মুসলিম জাতিকে শ্রেষ্ঠ বলার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। কেননা যেকোনো অন্যায়ের সামনে নীরব ভূমিকা পালন করাকে ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না, বরং নিজ সাধ্য ও সামর্থ্যের আলোকে অন্যায়-অপরাধের প্রতিবাদ করা এবং তা নির্মূলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাও ইসলাম ও ঈমানের দাবি। যেমন কোরআনুল কারিমের মধ্যে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, তোমরা শ্রেষ্ঠ জাতি, মানুষের কল্যাণেই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অন্যায় কাজে বাধা প্রদান করবে। (সুরা আল ইমরান, ১১০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো অন্যায় হতে দেখলে যেন হাত দিয়ে তা প্রতিহত করে। যদি তা না পারে, তবে কথা দিয়ে; তাও না পারলে অন্তর দিয়ে (ঘৃণা করবে)। এটি ঈমানের দুর্বলতম স্তর। (মুসলিম, ৭৪) অন্যত্র তোমরা অবশ্যই ভালো কাজে মানুষকে আদেশ দেবে এবং অবশ্যই অন্যায় থেকে নিষেধ করবে। যদি তা না করো তা হলে আল্লাহ তোমাদের ওপর তার পক্ষ থেকে শাস্তি প্রেরণ করবেন। এর পর তোমরা তার নিকট প্রার্থনা করলেও তিনি কবুল করবেন না। (তিরমিজি, ৪০৬)।
অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং যারা সীমা লঙ্ঘন করে, তাদের দৃষ্টান্ত সেই যাত্রীদলের মতো, যারা লটারির মাধ্যমে দ্বিতলবিশিষ্ট এক জাহাজে নিজেদের স্থান নির্ধারণ করে নিল। তাদের কেউ স্থান পেল ওপর তলায় আর কেউ নিচতলায়। আর পানির ব্যবস্থা ছিল ওপর তলায়। কাজেই নিচের তলার লোকেরা পানি সংগ্রহকালে ওপর তলার লোকদের ডিঙিয়ে যেত। তখন নিচ তলার লোকেরা বলল, ওপর তলার লোকদের কষ্ট না দিয়ে আমরা যদি নিজেদের অংশে একটি ছিদ্র করে নিই, তবে ভালো হয়। এমতাবস্থায় ওপর তলার লোকেরা যদি তাদের আপন মর্জির ওপর ছেড়ে দেয় তা হলে সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তারা এদের হাত ধরে রাখে (বিরত রাখে) তবে তারা এবং সবাই রক্ষা পাবে। (বুখারি, ২৪৯৩)
অতঃপর অন্যায় ও অত্যাচার দেখলে জাতির ওপর সেই অন্যায় ও অত্যাচারের প্রতিবাদ করা ইসলাম ও ঈমানের দাবি। আর এই দাবি ও দায়িত্ব পালন না করলে অবশ্যই অপদস্থতা ও জুলুমে নিজেদের ধ্বংস অনিবার্য। তাই সব সময় সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা প্রদানের মতো আমল করতে হবে।
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক