ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা পরীমনিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২ সিলেটে ৩৬ ঘণ্টায় ১২২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গায় ট্রেন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২ সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের উখিয়ায় আইওএমের গাড়ির চাপায় অজ্ঞাত শিশুর মৃত্যু ভার্চুয়াল জুয়ার ফাঁদে সমাজ এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের গানেই লিজার ব্যস্ততা প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে আমন্ত্রণপত্র

যে পাপ জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৫, ১১:০৮ এএম
যে পাপ জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়
রাসুল (সা.) বলেছেন, চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে এমন কিছু পাপ আছে যা আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হলেও আল্লাহর কাছে তা অত্যন্ত ঘৃণ্য। এর মধ্যে অন্যতম হলো পরনিন্দা ও চোগলখোরি— একজনের কথা আরেকজনের কাছে এমনভাবে বলা, যাতে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে বা তাদের মাঝে বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। এই জঘন্য অভ্যাসটি সমাজে বিভেদ ও অশান্তি তৈরি করে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এটি আজ আমাদের সমাজের একটি সাধারণ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (সা.) এই আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

কোরআন ও হাদিসের কঠোর হুঁশিয়ারি: চোগলখোরি কতটা নিন্দনীয়, তা কোরআনুল কারিমে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, আর আপনি আনুগত্য করবেন না প্রত্যেক এমন ব্যক্তির, যে অধিক শপথকারী, লাঞ্ছিত, পশ্চাতে নিন্দাকারী ও চোগলখোর। (সুরা কলাম, ১০-১১)
হাদিসে এই পাপের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে আরও কঠোরভাবে বলা হয়েছে। হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (সহিহ মুসলিম)

অন্য হাদিসে চোগলখোরদের আল্লাহর নিকৃষ্টতম বান্দা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর সবচেয়ে উত্তম বান্দা হলো তারা, যাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। আর আল্লাহর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বান্দা হলো চোগলখোর, প্রিয়জনদের মাঝে ফাটল সৃষ্টিকারী ও নির্দোষ ব্যক্তিদের প্রতি অপবাদ আরোপকারী। (মুসনাদে আহমাদ)

মিথ্যাচার ও অতিরঞ্জন চোগলখোরির আসল রূপ: চোগলখোররা সাধারণত যা শোনে, তা হুবহু বলে না। নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তারা শোনা কথায় রং মাখায়, অতিরঞ্জন করে, অথবা মনগড়া কথা জুড়ে দেয়। তাদের উদ্দেশ্য থাকে কেবলই সম্পর্ক নষ্ট করা এবং অন্যের ক্ষতিসাধন করা। এই প্রবণতাকে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে একটি কবিতায়:

ভালো কথা শুনলে তারা গোপন করে রাখে মন্দ কিছু শোনার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে। মনের মতো কিছু শুনতে নাহি পেলে নিজে থেকে রং মিশিয়ে বানিয়ে যে ফেলে।

এই অভ্যাস এতটাই ঘৃণ্য যে, দ্বিতীয় খলিফা উমার ইবনু আব্দুল আযিয (রহ.)-এর কাছে যখন এক ব্যক্তি কারও নিন্দা করল, তখন তিনি তাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তুমি যদি মিথ্যা বলে থাকো, তা হলে তুমি এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত- ‘হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, যাতে অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করতে না পারো এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে না হয়। (সুরা হুজুরাত, ৬)

ইসলামে সম্পর্কের গুরুত্ব: তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে কথা গোপন করার বা ভালো কথা যোগ করার অনুমতি আছে, যা সম্পর্কের ভাঙন রোধ করে। দুটি পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করার সময় যদি কোনো অপ্রীতিকর কথা শোনা যায়, তা হলে তা গোপন রাখা জায়েজ। এমনকি সম্পর্ক জোড়া লাগানোর জন্য ভালো কথা জুড়ে দেওয়াও অনুমোদিত। উম্মু কুলসুম বিনতে উকবা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, সে ব্যক্তি মিথ্যাবাদী নয়, যে মানুষের মাঝে মীমাংসা করতে গিয়ে ভালো কথা পৌঁছায় অথবা ভালো কথা বলে। (সহিহুল বুখারি, ২৬৯২)

চোগলখোরি একটি আত্মঘাতী পাপ- যা কেবল নিজের আমলই নষ্ট করে না, বরং সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতাও বিনষ্ট করে। আসুন, আমরা এই জঘন্য পাপ থেকে নিজেদের বিরত রাখি এবং অন্যের ব্যাপারে কোনো মন্দ কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে তা প্রচার না করে যাচাই করি। কারণ, ইসলামের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো শান্তি, সৌহার্দ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠা করা।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

 

আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ
ছবি: সংগৃহীত

ভাবুন তো, মাত্র এক মিনিটে যদি আপনার ব্যাংক ব্যালান্সে এক হাজার ডলার জমা হয়, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার বুকে এমন কোনো বৈধ ব্যবসা নেই যা আপনাকে মাত্র ৬০ সেকেন্ডে এত বড় মুনাফা দিতে পারে। অথচ আখেরাতের বাজারে প্রতিদিন মাত্র এক মিনিটে এক হাজার নেকি অর্জন করা এবং একই সঙ্গে এক হাজার গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়া সম্ভব! রাসুল (সা.) আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এমন কিছু অবিশ্বাস্য আধ্যাত্মিক সমীকরণ শিখিয়েছেন, যা আধুনিক মানুষকে এক নিমেষেই পরকালের শ্রেষ্ঠ ধনীতে পরিণত করতে পারে।

আমরা অনেকেই মনে করি, অনেক বড় ইবাদত বা কঠিন পরিশ্রম ছাড়া বড় সওয়াব পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) এই ধারণাটি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন।
হযরত সা’দ ইবনে আবু অক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকি অর্জন করতে অপারগ হবে কি?  উপস্থিত একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কীভাবে এক হাজার নেকি অর্জন করবে?’ তিনি বললেন, একশ’বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। (মুসলিম, ২৬৯৮; তিরমিজি, ৩৪৬৩)

নতুন দৃষ্টিকোণ: মুহাদ্দিসগণের সুক্ষ্ম ভাষ্য ও বর্ণনার পাঠভেদ (যেমন- শু’বাহ ও ইয়াহয়্যা আলক্বাত্তানের বর্ণনা) অনুযায়ী, এখানে ‘অথবা’ নয়, বরং ‘এবং’ শব্দটির ব্যবহারই অগ্রগণ্য। অর্থাৎ, মাত্র ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বললে ১০০০ নেকি পাওয়ার পাশাপাশি একই সঙ্গে ১০০০ গুনাহও খাতা থেকে মুছে যায়। বিজ্ঞান বলে মানুষের শরীরে শত শত হাড়ের জোড় বা জয়েন্ট রয়েছে। ইসলাম এই প্রতিটি সুস্থ জয়েন্টের জন্য প্রতিদিন সকালে একটি ‘সদকা’ বা ট্যাক্স ধার্য করেছে। কিন্তু সেই ট্যাক্স পরিশোধের উপায়টি কত চমৎকার!

হযরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি (হাড়ের) জোড়ের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সদকা দেওয়া আবশ্যক। প্রতিটি ‘সুবহানাল্লাহ’ সদকা, ‘আলহামদু লিল্লাহ’ সদকা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সদকা এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলাও সদকা। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাও সদকা। আর এসব কিছুর পরিবর্তে চাশতের (পূর্বাহ্নের) দুই রাকাআত নামাজ পড়াই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০; সুনানে আবু দাউদ, ১২৮৫)

মহাবিশ্বের পরম সত্তা আল্লাহতায়ালা বান্দার সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন, তার পুরো নিয়ন্ত্রণ কিন্তু বান্দার নিজের চিন্তাভাবনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি (সে যেমন ধারণা করে, আমি তেমনই করি)। সে যখন আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর সে যদি কোনো সভায় আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়েও উত্তম (ফেরেশতাদের) সভায় স্মরণ করি। (বুখারি, ৭৪০৫; মুসলিম, ২৬৭৫)

মুখের কোণে একটু ‘সুবহানাল্লাহ’র গুঞ্জন আর দিনের শুরুতে দুই রাকাআত চাশতের নামাজ–এই সামান্য অভ্যাসগুলোই আমাদের পুরো দিনটিকে আল্লাহর সুরক্ষায় মুড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা যখন নির্জনে বা জনসম্মুখে আল্লাহকে ডাকি, তখন স্বয়ং স্রষ্টা আমাদের নাম নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?
ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে দুহাত তুলে কাঁদছেন, দূর-দূরান্তের ক্লান্তিকর সফর শেষে ধূলিমলিন শরীরে স্রষ্টাকে আকুল হয়ে ডাকছেন, তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সাড়া। আধুনিক জীবনে আমাদের চারপাশের বহু মানুষ আজ এই বিষণ্ণতায় ভোগেন কিন্তু অনুভূতির এই কান্নার আড়ালে আমরা কি কখনো আমাদের খাবারের প্লেট কিংবা উপার্জনের খতিয়ান খতিয়ে দেখেছি?

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বা হালাল ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না রাসুল (সা.) এমন এক মুসাফিরের উদাহরণ দেন, যার চুল এলোমেলো, শরীর ধূলিধূসরিত সে আকাশের দিকে হাত তুলেহে প্রভু! হে প্রভু!’ বলে কাঁদছে; অথচ তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক এবং জীবিকা নির্বাহের পুরো মাধ্যমটিই হারাম রাসুল (সা.) প্রশ্ন ছুড়ে দেন, এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে? (মুসলিম, ২৭৬০)

নৈতিকতার চাদরে সাদা আর কালোর বাইরে একটি ধূসর এলাকা বাগ্রে জোনথাকে, যাকে আমরা সন্দেহজনক বিষয় বলি হযরত নুমান ইবনু বাশীর (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, হালাল হারাম একদম স্পষ্ট, কিন্তু এর মাঝে রয়েছে কিছু সন্দেহজনক বস্তু যে ব্যক্তি এই সন্দেহ পরিহার করে, তার দ্বীন সম্মান সুরক্ষিত থাকে আর যে এর ধারেকাছে যায়, সে নিষিদ্ধ চারণভূমিতে ঢুকে পড়া পশুর মতো যেকোনো সময় হারামে লিপ্ত হতে পারে রাসুল (সা.) সতর্ক করেন, মানুষের শরীরের ভেতরে একটি গোশতের টুকরো বা অন্তর আছে; সেটি যদি সঠিক পবিত্র থাকে, তবে পুরো দেহই সঠিক থাকে আর সেটি কলুষিত হলে পুরো জীবনটাই বিকৃত হয়ে যায় (মুসলিম, ২৭৬২)

আজকের করপোরেট বা অনলাইন ব্যবসার যুগে এসে অনেক উপার্জনকে আমরা সাধারণ মনে করি অথচ হযরত আবু হুজায়ফা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন রক্ত বিক্রির অর্থ, কুকুরের মূল্য এবং ব্যভিচারের বিনিময় একই সাথে তিনি লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন সুদ গ্রহীতা, সুদদাতা, শরীরে উল্কি (ট্যাটু) অঙ্কনকারী এবং ছবি অঙ্কনকারীর ওপর (মিশকাত, ২৭৬৫)

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত, তা প্রথম মুসলিম খলিফার জীবন থেকে শেখার আছে হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, আবুবকর সিদ্দিক (রা.)-এর এক গোলামের উপার্জিত খাবার থেকে তিনি না জেনে এক লোকমা খেয়ে ফেলেছিলেন পরে যখন জানতে পারলেন যে, সেই অর্থ গোলামটি জাহেলি যুগে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে গণকী (জ্যোতিষী) করে কামিয়েছিল, তখন আবুবকর (রা.) সাথে সাথে মুখের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে পেটের সমস্ত খাদ্য বমন করে বের করে দেন (মিশকাত, ২৭৮৬)

সাফল্যের সব দুয়ার খোলার প্রধান শর্ত হলো শরীরের রক্তে হারামের ছোঁয়া না লাগা আজই আমাদের উচিত নিজের উপার্জনের উৎসটি পুনর্মূল্যায়ন করা, যেন আমাদের প্রার্থনাগুলো স্রষ্টার দরবারে পৌঁছানোর আগেই হারিয়ে না যায়

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল?

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল?
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক যুগের চিকিৎসকরা ঘুমানোর আগে চোখের নানা যত্নের কথা বলেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে প্রিয় রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে চোখের সুরক্ষায় চমৎকার একটি নিয়ম মেনে চলতেন? চলুন জেনে নিই নবিজির সেই রাতের অভ্যাস–

ইসলামে বাহ্যিক সৌন্দর্য ও সুস্থতার সুষম সমন্বয় দেখা যায় প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি অভ্যাসে। তিনি কেবল দিনের বেলাতেই নিজেকে পরিপাটি রাখতেন না, বরং রাতে ঘুমানোর আগেও শরীরের যত্ন নিতেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি সুন্দর ও উপকারী সুন্নাহ হলো চোখে সুরমা লাগানো।

নবিজির (সা.) প্রিয় সুরমা ও তাঁর ব্যবহারের নিয়ম সব সুরমা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এক রকম ছিল না। তিনি ‘ইছমিদ’ নামক একটি বিশেষ পাথর থেকে তৈরি সুরমা ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন এবং একে সর্বোৎকৃষ্ট বলেছেন। নবিজি (সা.)-এর নিজস্ব একটি সুরমাদানি ছিল। প্রতি রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে তিনি সুনির্দিষ্ট নিয়মে চোখে সুরমা মাখতেন।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর একটি সুরমাদানি ছিল। প্রতি রাতে (ঘুমানোর পূর্বে) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।’ (সুনানুল কুবরা লিল ইমাম বাইহাকি, ৮৫১৬)
দৃষ্টিশক্তি ও সৌন্দর্যের যুগলবন্দি আল্লাহর রাসুল (সা.) সুরমা ব্যবহারের চমৎকার কিছু শারীরিক উপকারিতার কথা স্পষ্ট করে গেছেন, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় হুবহু প্রমাণিত হয়েছে। ‘ইছমিদ’ সুরমা মূলত চোখের দৃষ্টিকে তীক্ষ্ণ করে এবং চোখের পাতার লোম বা ভ্রূ দ্রুত ও ঘনভাবে গজাতে সাহায্য করে।

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছে: ‘তোমরা শোয়ার সময় অবশ্যই ‘ইছমিদ’ সুরমা ব্যবহার করবে। কারণ, তা চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৪৯৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, ২০৫৮)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য ইছমিদ সুরমা সর্বোৎকৃষ্ট। কারণ, তা দৃষ্টি বাড়ায় এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৪৯৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৮২৪৮)

সুরমার বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা মুহাদ্দিস ও গবেষকদের মতে, সওয়াবের নিয়তে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সুরমা লাগানো মুস্তাহাব। বিজ্ঞান বলছে, ইছমিদ সুরমা অত্যন্ত কার্যকরী জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে, যা চোখের যেকোনো ছোঁয়াচে রোগ বা জীবাণুকে ধ্বংস করে। এ ছাড়া এটি বাতাসে থাকা ধুলাবালি চোখ থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে এবং চোখ জ্বালাপোড়া করা কমায়। প্রতি রাতে সুরমা লাগানো কেবল চোখের জ্যোতিই বাড়ায় না, বরং এটি অনুসরণের মাধ্যমে একজন মুমিন খুব সহজেই সুন্নাহর সওয়াব লাভ করতে পারেন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞান যেখানে আজও মহাবিশ্বের রহস্যের কূল-কিনারা করতে পারছে না, সেখানে সৃষ্টির অন্তরালে কী এমন চমক লুকিয়ে রেখেছেন মহান স্রষ্টা?
দুনিয়ার জীবনটা মানুষের জন্য এক পরীক্ষাগার। এই পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে, তাদের জন্য কী পুরস্কার অপেক্ষা করছে, তা মানুষের সীমিত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিমাপ করা অসম্ভব। মানবজাতির এই কৌতূহল ও আকাঙ্ক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি এক হাদিসে কুদসিতে স্বয়ং আল্লাহর বাণী আমাদের শুনিয়েছেন, যা জান্নাতের প্রকৃত স্বরূপকে আমাদের সামনে উন্মোচিত করে।

মহান আল্লাহ বলেন, তিনি তাঁর পুণ্যবান ও অনুগত বান্দাদের জন্য পরকালে এমন এক রাজত্ব বা পুরস্কার তৈরি করে রেখেছেন, যা দুনিয়ার কোনো চোখ কখনো দেখেনি। আমাজন বনের অপার সৌন্দর্য, সুইজারল্যান্ডের মনোরম দৃশ্য কিংবা মানুষের তৈরি কোনো আধুনিক বিস্ময়–কোনো কিছুই তার ধারেকাছে নয়। শুধু তাই নয়, সেই জগতের সুর, আনন্দ বা কোলাহলের মাধুর্য কোনো কান কখনো শোনেনি। এমনকি মানুষের উর্বর মস্তিষ্ক বা কল্পনাশক্তিও কখনো সেই সুখের সামান্যতম অনুমান করতে সক্ষম হয়নি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই অকল্পনীয় পুরস্কারের সত্যতা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরআনের সুরা সাজদাহর ১৭ নম্বর আয়াতটি তিলওয়াত করতেন। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেউই জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের বিনিময়স্বরূপ নয়ন-প্রীতিকর কী পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

এ হাদিসটি আমাদের জাগতিক চিন্তার বৃত্তকে ভেঙে দেয়। আমরা সাধারণত কোনো ভালো কাজের বিনিময়ে চেনা কোনো পুরস্কারের আশা করি। কিন্তু আল্লাহ আমাদের শেখাচ্ছেন, জান্নাত কোনো চেনা উপাদানের উন্নত সংস্করণ নয়। এটি সম্পূর্ণ এক নতুন মাত্রা বা ‘ডাইমেনশন’, যা কেবল বিশ্বাসের চোখেই দেখা সম্ভব। দুনিয়ার সব কষ্ট আর ত্যাগের ক্লান্তি এক নিমেষেই মুছে যাবে, যখন বান্দা সেই ‘চোখে না দেখা’ আর ‘কল্পনা না করা’ পরম প্রাপ্তির মুখোমুখি হবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে?

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে?
ছবি: সংদগৃহীত

বসার ঘরের দেয়ালে ঝুলছে চমৎকার সব পেইন্টিং, সোফার কুশনে নান্দনিক ছবির কারুকাজ, আর ড্রয়িংরুমে খেলছে আদুরে পোষা প্রাণী–আধুনিক শহুরে জীবনে ঘর সাজানোর চেনা এক খণ্ডচিত্র এটি। বাহ্যিক দৃষ্টিতে একে আভিজাত্য বা রুচিবোধ মনে হলেও, এর পেছনে কি কোনো আধ্যাত্মিক সংকট লুকিয়ে আছে? ইসলামের চিরন্তন দর্শন বলে, আমাদের ঘরের সাজসজ্জা ও পরিবেশের ওপরই নির্ভর করে সেখানে পরম শান্তি ও মহাজাগতিক রহমতের ফেরেশতারা প্রবেশ করবেন কি না।

আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে অন্দরমহলের সজ্জা নিয়ে তৈরি হয়েছিল এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক মুহূর্ত। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশ্রামের জন্য ছবি আঁকা একটি ছোট বালিশ কিনেছিলেন। কিন্তু ঘরে প্রবেশের সময় দরজায় থমকে দাঁড়ালেন রাসুল (সা.)। আয়েশা (রা.) তার মুখের অবয়ব দেখে শঙ্কিত হয়ে তওবা করলেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) এক অমোঘ সত্য উন্মোচন করে বললেন, যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে (রহমত ও বরকতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (বুখারি, ৫৯৬১)। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নুহ (আ.) থেকে শুরু করে ইব্রাহীম (আ.) পর্যন্ত সব নবিই সমাজ ও জীবন থেকে এই ছবি-মূর্তি সংস্কৃতির বিলোপ ঘটিয়েছেন।

একবার এক গভীর রাতে ওহি নিয়ে আসার কথা ছিল জিবরাঈল (আ.)-এর। কিন্তু তিনি এলেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ভোরবেলা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। পরে দেখা গেল, তাঁর খাটের নিচে একটি ছোট্ট কুকুর ছানা ছিল। হযরত মায়মুনা (রা.) বর্ণিত হাদিসে জানা যায়, জিবরাঈল (আ.) পরে এসে স্পষ্ট জানান, আমরা এমন ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে কুকুর বা ছবি থাকে। (মুসলিম, ২১০৫)। তবে ইসলাম এই বিধানে এক ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান দিয়েছে; শিকার বা বাগানের নিরাপত্তার মতো বাস্তব প্রয়োজনের কুকুরকে এর বাইরে রাখা হয়েছে।

ছবি বা মূর্তির এই নিষেধাজ্ঞা কি সর্বজনীন? আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক সহিহ হাদিসে জিবরাঈল (আ.) একটি পর্দা ও ঘরের ছবি দেখে তার মাথা কেটে ফেলার বা আকৃতি বদলে গাছের মতো করার পরামর্শ দেন। পর্দাটি কেটে নিচে বসার গদি বানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন ছবির প্রতি কোনো ভক্তি বা আভিজাত্যের প্রকাশ না থাকে (তিরমিজি, ২৮০৬)। তবে আধুনিক ইসলামি গবেষকদের মতে, যে ছবির প্রকৃত উপকারিতা রয়েছে, যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞান, জরুরি আইডেন্টিটি বা ভূগোলচর্চা, তা তৈরি ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বৈধ।

বিয়ের ঘর সাজানো বা আভিজাত্য প্রদর্শনে আমরা অনেক সময় সীমা লঙ্ঘন করে ফেলি। সাহাবি সালিম ইবনু আব্দুল্লাহর বিয়ের দিন ঘরটিকে সবুজ দামি কাপড় আর পর্দা দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। আমন্ত্রিত অতিথি প্রখ্যাত সাহাবি আবু আইয়ুব আনসারী এসে যখন দেখলেন দেয়ালে এভাবে বিলাসিতার পর্দা ঝোলানো হয়েছে, তখন তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে বললেন, আমি তোমাদের খাদ্য খাব না, তোমাদের ঘরেও প্রবেশ করব না। (ত্বাবারাণী)।

ঘর কেবল দেয়াল বা দামি আসবাবের সমষ্টি নয়; এটি আমাদের আত্মিক প্রশান্তির কেন্দ্র। আসুন, আমাদের অন্দরমহল থেকে এমন সব উপাদান সরিয়ে ফেলি যা রহমতের ফেরেশতাদের দূরে ঠেলে দেয়, যেন আমাদের ঘরগুলো প্রকৃত অর্থেই বরকতময় হয়ে ওঠে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক