ইবলিসের অভিশপ্ত হওয়ার পেছনে মূল কারণ, আল্লাহর আদেশ অমান্য করা এবং অহংকার করা। আল্লাহতায়ালা আদম (আ.)কে সিজদা করার জন্য ফেরেশতা ও ইবলিসকে আদেশ করেন। সবাই সিজদা করলেও ইবলিস তা প্রত্যাখ্যান করে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘সবাই সিজদা করল, কিন্তু ইবলিস অস্বীকার করল, অহংকার করল এবং সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো।’ (সুরা বাকারা, ৩৪)
আল্লাহ ইবলিসকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি যখন আদেশ করলাম, তখন তুমি সিজদা করতে কেন অস্বীকার করলে?’ জবাবে ইবলিস বলল, ‘আমি আদমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে মাটি থেকে।’ (সুরা আরাফ, ১২)
এখানেই ইবলিসের গোমরাহি, সে নিজের অহংকারকে সত্যের ওপর প্রাধান্য দিল এবং আল্লাহর হুকুম মানতে অস্বীকার করল। পক্ষান্তরে, আদম (আ.)ও আল্লাহর আদেশ অমান্য করেছিলেন গাছের ফল খেয়ে। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারে ভিন্ন।
আল্লাহতায়ালা তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি কি তোমাদের গাছটি থেকে নিষেধ করিনি?’ (সুরা আরাফ, ২২) তখন আদম ও হাওয়া বিনয়ভরে বললেন, ‘হে আমাদের রব, আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি ক্ষমা না করেন, তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।’ (সুরা আরাফ: ২৩)
ইমাম কুরতুবি বলেন, ইবলিসের অপরাধ ছিল অহংকার ও হিংসা, যা ইচ্ছাকৃত এবং জেনেশুনে করা। পক্ষান্তরে, আদম (আ.) ভুল করেছিলেন, কিন্তু বিনীতভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন।
এ শিক্ষাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: গুনাহ হতেই পারে, কিন্তু সেটার পরিভাষা নির্ধারিত হয় আমাদের প্রতিক্রিয়ায় অহংকার নাকি অনুতাপ?
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক