শুক্রবার একটি মহিমান্বিত দিন। এ দিনটি সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবেও বিবেচিত। মুমিনগণ এ দিনে জমায়েত হয়ে থাকেন মসজিদে। যা হৃদয়ে সঞ্চার করে সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের সুবাতাস। সেই সঙ্গে নিয়ে আসে আল্লাহর নৈকট্যলাভের এক অপূর্ব সুযোগ। এ জন্য মুমিনের উচিত এ দিনকে কাজে লাগানো। মুমিন বিশেষ কিছু আমলের মাধ্যমে এ দিনটি কাজে লাগাতে পারে।
১. গোসল করা: জুমার দিন গোসল করা একটি আমল। ইসলামি শরিয়তে এটি সুন্নত হিসেবে বিবেচিত। তা ছাড়া এ আমলটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে পাওয়া যায়, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করার পর তাড়াতাড়ি মসজিদে গমন করে, অতঃপর ইমামের কাছাকাছি বসে ও একাগ্রচিত্তে খুতবা শ্রবণ করে—তার প্রতি কদমের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব লেখা হয়।’ (আবু দাউদ, ৩৪৫)
২. সুরা কাহফ তেলাওয়াত: সুরা কাহফের বিশেষত্ব অনেক। বিশেষত শুক্রবার- এটি পাঠ করলে মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব অনেক গুণ বেড়ে যায়। নবিজি (স.) বলেন–‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরায়ে কাহফ পাঠ করবে, আল্লাহতায়ালা তার কদম থেকে নিয়ে ঊর্ধ্বাকাশ পর্যন্ত একটি নুর প্রদান করবেন। কিয়ামতের দিন তাকে আলোকময় করবেন। দুই জুমার মধ্যবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব : ১/২৯৮)
৩. দ্রুত মসজিদে গমন: জুমার দিন দ্রুত মসজিদে যাওয়া একটি প্রশংসনীয় আমল। যা মুমিনকে বানায় অফুরন্ত সওয়াবের ভাগীদার। নবিজি (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, অতঃপর প্রথমে মসজিদে গেল—সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে এর পর মসজিদে গেল, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। আর যে এর পর ঢুকল, সে যেন ছাগল কোরবানি করল। এর পর যে ঢুকল সে যেন মুরগি কোরবানি করল, আর যে এর পর ঢুকল সে ডিম সদকা করল। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য এলে ফেরেশতারা আলোচনা শোনা শুরু করে।’ (বুখারি, ৮৪১)
৪. জুমার নামাজ আদায়: জুমার দিনের অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ আমল হলো—জুমার নামাজ আদায় করা। মূলত এ জুমা জোহরের ফরজ নামাজের পরিবর্তিত রূপ। এ জন্য জোহরের ন্যায় এটি একটি ফরজ বিধান। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহতায়ালা ও পরকালের প্রতি ঈমান আনবে, তার ওপর আবশ্যক হলো জুমার নামাজ আদায় করা; তবে মহিলা, মুসাফির, গোলাম ও অসুস্থ ব্যক্তি ব্যতীত।’ (দারাকুতনি, ৩/২)
৫. দোয়া করা: জুমার দিন দোয়া কবুলের মোক্ষম সময়। এ দিনে মুমিন ব্যক্তির দোয়া বিফলে যাওয়ার নয়। হয়তো তার কামনা পূরণ করা হয় বা অন্য কোনো কল্যাণের ফয়সালা করা হয়। নবিজি (স.) বলেন, ‘জুমার দিনে ১২টি সময় রয়েছে, এ সময়ে কেউ আল্লাহতায়ালার কাছে কোনো কিছু কামনা করলে আল্লাহতায়ালা তাকে সেটি দান করেন। সুতরাং আসরের পর তোমরা সে সময়টি তালাশ করো।’ ( আবু দাউদ, ১০৪৮)
৬. দুরুদ পাঠ করা: শুক্রবার দিনের অন্যতম একটি আমল হলো দুরুদ পাঠ। হাদিসে আমলটিকে মহান ফজিলতের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন আসর নামাজের পর সেখানে বসেই নিম্নোল্লিখিত দুরুদ শরিফ ৮০ বার পাঠ করবে, তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে এবং ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব আমলনামায় লেখা হবে।’ (আফদালুস-সালাওয়াত, ২৬)।
দুরুদ শরিফের বাংলা উচ্চারণ : ‘আল্লাহুমা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লিম তাসলিমা।’
লেখক: শিক্ষার্থী, শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা