দাম্পত্য জীবন একটি পবিত্র বন্ধন, যা শুধু অধিকার আদায়ের ক্ষেত্র নয়, বরং পারস্পরিক দায়িত্ব পালনের এক মধুর সম্পর্ক। ইসলামে যেমন স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কিছু অধিকার রয়েছে, তেমনি স্বামীরও উচিত স্ত্রীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। সুস্থ ও সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য উভয়েরই দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য।
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতি মনোযোগ
ইসলামে স্বামীর ডাকে সাড়া দেওয়াকে স্ত্রীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম নববি (রহ.)-এর মতো মহান পণ্ডিতগণ বলেছেন, যদি শরিয়তসম্মত কোনো বাধা না থাকে, তবে স্ত্রীর উচিত স্বামীর প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া। তবে এর মানে এই নয় যে, স্বামীর চাহিদা পূরণের জন্য স্ত্রীর স্বাস্থ্য বা সুস্থতাকে অবহেলা করা হবে।
একজন প্রকৃত জীবনসঙ্গী কখনো তার স্ত্রীর শারীরিক বা মানসিক কষ্টের কারণ হতে পারে না। কোনো স্বামী যদি স্ত্রীর স্বাস্থ্য বা শারীরিক অবস্থার প্রতি খেয়াল না রেখে কেবল নিজের জৈবিক চাহিদা পূরণ করতে চান, তবে তা চরম অমানবিক ও অনৈসলামিক। ফুকাহায়ে কেরাম (ইসলামি আইনবিদগণ) এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, যদি সহবাসে স্ত্রীর স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বা তা তার সহ্যের বাইরে হয়, তবে জোর করা জায়েজ নয়। স্বামীর উচিত স্ত্রীর সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
অধিকার ও দায়িত্বের ভারসাম্য
দাম্পত্য জীবনে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সহানুভূতি অপরিহার্য। এটি শুধু শয্যাসঙ্গিনী হিসেবেই নয়, বরং জীবনসঙ্গিনী হিসেবেও। স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রীর জন্য নফল রোজা রাখা থেকে বিরত থাকার যে নির্দেশনা হাদিসে এসেছে, তার উদ্দেশ্যও এক। এতে করে স্বামী বাড়িতে ফিরলে যেন স্ত্রীর কারণে তার চাহিদা পূরণে কোনো বাধা না আসে। এই বিধানগুলো মূলত দাম্পত্য সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান অটুট রাখতে দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে, ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। এটি যেমন স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অধিকার নিশ্চিত করে, তেমনি স্বামীরও উচিত স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতি যত্নশীল হওয়া। যখন উভয় পক্ষই তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং একে অপরের প্রতি সংবেদনশীল হয়, তখনই একটি দাম্পত্য জীবন সার্থক ও সুন্দর হয়ে ওঠে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক