আমাদের সমাজে প্রায়শই দেখা যায় যে, বিদেশে কর্মরত পুত্র তার উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠান। সেই টাকায় পিতা নিজের নামে জমি ক্রয় করেন, অথবা নিজের জমিতেই ঘরবাড়ি বা দোকানপাট নির্মাণ করেন। পিতার মৃত্যুর পর এসব সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে, বিশেষ করে টাকা পাঠানো ছেলে এবং অন্য ভাইদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ দেখা দেয়। একপক্ষ দাবি করে এটি তার পাঠানো টাকায় কেনা হয়েছে। তাই এটি তারই সম্পত্তি। অন্যপক্ষ বলে, যেহেতু পিতার নামে কেনা হয়েছে, তাই এটি পিতার সম্পত্তি এবং মিরাসের অংশ। এই জটিল পরিস্থিতিতে শরিয়তের ফায়সালা কী?
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, এ ধরনের ক্ষেত্রে মালিকানা নির্ধারণের জন্য কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি-
১. যদি ছেলে পরিবারের যৌথ প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে পিতার কাছে টাকা পাঠিয়ে থাকে, অথবা সে যদি এটা জেনে থাকে যে, পিতা তার পাঠানো টাকা দিয়ে নিজের জন্যই সম্পত্তি ক্রয় করছেন, তা হলে ক্রয়কৃত সম্পদ পিতার ত্যাজ্যসম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে টাকা পাঠানো ছেলের একক মালিকানার দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।
২. যদি টাকাদাতা তার পিতাকে টাকার ব্যাপারে পূর্ণ এখতিয়ার দিয়ে থাকে, অর্থাৎ টাকার মালিকানা সম্পূর্ণরূপে পিতাকে হস্তান্তর করে থাকে, তা হলেও সেই টাকায় কেনা সম্পত্তি পিতার বলে সাব্যস্ত হবে। এক্ষেত্রেও টাকা পাঠানো ছেলের একক মালিকানা দাবি করার অধিকার থাকবে না।
৩. যদি পিতাকে টাকার মালিক বানিয়ে দেওয়া। তাকে টাকার ব্যাপারে পূর্ণ এখতিয়ার দেওয়া, অথবা পরিবারের যৌথ প্রয়োজনে টাকা পাঠানো। এই তিনটি বিষয়ের কোনোটিই স্পষ্ট না থাকে, তা হলে শরিয়তের বিধান হলো, ছেলের টাকা দিয়ে ক্রয়কৃত সম্পদের মালিকানা ছেলের বলেই বিবেচিত হবে। এমন অবস্থায় পিতার কোনো ওয়ারিশ সেই সম্পত্তিতে অংশীদার হবে না। [তানকিছুল ফাতাওয়া আল-হামিদিয়া, খণ্ড: ২ পৃষ্ঠা: ১৭; মাকতাবায়ে রশিদিয়া কর্তৃক প্রকাশিত।]
উল্লেখ্য, এই একই ধরনের পরিস্থিতি পিতার পরিবর্তে বড় ভাই বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের সঙ্গেও ঘটতে পারে। তখনো শরিয়তের সিদ্ধান্ত এই একই নীতিমালার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
অতএব, এমন বিতর্ক এড়াতে এবং পারিবারিক শান্তি বজায় রাখতে টাকা লেনদেনের সময় উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। লিখিত চুক্তি বা সুস্পষ্ট মৌখিক ঘোষণার মাধ্যমে এ ধরনের জটিলতা সহজেই এড়ানো সম্ভব, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মিরাস বণ্টনের প্রক্রিয়াকে সহজ করবে।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক