ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফেরাল জার্মানি কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল জার্মানির খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান প্রথমার্ধে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও, ৩ গোল দিল জার্মানি মমতার দলে সংকট আরও গভীর, বিদ্রোহী এমপি বেড়ে ২২ জোটার স্মরণে বিশ্বকাপে বিশেষ উদ্যোগ নিল পর্তুগাল হোম অব ক্রিকেটে লিটনের অন্য রকম প্রথম ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামে চাঁদপুরের তিন প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যা, নেপথ্যে অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ বেরোবির রাজস্ব বাজেট ৮২ কোটি ৮১ লাখ টাকা ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন আজ ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টে গ্রেপ্তারের কথা শুনে চোখ খুলছেন না শিবির নেতা জিসান ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: শফিকুর রহমান গাংনীতে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১৭ পাবনায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ফটিকছড়িতে বায়তুল ক্বোবা তৈয়্যবিয়া জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি হস্তান্তর শ্রমিক অবরোধে আড়াই ঘণ্টা স্থবির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্দরে বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আইএইচএফ ট্রফিতে দুই বিভাগে রূপা জিতল বাংলাদেশ আলু সংরক্ষণাগারে কেজিপ্রতি ৫ টাকা ভাড়ার দাবি, ৭ দিনের আল্টিমেটাম বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫.৬৩ বিলিয়ন ডলার ইরান-মার্কিন চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে রবিবার, খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালী সোনারগাঁয় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ আতঙ্কে ঘর ছাড়া, নিরাপত্তার আশ্বাস পুলিশের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনে অভিযান ইতিহাসের দুয়ারে গিয়ে থামল বাংলাদেশ, রক্ষা পেল অজিরা চুয়াডাঙ্গায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ জব্দ করল বিজিবি গফরগাঁওয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু বরগুনায় চিরকুট লিখে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা নরসিংদীবাসীর জন্য সুখবর, অনুমোদন পেল সরকারি মেডিকেল কলেজ
Nagad desktop

কেন রজব মাসটি এত মহিমান্বিত

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:০৯ পিএম
কেন  রজব মাসটি এত মহিমান্বিত
ছবি: সংগৃহীত

আরবি বর্ষপঞ্জিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানিত একটি মাসের নাম রজব। আরবি বর্ষপরিক্রমার সপ্তম মাস এটি। রজব শব্দের অর্থ সম্মান করা। ইবনু ফারিস (রহ.)-এ মাসকে রজব নামে নামকরণের কারণ উল্লেখ করে বলেন, কারণ আরবের লোকরা এ মাসকে অনেক বেশি সম্মান করত, অবশ্য পরবর্তী সময়ে শরিয়তেও সে সম্মান বহাল রাখা হয়। (মাকাইসুল লুগাহ, পৃ. ২৪৯৫) এ মাসকে মুজার গোত্রের দিকে সম্পৃক্ত করে রজাবু মুজার নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। কারণ মুজার গোত্র অন্যান্য সম্মানিত মাসের চেয়েও এ মাসকে বেশি সম্মান করত। (ফাতহুল বারী ১/১৩২)

রজব মাস সম্মানিত চার মাসের অন্তর্ভুক্ত: পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকেই সময়ের হিসাব ঠিক রাখার জন্য আল্লাহতায়ালা ১২টি মাস নির্ধারণ করে রেখেছেন। তন্মধ্যে চারটি মাসকে হারাম বা সম্মানিত মাস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে আল্লাহর কিতাবে তথা লাওহে মাহফুজে মাসের সংখ্যা ১২টিসেই দিন থেকে, যে দিন আল্লাহতায়ালা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাপূর্ণ। এটাই সহজ-সরল দ্বীন এর দাবি। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোর ব্যাপারে নিজেদের প্রতি জুলুম করো না এবং তোমরা সবাই মিলে মুশরিকদের সঙ্গে লড়াই করো, যেমন তারা সবাই মিলে তোমাদের সঙ্গে লড়াই করে। বিশ্বাস রেখো নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের সঙ্গে আছেন। (সুরা তাওবা, আয়াত: ৩৬)

নবিজি (সা.) সম্মানিত চার মাস নির্ণয় করে বলেন, আল্লাহ যে দিন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, সে দিন হতে সময় যেভাবে আবর্তিত হচ্ছিল আজও তা সেভাবে আবর্তিত হচ্ছে। ১২ মাসে এক বছর। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। জুল-কাদাহ, জুল-হিজ্জাহ ও মুহাররাম। তিনটি মাস পরস্পর রয়েছে। আর একটি মাস হলো রজব-ই-মুজারা, যা জুমাদা ও শাবান মাসের মাঝে অবস্থিত। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩১৯৭)

মাসগুলো সম্মানিত হওয়ার কারণ ও হেকমত: ইমাম আবুবকর জাসসাস (রহ.) বলেন, এই চারটি মাসকে সম্মানিত ঘোষণা করার দুটি কারণ রয়েছে। ১. এ মাসে যুদ্ধবিগ্রহ হারাম, যা আরবের মুশরিকরাও মেনে চলত। আল্লাহতায়ালা বলেন, লোকে আপনাকে মর্যাদাপূর্ণ মাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? আপনি বলে দিন, তাতে যুদ্ধ করা মহাপাপ। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২১৭) ২. অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে গুনাহর পরিণতি অতি ভয়াবহ আর ইবাদতের প্রতিদান বড়। (আহকামুল কুরআন, পৃ. ৩/১৪৩)

আল্লামা ইবনে কাছির (রহ.) নির্দিষ্ট এই চার মাসকে সম্মানিত ঘোষণা করার হেকমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, জুল-কাদাহ, জুল-হিজ্জাহ ও মুহাররাম এই তিন মাসকে হজ পালনের সুবিধার্থে হারাম করা হয়েছে। যেন হজের মাসের আগে ও পরে সবাই নিরাপত্তার সঙ্গে মক্কা নগরীতে আগমন এবং সেখান থেকে প্রস্থান করতে পারে। আর রজব মাসকে হারাম করা হয়েছে উমরা পালনের সুবিধার্থে। (তাফসিরে ইবনে কাছির, পৃ. ৪/১৪৮)

রজব মাসের ইবাদত ও সালাফের গুরুত্বারোপ: সম্মানিত চার মাসের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় রজব মাসের ফজিলত প্রমাণিত। তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে এ মাসে স্বতন্ত্র কোনো ইবাদত নেই। বরং অন্যান্য মাসের মতো ইবাদত বন্দেগিতে লিপ্ত থাকবে। গুরুত্বের সঙ্গে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল ইবাদতগুলো আদায় করবে। জিকির, তাসবিহ, তাহলিল ও কোরআন তেলাওয়াতে সময় অতিবাহিত করবে। রজব মাসের অভ্যাস রমজান মাসে আমলের উন্নতির জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।

রজব মাসে যদিও সুনির্দিষ্ট ইবাদত প্রমাণিত নেই তথাপি সময়টা আমাদের জন্য বরকতময়। তাই গুরুত্বের সঙ্গে আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। রজব মাসের ব্যাপারে সালাফের আমল ও উক্তিগুলো সামনে থাকলে আমাদের জন্য তা অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

ক. ইবাদতের বীজ বপনের মাস: রজব মাস হলো ইবাদতের বীজ বপনের মাস। ইমাম ইবনে রজব (রহ.) বলেন, এ মাস বরকত ও কল্যাণময় মাসগুলোর মূল ও চাবিকাঠি। ইমাম আবুবকর বলখি (রহ.) বলেন, রজব হলো বীজ বপনের মাস। শাবান হলো পানি সিঞ্চনের (পরিচর্যার) মাস‌। আর রমজান হলো ফসল কেটে ঘরে তোলার মাস। (লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃ. ১২১)

খ. এ মাসের ইবাদত অন্যান্য মাসের সহযোগী: সম্মানিত মাসগুলোর একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এ সময় ইবাদতে মশগুল থাকলে অন্য মাসে ইবাদতে কাটানো সহজ হয়‌। আবার এ সময়গুলোয় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকলে অন্য মাসে গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়। (মাআরিফুল কুরআন, পৃ. ৪/৩৭২)

গ. রমজান মাসের প্রস্তুতি: রজব মাসের এক মাস পর রমজান মাস। তাই বিশেষভাবে এ মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি শুরু করা। যেন রমজান আসলে বিভিন্ন ব্যস্ততা চেপে না বসে। একইভাবে ইবাদত বন্দেগির সঙ্গে নিজেকে অভ্যস্ত করে তোলা, যেন রমজানে ইবাদতে লিপ্ত হতে অলসতা তৈরি না হয়। (লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃ. ১২১)

রজব মাসের করণীয় কিছু আমলও রয়েছে, যদিও রজব মাসের সুনির্দিষ্ট কোনো ইবাদত নেই, তবুও এ মাসের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা অনেক। তাই অন্যান্য মাসের ইবাদতগুলোই আরও বেশি গুরুত্বের সঙ্গে সম্পাদন করার চেষ্টা করা। নিচে উল্লেখযোগ্য কিছু আমলের কথা তুলে ধরা হলো-

নেক আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়া: রজব মাসসহ অন্যান্য হারাম মাসে ইবাদত ও নেক আমলের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা এ সময় প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বৃদ্ধি পায়। ইমাম ইবনে কাছির (রহ.) বলেন, আল্লাহতায়ালা হারাম মাসে গুনাহকে বড় করে দেখেন। আবার নেক আমলের সওয়াব ও প্রতিদানও বেশি করে দেন। (তাফসিরে ইবনে কাছির, পৃ. ৪/১৩০)

গুনাহ করে নিজের ওপর জুলুম না করা: গুনাহ করা সব সময়ই হারাম ও নিষিদ্ধ। তবে সম্মানিত মাসগুলোয় তা আরও কঠিনভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহতায়ালা বলেন, সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোর ব্যাপারে নিজেদের প্রতি জুলুম করো না। (সুরা তাওবা, আয়াত: ৩৬)

আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে জারির তাবারি (রহ.) লেখেন, তোমরা নিজেদের ওপর জুলুম করো না এ কথার অর্থ হলো, তোমরা এ সময় আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়ো না। আল্লাহর নিষিদ্ধ কোনো কাজকে হালাল করো না। অন্যথায় তোমরা আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তির সম্মুখীন হবে। (তাফসিরে তাবারি, পৃ. ১৪/২৩৭)

রমজান লাভের জন্য দোয়া জারি রাখা: রজব মাস পর্যন্ত মহান আল্লাহ যেহেতু আমাদের হায়াত দান করেছেন তাই এখন বেশি বেশি দোয়া করা, যেন আল্লাহ আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। রমজানের খায়ের, বরকত ও কল্যাণ দিয়ে আমাদের সিক্ত করেন। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রজব মাস এলে নবিজি (সা.) বলতেন, আল্লাহুম্মা বারিক-লা-না ফি রাজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাললিগ না রামাদান। অর্থ- হে আল্লাহ! রজব ও শাবানে আমাদের বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজানে পৌঁছে দিন। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ)

বেশি বেশি রোজা রাখা: রজব মাসে দিন তারিখ নির্ধারণ করা ব্যতীত বেশি বেশি নফল রোজা রাখা। নবিজি (সা.) রজব মাসে অনেক সময় রোজা রাখতেন।

উমরা পালন করা: হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-সহ অনেক সাহাবায়ে কেরাম এ মাসে উমরা পালন করতেন। তাই সম্ভব হলে এই আমলটি করা।

আল্লাহতায়ালা আমাদের রজব মাসের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা ধারণ করে সময়গুলো কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

 

 লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া ইসলামিয়া মেহেরপুর

যে ডাকের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর ভালোবাসা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে ডাকের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর ভালোবাসা
ছবি: সংগৃহীত

আমরা প্রতিনিয়ত পাপ করি, আবার নিজেই নিজের ভাগ্যের ওপর দোষ চাপাই। কিন্তু আপনি কি জানেন, মহান আল্লাহ আমাদের ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে নিজের ভুলগুলো অনুধাবন করার তাগিদ দিয়েছেন?

ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু বাণী আছে যা সরাসরি আল্লাহর কথা, কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জবানীতে আমাদের কাছে পৌঁছেছে; পরিভাষায় একে বলা হয় ‘হাদিসে কুদসি’। হযরত আবুজর গিফারি (রা.) বর্ণিত সহিহ মুসলিমের একটি দীর্ঘ ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হাদিসে মহান আল্লাহ মানবজাতিকে এক অদ্ভুত সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।

এই বাণীর শুরুতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, তিনি নিজের ওপর জুলুম বা অন্যায়কে হারাম করেছেন এবং মানুষের সমাজেও একে নিষিদ্ধ করেছেন। এর পর মানুষের চরম অসহায়ত্ব ও আল্লাহর অসীম ক্ষমতার এক চমৎকার বৈপরীত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আল্লাহ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষের হিদায়াত, খাদ্য ও বস্ত্রের কোনো স্বাধীন ক্ষমতা নেই; সবই আল্লাহর দান। মানুষ দিন-রাত পাপ করলেও আল্লাহর দরবার ক্ষমা করার জন্য সর্বদা উন্মুক্ত।

তবে এই হাদিসের সবচেয়ে চোখ খোলার মতো অংশটি হলো আল্লাহর ‘অমুখাপেক্ষী’ হওয়ার ধারণা। সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত মানুষ ও জিন যদি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পুণ্যবান বা সবচেয়ে বড় পাপী হয়ে যায়, তাতে আল্লাহর রাজত্বের এক চুলও লাভ বা ক্ষতি হবে না। সৃষ্টির সব চাওয়া একসঙ্গে পূরণ করলেও আল্লাহর ভাণ্ডারে কোনো কমতি পড়ে না।

আসলে আল্লাহ মানুষের এই পুরো জীবনটাকে একটি পরীক্ষার খাতা হিসেবে দেখছেন। তিনি আমাদের সমস্ত আমল বা কর্ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংরক্ষণ করছেন। দিনশেষে মানুষ যে ভালো বা মন্দ ফলাফল পাবে, তা তার নিজের কর্মেরই ফল। তাই প্রাপ্তিতে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আর ব্যর্থতায় নিজেকেই সংশোধন করার বার্তা দিয়ে শেষ হয় এই ঐশী সংলাপ।

প্রচলিত ধারণা হলো, আমাদের ইবাদত বোধহয় আল্লাহর রাজত্বকে বড় করে। কিন্তু এই হাদিস আমাদের সম্পূর্ণ নতুন এক দর্শন শেখায়–আল্লাহর আমাদের প্রয়োজন নেই, আমাদেরই আল্লাহকে প্রয়োজন। আমরা সফল হলে তা আল্লাহর দয়া, আর ব্যর্থ হলে তা আমাদের নিজেদের কর্মের ত্রুটি।

লেখক: আলেম ও সাংকবাদিক 

আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

কোনো মানুষের দুনিয়ায় জনপ্রিয় হওয়া বা মানুষের হৃদয়ে স্থান পাওয়া কি কেবলই তার বাহ্যিক যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো আসমানী রহস্য? সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং বন্ধুত্বের ধরন কীভাবে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার মাধ্যম হতে পারে–তা নিয়ে ইসলাম এক অভিনব দর্শন দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রামাণ্য হাদিসগুলো বিশ্লেষণ করলে সামাজিক বন্ধন ও আত্মিক শুদ্ধির এক অনন্য রূপরেখা আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়।

দুনিয়ার বুকে মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার এক গোপন সূত্র রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি চমৎকার হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাঈল (আ.)-কে ডেকে বলেন যে, তিনি অমুককে ভালোবাসেন। ফলে জিবরাঈল (আ.) এবং আকাশের সমস্ত ফেরেশতা তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। এর পর: সে ব্যক্তির জন্য জমিনেও জনপ্রিয়তা দান করা হয় (মুসলিম, মিশকাত হা/৫০০৫)।বিপরীতে, আল্লাহ কোনো বান্দাকে ঘৃণা করলে আসমানী ফেরেশতাদের মাধ্যমে জমিনের মানুষের হৃদয়েও তার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয়।

মানুষের জীবনে বন্ধু বা সঙ্গীর প্রভাব কতটা গভীর, তা বোঝাতে রাসুল (সা.) এক অনন্য উদাহরণ দিয়েছেন। আবু মুসা আশয়ারী (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, ভালো ও মন্দ বন্ধুর দৃষ্টান্ত হলো যথাক্রমে আতর বিক্রেতা ও কামারের হাঁপড়ের মতো। আতর বিক্রেতার কাছ থেকে কিছু না কিনলেও সুঘ্রাণ পাওয়া যায়, আর কামারের কাছে গেলে জামা-কাপড় না পুড়লেও তার ধোঁয়ার দুর্গন্ধ সহ্য করতেই হয় (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত হা/৫০১০)।

নিছক পার্থিব স্বার্থের বাইরে গিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গড়ে ওঠা সম্পর্কের মূল্য অপরিসীম। মুয়ায ইবনু জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা বলেন, যারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালোবাসে, সমাবেশে মিলিত হয়, সাক্ষাৎ করে এবং সম্পদ ব্যয় করে, তাদের জন্য আল্লাহর ভালোবাসা অবধারিত (মালেক, মিশকাত হা/৫০১১)। আর এই ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখতে মিকদাদ ইবনু মা‘দীকারাব (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) এক মনস্তাত্ত্বিক ফর্মুলা দিয়েছেন–কেউ তার কোনো ভাইকে ভালোবাসলে সে যেন তাকে তা জানিয়ে দেয় (আবু দাঊদ, হা/৫০১৬)।

সামাজিক এই সুসম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি রূপ নেয় পরকালের শান্তিতে। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) এমন একদল মানুষের সুসংবাদ দিয়েছেন যাদের জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম। তারা হলেন এমন ব্যক্তিবর্গ–যাদের মেজাজ নরম, স্বভাব কোমল, মানুষের সঙ্গে মিশুক এবং আচরণ অত্যন্ত সরল সহজ (তিরমিজি, হা/৫০৮৪)। আসমানী ভালোবাসা অর্জন, সৎসঙ্গের সান্নিধ্য এবং মানুষের সঙ্গে কোমল আচরণের মাধ্যমেই একটি আদর্শ সমাজ গঠন সম্ভব, যা মানুষকে পরকালের কঠিন আগুন থেকে রক্ষা করবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

শামায়েল কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.)

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.)
ছবি: সংগৃহীত

সত্যের সন্ধানে পারস্য থেকে মদিনায় আসা এক ক্রীতদাস। কোন তিনটি অলৌকিক চিহ্ন দেখে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে ইনিই শেষ নবি? হজরত সালমান ফারসি (রা.) ছিলেন একজন সত্যসন্ধানী সাহাবি। পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের জ্ঞান থেকে তিনি জানতেন, শেষ নবির তিনটি স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকবে–তিনি সদকা (দান) খাবেন না, হাদিয়া (উপহার) গ্রহণ করবেন এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝে ‘মোহরে নবুওয়াত’ বা নবি হওয়ার বিশেষ সিলমোহর থাকবে।

মদিনায় হিজরতের পর সালমান (রা.) কাঁচা খেজুরের একটি পাত্র নিয়ে নবিজি (সা.)-এর সামনে এসে বললেন, ‘এগুলো সদকা।’ রাসুল (সা.) সাহাবিদের বললেন, ‘তোমরা খাও, আমরা সদকা খাই না।’ সালমান (রা.) মনে মনে বললেন, ‘এটি প্রথম নিদর্শন।’ পরের দিন তিনি আবার খেজুর এনে বললেন, ‘এটি আপনার জন্য হাদিয়া।’ তখন রাসুল (সা.) নিজে খেলেন এবং সাহাবিদেরও খেতে বললেন। সালমান (রা.) ভাবলেন, ‘এটি দ্বিতীয় নিদর্শন।’

এরপর সালমান (রা.) নবিজি (সা.)-এর পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেন তাঁর পিঠের মোহরটি দেখার জন্য। রাসুল (সা.) তাঁর মনের ইচ্ছা বুঝতে পেরে পিঠের চাদরটি সামান্য সরিয়ে দিলেন। সালমান (রা.) সেখানে নবুওয়াতের অলৌকিক চিহ্নটি দেখতেই কেঁদে ফেললেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন। (মুসনাদে আহমাদ, ২৩৪৭; মুসনাদুল বাজজার, ৪৪০৭)

সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-কে যখন এই মোহর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি বলেন, ‘তা ছিল তাঁর পৃষ্ঠদেশের ওপর এক টুকরো বাড়তি গোশত।’ (জামেউস সগির, ৮৯৩৯; সিলসিলা সহিহাহ, ২০৯৩)
অন্য এক বর্ণনায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস (রা.) বলেন, নবিজি যখন তাঁর চাদর সরিয়েছিলেন, তখন তিনি দুই কাঁধের মাঝে সেই মোহরটি দেখেন। তাঁর ভাষায় ‘তা ছিল মুষ্টিবদ্ধ আঙুলীর মতো (উঁচু) এবং এর চারপার্শ্বে আঁচিলের মতো কতগুলো তিলক শোভা পাচ্ছিল।’ (সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, ১১৪৩২)

সালমান (রা.) এক ইহুদির দাস ছিলেন। তাঁর মুক্তির শর্ত ছিল একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ এবং মনিবের জন্য একটি খেজুর বাগান তৈরি করা, যেখানে ফল না আসা পর্যন্ত পরিচর্যা করতে হবে। রাসুল (সা.) নিজ হাতে সেই বাগানের চারা রোপণ করলেন। কেবল একটি চারা হজরত ওমর (রা.) রোপণ করেছিলেন। অলৌকিকভাবে সে বছরই সব গাছে খেজুর এল, শুধু ওমরের (রা.) রোপণ করা গাছটি ছাড়া।

 নবিজি (সা.) কারণ জানতে পেরে সেই চারাটি উপড়ে আবার নিজ হাতে রোপণ করলেন এবং অলৌকিকভাবে সে বছরই তাতে ফল চলে এল। এভাবেই সালমান (রা.) দাসত্ব থেকে মুক্তি পান। নবিজি (সা.)-এর এই অবয়ব ও অলৌকিকতা কেবল সৌন্দর্যই প্রকাশ করে না, বরং তা ছিল সত্যের এক জীবন্ত দলিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৪ জুন ২০২৬, রবিবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৫ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ঘটনা যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায়

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায়
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতা ইসলামের অন্যতম মূল ভিত্তি। পবিত্র কোরআনের স্পষ্ট ঘোষণা—ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদে অভাবী ও বঞ্চিত মানুষের সুনির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে। কিন্তু মানুষ যখন চরম আত্মকেন্দ্রিক হয়ে এই ঐশী বিধানকে অমান্য করে, তখনই নেমে আসে বিপর্যয়। সুরা আল-কালামে বর্ণিত ‘বাগানওয়ালাদের’ ঐতিহাসিক ঘটনাটি তেমনই এক চিরন্তন শিক্ষার স্মারক।

ইয়েমেনের সানা নগরীর কাছে এক আল্লাহভীরু ব্যক্তির একটি বিশাল ফলের বাগান ছিল। তিনি নিয়মিত বাগানের আয়ের একটি বড় অংশ গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলেরা সেই বাগানের মালিক হয়। কিন্তু পিতার উদারতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছেলেদের স্পর্শ করেনি। বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে তারা চরম কৃপণ ও অদহংকারী হয়ে ওঠে।

একদিন ভাইয়েরা মিলে এক গোপন বৈঠক করল। লোভের বশবর্তী হয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিল—পিতার মতো তারা আর গরিবদের একটি কণাও দেবে না। এক ভাই বাধা দিতে চাইলেও বাকিরা তা শুনল না। তারা পরিকল্পনা করল, ভোরের আলো ফোটার আগেই বাগানের সব ফসল কেটে ঘরে তুলে ফেলবে, যাতে কোনো অভাবী মানুষ টের পেয়ে কিছু চেয়ে না বসে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষরাতে তারা বাগানের দিকে রওনা হলো। কিন্তু সেখানে পৌঁছেই তারা স্তম্ভিত হয়ে গেল! তাদের অবাধ্যতা ও কৃপণতার শাস্তিস্বরূপ রাতের অন্ধকারে আল্লাহর নির্দেশে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে গেছে। পুরো বাগানটি আগুনে পুড়ে কালো ছাই হয়ে পড়ে আছে। যে সম্পদ নিয়ে তারা অহংকার করেছিল, নিমেষেই তা ধ্বংস হয়ে গেল।

সর্বস্ব হারিয়ে ভাইদের ভুল ভাঙল। তারা বুঝতে পারল, সম্পদ একা ভোগ করার জিনিস নয়, এর সাথে জড়িয়ে থাকে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার। তারা নিজেদের অন্যায়ের জন্য আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে তওবা করল। আল্লাহ অত্যন্ত দয়াময়; তিনি তাদের ক্ষমা করলেন এবং পরবর্তী সময়ে বাগানটিকে আবার সুমিষ্ট ফলে ভরিয়ে দিলেন।

এই ঘটনা আমাদের শেখায়, আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত পেয়ে যারা অহংকার করে এবং গরিবের হক নষ্ট করে, তাদের পতন অনিবার্য। অসহায়দের ভালোবাসা আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দরিদ্র মুমিনরা ধনীদের চেয়ে পাঁচ শ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাই সম্পদ জমিয়ে রাখা নয়, বরং তা বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই লুকিয়ে আছে প্রকৃত বরকত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক