। দিনশেষে মানুষ যে ভালো বা মন্দ ফলাফল পাবে, তা তার নিজের কর্মেরই ফল। তাই প্রাপ্তিতে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আর ব্যর্থতায় নিজেকেই সংশোধন করার বার্তা দিয়ে শেষ হয় এই ঐশী সংলাপ।

প্রচলিত ধারণা হলো, আমাদের ইবাদত বোধহয় আল্লাহর রাজত্বকে বড় করে। কিন্তু এই হাদিস আমাদের সম্পূর্ণ নতুন এক দর্শন শেখায়–আল্লাহর আমাদের প্রয়োজন নেই, আমাদেরই আল্লাহকে প্রয়োজন। আমরা সফল হলে তা আল্লাহর দয়া, আর ব্যর্থ হলে তা আমাদের নিজেদের কর্মের ত্রুটি।

লেখক: আলেম ও সাংকবাদিক