ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শাহবাগে যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে প্রতিমন্ত্রীর ঝটিকা অভিযান যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ঐতিহাসিক ‘শান্তিচুক্তি’ চূড়ান্ত, স্বাক্ষর ১৯ জুন আব্দুল্লাহ হিল রাকিব স্মরণে বিইউএফটি’তে স্মরণসভা বড় বিল্ডিং নয়, এবার জোর ‘হেলথ কার্ডে’: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে চুলের সিঁথি কাটতেন চবিতে সংসদে বক্তব্য নিয়ে মুখোমুখি ছাত্রদল-ছাত্রশিবির বন্ধুদের সাথে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, পরে মিলল মাদরাসাছাত্রের মরদেহ মাধবদীতে অবৈধ বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিনাজপুরে চুরির প্রস্তুতির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা বাজেট বাস্তবায়নের ত্রিমুখী পথনকশা: অর্থ পাচার রোধ, দুর্নীতি দমন ও জনসচেতনতা বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যনিলামে বিক্রির উদ্যোগ স্বপ্নের রাজপুত্র ইয়ামাল শান্তি সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নে অবদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বীকৃতি পেল আইপিডিসি সজীবতার গান গেয়ে এল বর্ষা বন্ধ চিনিকল চালুর উদ্যােগ ১৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সোনারগাঁওয়ে মামলার পর আতঙ্কে ঘরছাড়া ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ১৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বগুড়ায় মলম ট্যাবলেটে সীমাবদ্ধ সেবা বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার চীনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ওয়েবসাইট চালু তাইওয়ানের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আতঙ্কে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামিরা বাজেট প্রস্তাবের পর শেয়ারবাজারে উত্থান চমৎকার জয়ফুল মথ টাকা সাদা করার সুবিধা আছে, না নেই! সেনাসংকটে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাতে চাপে পুতিন নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমোদন দেয়নি ভারত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব নিয়োগ হয়নি তিন মাসেও
Nagad desktop

পরীক্ষায় সন্তানের সফলতা, মান্নত পালনের নিয়ম কী?

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৫, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৫, ০৯:২৮ এএম
পরীক্ষায় সন্তানের সফলতা, মান্নত পালনের নিয়ম কী?
পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের উচ্ছ্বাসের দৃশ্য। সংগৃহীত

প্রশ্ন: কিছুদিন আগে আমার ছেলের এসএসসি পরীক্ষা ছিল। তার ভালো ফলাফলের জন্য আমি মান্নত করেছিলাম যে, সে জিপিএ-৫ পেলে আমি একটি মান্নত আদায় করব। আলহামদুলিল্লাহ, সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এখন আমি সেই মান্নত কীভাবে আদায় করব? আর মান্নত করার সময় কী দিয়ে মান্নত আদায় করব তা স্থির করিনি।

উত্তর: আপনার ছেলের এমন ভালো ফলাফলের জন্য প্রথমেই আপনাকে অভিনন্দন। আল্লাহতায়ালা তার এই সাফল্যকে আরও বরকতময় করুন। আপনি যে মান্নত করেছেন, তা একটি শর্তযুক্ত মান্নত। কিন্তু আপনি মান্নত আদায়ের কোনো নির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ করেননি, অর্থাৎ মান্নতের রূপটি অনির্ধারিত ছিল। এ ধরনের ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়াহর বিধান হলো, আপনাকে কসমের কাফফারা আদায় করতে হবে।

হাদিস শরিফে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। হযরত উকবা বিন আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি কারিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মান্নত করল এবং কিছু নির্দিষ্ট করল না, তাকে কসমের কাফফারা দিতে হবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, ১২৩১১; সুনানে ইবনে মাজাহ, ২১২৭)

অতএব, আপনার মান্নত পূরণের জন্য আপনাকে কসমের কাফফারা দিতে হবে। এর তিনটি বিকল্প রয়েছে:

১. দশজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো: আপনি দশজন গরিব ও অভাবী মানুষকে দুইবেলা পেটভরে খাবার খাওয়াবেন।
২. মিসকিনদের মূল্য দেওয়া: খাবারের পরিবর্তে প্রত্যেক মিসকিনকে তার মূল্য দিয়ে দিতে পারেন।
৩. দশজন মিসকিনকে কাপড় দেওয়া: আপনি চাইলে দশজন মিসকিনকে এক জোড়া করে কাপড় দিতে পারেন।

যদি আপনার ওপরের তিনটি বিকল্পের কোনোটিই করার সামর্থ্য না থাকে, তা হলে আপনি ধারাবাহিকভাবে তিনটি রোজা রাখবেন।

তথ্যসূত্র: বাদায়েউস সানায়ে (৪/২৪৫), আলবাহরুর রায়েক (৪/২৯৭) এবং আদ্দুররুল মুখতার (৩/৭৪২)

 

শামায়েল রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে চুলের সিঁথি কাটতেন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে চুলের সিঁথি কাটতেন
তিনি কখনো চুল অবিন্যস্ত রাখতেন না। ছবি: সংগৃহীত

ফ্যাশন বা স্টাইল নয়, আল্লাহর রাসুলের (সা.) চুল আঁচড়ানো ও সিঁথি কাটার পেছনেও ছিল এক চমৎকার আদর্শিক ও মনস্তাত্ত্বিক পটভূমি। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক তাঁর চুলের সুন্নাহর এক অনন্য অধ্যায়। বিশ্বনবির কেশবিন্যাসের সেই অজানা ইতিহাস জানলে আপনি মুগ্ধ হবেন।

ইসলাম শুধু মানুষের ভেতরটা পরিবর্তনের কথা বলে না, বরং বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যেরও নিখুঁত পাঠ দেয়। প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র অবয়ব, পোশাক এবং কেশবিন্যাসের প্রতিটি দিক ছিল অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। তাঁর চুল রাখার এবং সিঁথি কাটার অভ্যাসটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এক সুন্দর ঐতিহাসিক বিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

ইসলামের প্রথম যুগে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর পবিত্র মাথার চুল সামনের দিকে কপালে ও ঘাড়ের দিকে সোজা ঝুলিয়ে রাখতেন, কোনো সিঁথি করতেন না। সে সময় মক্কার মুশরিকরা মাথায় সিঁথি করত, আর ইহুদি ও খ্রীষ্টানরা (আহলে কিতাব) চুল ঝুলিয়ে রাখত। যেহেতু মুশরিকদের চেয়ে তাওহিদে বিশ্বাসী আহলে কিতাবদের প্রতি নবিজির (সা.) এক ধরনের পছন্দ ছিল, তাই যে বিষয়ে সরাসরি কোনো ওহি বা ঐশী নির্দেশনা আসত না, সে বিষয়ে তিনি আহলে কিতাবদের অনুকরণ করা পছন্দ করতেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর কেশ নিম্নদেশে ঝুলিয়ে রাখতেন (অর্থাৎ প্রথম দিকে তিনি সিঁথি করতেন না)। আর মুশরিকরা তাদের মাথায় সিঁথি করত। পক্ষান্তরে আহলে কিতাব তাদের মাথার চুল ঝুলিয়ে রাখত। প্রথম দিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে ব্যাপারে প্রত্যাদেশ না পেতেন, সেসব ব্যাপারে আহলে কিতাবদের অনুসরণ পছন্দ করতেন। এর পর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর কেশকে সিঁথি করতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৫৫৮; সুনানে নাসাঈ, হাদিস নম্বর: ৫২৩৮; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৬০৫)

নবিজির (সা.) এই অভ্যাসে পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন আসে। আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশনা বা ইঙ্গিত পাওয়ার পর তিনি চুল ঝুলিয়ে রাখা ছেড়ে দেন এবং মাথার মাঝখান থেকে সুন্দর করে সিঁথি করা শুরু করেন। জীবনের শেষভাগ পর্যন্ত তিনি এই নিয়মই বজায় রেখেছিলেন। সাধারণত আমরা মনে করি বেণি করা কেবল নারীদের সৌন্দর্য। কিন্তু আরব সংস্কৃতি এবং সফরের সুবিধার্থে পুরুষদের দীর্ঘ চুল থাকলে তা গুছিয়ে রাখার চমৎকার এক পদ্ধতি ছিল এটি। মক্কা বিজয়ের সময় যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তাঁর চুল মোবারক চার ভাগে চমৎকারভাবে বিন্যস্ত ছিল।

উম্মে হানি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আমি চুলের চারটি বেণী বাঁধা অবস্থায় দেখেছি।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২৭৪৩০; আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী, ২০৪৮৩)। নবিজির (সা.) অবয়ব সিরিজের এই অংশটি আমাদের শেখায় যে, চুলের যত্ন নেওয়া এবং তা পরিপাটি রাখা সুন্নাহ। তিনি যেমন কখনো চুল অবিন্যস্ত রাখতেন না, তেমনি প্রতিটি আচরণের পেছনে উম্মাহর জন্য রেখে গেছেন সুনির্দিষ্ট আদর্শ।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৫ জুন ২০২৬, সোমবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৬ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে ডাকের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর ভালোবাসা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে ডাকের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর ভালোবাসা
ছবি: সংগৃহীত

আমরা প্রতিনিয়ত পাপ করি, আবার নিজেই নিজের ভাগ্যের ওপর দোষ চাপাই। কিন্তু আপনি কি জানেন, মহান আল্লাহ আমাদের ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে নিজের ভুলগুলো অনুধাবন করার তাগিদ দিয়েছেন?

ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু বাণী আছে যা সরাসরি আল্লাহর কথা, কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জবানীতে আমাদের কাছে পৌঁছেছে; পরিভাষায় একে বলা হয় ‘হাদিসে কুদসি’। হযরত আবুজর গিফারি (রা.) বর্ণিত সহিহ মুসলিমের একটি দীর্ঘ ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হাদিসে মহান আল্লাহ মানবজাতিকে এক অদ্ভুত সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।

এই বাণীর শুরুতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, তিনি নিজের ওপর জুলুম বা অন্যায়কে হারাম করেছেন এবং মানুষের সমাজেও একে নিষিদ্ধ করেছেন। এর পর মানুষের চরম অসহায়ত্ব ও আল্লাহর অসীম ক্ষমতার এক চমৎকার বৈপরীত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আল্লাহ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষের হিদায়াত, খাদ্য ও বস্ত্রের কোনো স্বাধীন ক্ষমতা নেই; সবই আল্লাহর দান। মানুষ দিন-রাত পাপ করলেও আল্লাহর দরবার ক্ষমা করার জন্য সর্বদা উন্মুক্ত।

তবে এই হাদিসের সবচেয়ে চোখ খোলার মতো অংশটি হলো আল্লাহর ‘অমুখাপেক্ষী’ হওয়ার ধারণা। সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত মানুষ ও জিন যদি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পুণ্যবান বা সবচেয়ে বড় পাপী হয়ে যায়, তাতে আল্লাহর রাজত্বের এক চুলও লাভ বা ক্ষতি হবে না। সৃষ্টির সব চাওয়া একসঙ্গে পূরণ করলেও আল্লাহর ভাণ্ডারে কোনো কমতি পড়ে না।

আসলে আল্লাহ মানুষের এই পুরো জীবনটাকে একটি পরীক্ষার খাতা হিসেবে দেখছেন। তিনি আমাদের সমস্ত আমল বা কর্ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংরক্ষণ করছেন। দিনশেষে মানুষ যে ভালো বা মন্দ ফলাফল পাবে, তা তার নিজের কর্মেরই ফল। তাই প্রাপ্তিতে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আর ব্যর্থতায় নিজেকেই সংশোধন করার বার্তা দিয়ে শেষ হয় এই ঐশী সংলাপ।

প্রচলিত ধারণা হলো, আমাদের ইবাদত বোধহয় আল্লাহর রাজত্বকে বড় করে। কিন্তু এই হাদিস আমাদের সম্পূর্ণ নতুন এক দর্শন শেখায়–আল্লাহর আমাদের প্রয়োজন নেই, আমাদেরই আল্লাহকে প্রয়োজন। আমরা সফল হলে তা আল্লাহর দয়া, আর ব্যর্থ হলে তা আমাদের নিজেদের কর্মের ত্রুটি।

লেখক: আলেম ও সাংকবাদিক 

আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

কোনো মানুষের দুনিয়ায় জনপ্রিয় হওয়া বা মানুষের হৃদয়ে স্থান পাওয়া কি কেবলই তার বাহ্যিক যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো আসমানী রহস্য? সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং বন্ধুত্বের ধরন কীভাবে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার মাধ্যম হতে পারে–তা নিয়ে ইসলাম এক অভিনব দর্শন দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রামাণ্য হাদিসগুলো বিশ্লেষণ করলে সামাজিক বন্ধন ও আত্মিক শুদ্ধির এক অনন্য রূপরেখা আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়।

দুনিয়ার বুকে মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার এক গোপন সূত্র রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি চমৎকার হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাঈল (আ.)-কে ডেকে বলেন যে, তিনি অমুককে ভালোবাসেন। ফলে জিবরাঈল (আ.) এবং আকাশের সমস্ত ফেরেশতা তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। এর পর: সে ব্যক্তির জন্য জমিনেও জনপ্রিয়তা দান করা হয় (মুসলিম, মিশকাত হা/৫০০৫)।বিপরীতে, আল্লাহ কোনো বান্দাকে ঘৃণা করলে আসমানী ফেরেশতাদের মাধ্যমে জমিনের মানুষের হৃদয়েও তার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয়।

মানুষের জীবনে বন্ধু বা সঙ্গীর প্রভাব কতটা গভীর, তা বোঝাতে রাসুল (সা.) এক অনন্য উদাহরণ দিয়েছেন। আবু মুসা আশয়ারী (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, ভালো ও মন্দ বন্ধুর দৃষ্টান্ত হলো যথাক্রমে আতর বিক্রেতা ও কামারের হাঁপড়ের মতো। আতর বিক্রেতার কাছ থেকে কিছু না কিনলেও সুঘ্রাণ পাওয়া যায়, আর কামারের কাছে গেলে জামা-কাপড় না পুড়লেও তার ধোঁয়ার দুর্গন্ধ সহ্য করতেই হয় (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত হা/৫০১০)।

নিছক পার্থিব স্বার্থের বাইরে গিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গড়ে ওঠা সম্পর্কের মূল্য অপরিসীম। মুয়ায ইবনু জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা বলেন, যারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালোবাসে, সমাবেশে মিলিত হয়, সাক্ষাৎ করে এবং সম্পদ ব্যয় করে, তাদের জন্য আল্লাহর ভালোবাসা অবধারিত (মালেক, মিশকাত হা/৫০১১)। আর এই ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখতে মিকদাদ ইবনু মা‘দীকারাব (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) এক মনস্তাত্ত্বিক ফর্মুলা দিয়েছেন–কেউ তার কোনো ভাইকে ভালোবাসলে সে যেন তাকে তা জানিয়ে দেয় (আবু দাঊদ, হা/৫০১৬)।

সামাজিক এই সুসম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি রূপ নেয় পরকালের শান্তিতে। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) এমন একদল মানুষের সুসংবাদ দিয়েছেন যাদের জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম। তারা হলেন এমন ব্যক্তিবর্গ–যাদের মেজাজ নরম, স্বভাব কোমল, মানুষের সঙ্গে মিশুক এবং আচরণ অত্যন্ত সরল সহজ (তিরমিজি, হা/৫০৮৪)। আসমানী ভালোবাসা অর্জন, সৎসঙ্গের সান্নিধ্য এবং মানুষের সঙ্গে কোমল আচরণের মাধ্যমেই একটি আদর্শ সমাজ গঠন সম্ভব, যা মানুষকে পরকালের কঠিন আগুন থেকে রক্ষা করবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

শামায়েল কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.)

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.)
ছবি: সংগৃহীত

সত্যের সন্ধানে পারস্য থেকে মদিনায় আসা এক ক্রীতদাস। কোন তিনটি অলৌকিক চিহ্ন দেখে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে ইনিই শেষ নবি? হজরত সালমান ফারসি (রা.) ছিলেন একজন সত্যসন্ধানী সাহাবি। পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের জ্ঞান থেকে তিনি জানতেন, শেষ নবির তিনটি স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকবে–তিনি সদকা (দান) খাবেন না, হাদিয়া (উপহার) গ্রহণ করবেন এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝে ‘মোহরে নবুওয়াত’ বা নবি হওয়ার বিশেষ সিলমোহর থাকবে।

মদিনায় হিজরতের পর সালমান (রা.) কাঁচা খেজুরের একটি পাত্র নিয়ে নবিজি (সা.)-এর সামনে এসে বললেন, ‘এগুলো সদকা।’ রাসুল (সা.) সাহাবিদের বললেন, ‘তোমরা খাও, আমরা সদকা খাই না।’ সালমান (রা.) মনে মনে বললেন, ‘এটি প্রথম নিদর্শন।’ পরের দিন তিনি আবার খেজুর এনে বললেন, ‘এটি আপনার জন্য হাদিয়া।’ তখন রাসুল (সা.) নিজে খেলেন এবং সাহাবিদেরও খেতে বললেন। সালমান (রা.) ভাবলেন, ‘এটি দ্বিতীয় নিদর্শন।’

এরপর সালমান (রা.) নবিজি (সা.)-এর পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেন তাঁর পিঠের মোহরটি দেখার জন্য। রাসুল (সা.) তাঁর মনের ইচ্ছা বুঝতে পেরে পিঠের চাদরটি সামান্য সরিয়ে দিলেন। সালমান (রা.) সেখানে নবুওয়াতের অলৌকিক চিহ্নটি দেখতেই কেঁদে ফেললেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন। (মুসনাদে আহমাদ, ২৩৪৭; মুসনাদুল বাজজার, ৪৪০৭)

সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-কে যখন এই মোহর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি বলেন, ‘তা ছিল তাঁর পৃষ্ঠদেশের ওপর এক টুকরো বাড়তি গোশত।’ (জামেউস সগির, ৮৯৩৯; সিলসিলা সহিহাহ, ২০৯৩)
অন্য এক বর্ণনায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস (রা.) বলেন, নবিজি যখন তাঁর চাদর সরিয়েছিলেন, তখন তিনি দুই কাঁধের মাঝে সেই মোহরটি দেখেন। তাঁর ভাষায় ‘তা ছিল মুষ্টিবদ্ধ আঙুলীর মতো (উঁচু) এবং এর চারপার্শ্বে আঁচিলের মতো কতগুলো তিলক শোভা পাচ্ছিল।’ (সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, ১১৪৩২)

সালমান (রা.) এক ইহুদির দাস ছিলেন। তাঁর মুক্তির শর্ত ছিল একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ এবং মনিবের জন্য একটি খেজুর বাগান তৈরি করা, যেখানে ফল না আসা পর্যন্ত পরিচর্যা করতে হবে। রাসুল (সা.) নিজ হাতে সেই বাগানের চারা রোপণ করলেন। কেবল একটি চারা হজরত ওমর (রা.) রোপণ করেছিলেন। অলৌকিকভাবে সে বছরই সব গাছে খেজুর এল, শুধু ওমরের (রা.) রোপণ করা গাছটি ছাড়া।

 নবিজি (সা.) কারণ জানতে পেরে সেই চারাটি উপড়ে আবার নিজ হাতে রোপণ করলেন এবং অলৌকিকভাবে সে বছরই তাতে ফল চলে এল। এভাবেই সালমান (রা.) দাসত্ব থেকে মুক্তি পান। নবিজি (সা.)-এর এই অবয়ব ও অলৌকিকতা কেবল সৌন্দর্যই প্রকাশ করে না, বরং তা ছিল সত্যের এক জীবন্ত দলিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক