ইবলিস যখন আদম (আ.)-কে সিজদা করতে অস্বীকার করল, তখন আল্লাহ তাকে জান্নাত থেকে বিতাড়িত করেন। কোরআনে বলা হয়েছে ‘বের হয়ে যা এখান থেকে, নিশ্চয় তুই বিতাড়িত। কিয়ামত পর্যন্ত তোর ওপর থাকবে আমার অভিশাপ।’(সুরা সাদ: ৭৭-৭৮)
প্রশ্ন জাগে— ইবলিসকে যেহেতু জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, তা হলে সে কীভাবে আদম ও হাওয়াকে কুমন্ত্রণা দিল? কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘শয়তান তাদের অন্তরে কুমন্ত্রণা দিল, যাতে তাদের লজ্জাস্থান প্রকাশ হয়ে যায়। সে বলল, তোমরা যদি এই গাছের ফল না খাও, তবে তোমরা ফেরেশতা বা চিরকাল বেঁচে থাকার সুযোগ হারাবে।’(সুরা আরাফ: ২০)
ইবলিস মিথ্যা আশ্বাস দিল এবং আল্লাহর নামে শপথ করে বলল, ‘আমি তোমাদের জন্য একান্ত শুভাকাঙ্ক্ষী।’ (সুরা আরাফ: ২১) এই মিথ্যা আশ্বাস ও শপথে আদম ও হাওয়ার মনে ইবলিসের কথার প্রতি বিশ্বাস জন্মায়। তারা নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার পর তাদের লজ্জাস্থান প্রকাশ পায় এবং তারা নিজেদের গাছের পাতা দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করেন।
আল্লাহতায়ালা তাদের জিজ্ঞেস করেন, ‘আমি কি তোমাদের নিষেধ করিনি? আর বলিনি শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?’
আদম (আ.) বলেন, ‘হে আল্লাহ! আমি লজ্জিত।’ তিনি ভুল স্বীকার করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা বলল, হে আমাদের রব! আমরা অন্যায় করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।’ (সুরা আরাফ: ২৩)
আল্লাহতায়ালা তাদের তওবা কবুল করেন। ইবলিসের মূল উদ্দেশ্য ছিল, আদম ও হাওয়ার অন্তর থেকে লজ্জা সরিয়ে দেওয়া। কারণ লজ্জাহীনতা থেকেই শুরু হয় অবাধ্যতার পথ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যার লজ্জা নেই, সে যা ইচ্ছে তাই করে।’ (সুনান ইবনু মাজাহ) মুমিনের ভূষণ লজ্জা— আর সেটাই ছিল ইবলিসের প্রথম আঘাত।
সুতরাং, ইবলিসের প্ররোচনার মূল কৌশল ছিল মিথ্যা আশ্বাস ও আল্লাহর নামে শপথের মাধ্যমে আদম ও হাওয়ার মনে সন্দেহ ও আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করা এবং তাদের লজ্জা বোধকে দুর্বল করে দেওয়া। এই ঘটনা মানব ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা আমাদের সর্বদা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সতর্ক থাকতে অনুপ্রাণিত করে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক