যাবতীয় ইবাদত পালন করতে হয় আল্লাহতায়ালার বিধান মেনে। আল্লাহর আদেশ বা হুকুম অনুযায়ী হতে হয় ইবাদত। আর উদ্দেশ্যও হতে হবে একমাত্র আল্লাহতায়ালার রাজি ও সন্তুষ্টি লাভ। একইভাবে আমাদের যেকোনো চাহিদা ও প্রয়োজন সবকিছু চাইতে হবে একমাত্র আল্লাহতায়ালার কাছে। এজন্য মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, ‘আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার কাছেই সাহায্য চাই।’ (সুরা ফাতিহা, আয়াত ৪)
অর্থাৎ, বান্দার যাবতীয় ইবাদত হতে হবে একমাত্র আল্লাহতায়ালার জন্য। আমাদের নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত প্রভৃতি ইবাদত হওয়া চাই একমাত্র আল্লাহর জন্য। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই মুখ্য উদ্দেশ্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘বলুন, আমার নামাজ, আমার হজ-কোরবানি এবং আমার জীবন ও মরণ একমাত্র বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম, আয়াত ১৬২)
কোনো মানুষকে খুশি করার জন্য তার নামে মানত করা, উদ্দেশ্য পূরণে বিভিন্ন কিছু চাওয়া, এগুলো নিঃসন্দেহে শিরক। যা তাওবা ব্যতীত কখনো ক্ষমাযোগ্য নয়। এখন দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন ওরস, মাজার, দরগা, আস্তানায় লোকে লোকারণ্য হয়ে পীরের নামে জিকির হচ্ছে। কখনো পীরবাবার কাছে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে। কেউবা সন্তান চাইছেন। অনেকে ব্যবসার উন্নতি কামনা করছেন। নিঃসন্দেহে এগুলো শিরক। এ জাতীয় কাজ করার মাধ্যমে মানুষ ঈমানহারা হয়ে যায়।
আর ঈমান ছাড়া আমলের কোনো লাভ নেই। অনেকেই এখন বলতে চাইছেন যে, পীর বা গুরু প্রভৃতি ব্যক্তির ইচ্ছায় কল্যাণ হয়। মনের আশা পূর্ণ হয়। গুরুর দয়ায় ইজ্জত সম্মান সম্পদ ক্ষমতা ইত্যাদি লাভ হয়। অথচ এগুলোও পরিষ্কার কুফরি কথা। ঈমান আমল ধ্বংসের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে এ জাতীয় শিরকি কথাবার্তা ও আচার-অনুষ্ঠান। আর এমন ব্যক্তিদের আচরণও সুস্থ রুচির পরিচয় বহন করে না। বরং বিভিন্ন কুসংস্কার এবং মনগড়া বানোয়াট বক্তব্য, তথ্য ও ভ্রান্ত বিশ্বাসের জন্ম দেয়। যেগুলোর নেই কোনো অথেনটিক সোর্স বা নির্ভরযোগ্য অথরিটি। এজন্যই আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট গুণাবলিকে কোনো বিশেষ ব্যক্তি, পীর বুজুর্গ গুরু ইত্যাদির জন্য সাব্যস্ত করা; যেকোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তিকে ক্ষমতার অধিকারী মনে করা স্পষ্ট আল্লাহর সঙ্গে শিরক তথা অংশ সাব্যস্ত করারই নামান্তর।
সব ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহতায়ালা। তিনিই ভালো-মন্দ, কল্যাণ-অকল্যাণ এবং ইজ্জত সম্মান, সম্পদ সন্তান ইত্যাদি দেওয়ার মালিক। কাজেই যেকোনো ধরনের ইবাদত হতে হবে আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রাজি-সন্তুষ্টির জন্য। এজন্য গাইড বা নির্দেশনা হবে কোরআন হাদিসভিত্তিক। কোনো মানুষের বানানো মনগড়া বানোয়াট বক্তব্য কথা ও কোরআন-হাদিসবহির্ভূত বিভ্রান্তিমূলক কথা ও আচরণ নিঃসন্দেহে পরিহারযোগ্য। তাই ইবাদত হতে হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য। কোনো পীর ফকির গুরু সাধুর জন্য নয়।
সুতরাং যারা পীর বা গুরুর পায়ে সেজদা দেয়, ভক্তি করে। সাহায্য চায়। উদ্দেশ্য পূর্ণকারী জ্ঞান করে এবং অনেক অবান্তর আচরণ করে। নিঃসন্দেহে এগুলো কোনোটা শিরক, কোনোটা অসামাজিক কার্যকলাপের অন্তর্ভুক্ত, কোনোটা তথ্যহীন ও ভিত্তিহীনভাবে প্রতিষ্ঠিত। এজন্য এ জাতীয় কাজ ও আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে। কোরআন-হাদিস অনুযায়ী সুন্নাহ মেনে, আলেমদের তত্ত্বাবধানে বিশুদ্ধ ইসলামের অনুসারী হতে হবে।
লেখক: খতিব
ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর