প্রশ্ন: আমরা প্রতিদিন ভোরে, ফজরের নামাজের পর, বাসায় কোরআন তেলাওয়াত করি। ওই সময় পরিবারের কেউ অন্য কাজে ব্যস্ত থাকে, কেউ জিকির করে, আবার কেউ ঘুমিয়ে থাকে। আমার মনে হয়, তেলাওয়াত একটু উঁচু আওয়াজে পড়লে ভালো লাগে। কিন্তু যখন সিজদার আয়াত আসে, তখন আমি দ্বিধায় পড়ে যাই আস্তে পড়ব, নাকি জোরে? যদি আস্তে পড়ি, তবে অন্যরা শুনতে পাবে না। আর জোরে পড়লে তাদের হয়তো কষ্ট হবে বা তারা সিজদা দিতে পারবে না। আমার মনে হয়, সিজদা দিতে কষ্ট কিসের? সবার শোনা উচিত, যাতে তারা সিজদা আদায় করতে পারে। কোনটি সঠিক?
উত্তর: আপনার প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তেলাওয়াতের আদব ও অন্যদের প্রতি সম্মান দেখানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই উত্তম।যদি ঘরের সবাই তেলাওয়াত শোনার জন্য প্রস্তুত থাকে, অজুর সঙ্গে থাকে এবং সিজদা আদায় করার মতো পরিবেশ থাকে, তাহলে আপনি অবশ্যই উঁচু আওয়াজে সিজদার আয়াত তেলাওয়াত করতে পারেন। এতে সবাই সওয়াব পাবে এবং সিজদা আদায় করতে উৎসাহিত হবে।
তবে, যদি ঘরের সদস্যরা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন, ঘুমান, অথবা সিজদা আদায় করার জন্য প্রস্তুত না থাকেন, তাহলে সিজদার আয়াতটি আস্তে পড়া উত্তম। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে:
১. কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা: জোরে পড়লে যদি অন্যদের ঘুম বা কাজে ব্যাঘাত ঘটে, তবে তা তাদের জন্য কষ্টের কারণ হতে পারে। ইসলাম অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করে।
২. গুনাহ থেকে বাঁচানো: যদি আপনি জোরে পড়েন এবং তারা ব্যস্ততার কারণে সিজদা আদায় করতে না পারেন, তাহলে তারা গুনাহগার হতে পারেন। তাদেরকে এই গুনাহের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আস্তে পড়া ভালো।
৩. ভুল এড়ানো: যদি তারা শোনে কিন্তু পরে সিজদা করতে ভুলে যায়, তাহলেও গুনাহ হতে পারে। তাই, এমন পরিস্থিতিতে তেলাওয়াতের আওয়াজ কম রাখাই শ্রেয়।
অতএব, আপনার মনে যে খটকা লাগে যে জোরে পড়া উচিত, তা ভুল নয়। কিন্তু শরিয়ত এ ক্ষেত্রে অন্যদের অবস্থা বিবেচনা করার পরামর্শ দেয়। যদি আপনি নিশ্চিত হন যে অন্যরা সিজদা আদায় করতে পারবে না, তবে তাদের প্রতি সম্মান ও দয়া দেখিয়ে সিজদার আয়াত আস্তে পড়াই অধিক উত্তম।
তথ্যসূত্র: মাজমাউল আনহুর (১/২৩৮), বাদায়েউস সানায়ে (১/৪৫০), আননাহরুল ফায়েক (১/৩৪৩)