ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ক্যারিয়ার গড়ুন সীমান্ত ব্যাংকে ত্রিশালে সরকারি বইসহ পিকআপ জব্দ, পলাতক মাদরাসা সুপার অবশেষে মায়ামিতে উরুগুয়ে দল খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার তৌহিদ আফ্রিদি ভারতের ভিসা আবেদনের অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন নির্দেশনা মহাখালী বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত, আলোচনায় সায়েদাবাদ-ফুলবাড়িয়া ব্রাজিলে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা গেল গায়ক অ্যামচেমের নতুন সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন নওগাঁয় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপন সরকার ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে: কৃষিমন্ত্রী মাদারীপুরে সংঘর্ষে আহত ১০, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২১৬৭ মামলা কিয়ামতের আদালতে সবচেয়ে ভয়ংকর সাক্ষী কে জানেন? ট্রাফিক মামলা নিষ্পত্তি করলেই ২৫ শতাংশ ছাড় বাজেটে ইতিবাচক উদ্যোগের পাশাপাশি উদ্বেগ জানিয়েছে রিহ্যাব জনবল নেবে ব্র্যাক ব্যাংক ম্যাচ শেষেই নির্বাসন, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বিধিনিষেধে ক্ষুব্ধ ইরানের কোচ ধর্ষণচেষ্টায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার, দল থেকে বহিষ্কার ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান নীল, সাদা রঙে রাঙা রংপুর, আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস তারপরও টুর্নামেন্ট উপভোগের বার্তা কুরাসাও কোচের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চান মোশাহিদ বিশ্বকাপের পুরো পারিশ্রমিকই পাচ্ছেন সোমালির রেফারি আরতান দেশে ফিরলেন ৫৬ হাজার ৮৬৮ হাজি, মারা গেছেন কতজন? রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব: জিএম কাদের মার্কিন-ইরান যুদ্ধের আবহে ফিফা বিশ্বকাপ কম আনন্দময়: ইরান অধিনায়ক ধোবাউড়ায় ৫ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, শরীরে ধর্ষণের আলামত রবীন্দ্র সরোবরে উদীচীর বর্ষা উৎসব রাঙামাটিতে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে মানববন্ধন
Nagad desktop

খুরুজের জোড় নিয়ে তাবলিগেরে মুরুব্বিদের নতুন নির্দেশনা

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৩৮ পিএম
খুরুজের জোড় নিয়ে তাবলিগেরে মুরুব্বিদের নতুন নির্দেশনা
টঙ্গী ময়দানের ছবি। খবরের কাগজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে খুরুজের জোড়সহ কোনো ধরনের সমাবেশ বা অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-৬ শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ বিষয়ে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম)-এর মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান খবরের কাগজকে জানান, আমাদের মুরুব্বিগণ সবসময় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তিনি বলেন, “আগামী ০২, ০৩ ও ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য খুরুজের জোড়ে যারা অংশগ্রহণ করতেন, অর্থাৎ যারা আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা ও ০৩ চিল্লার জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদেরকে টঙ্গী ইজতেমা মাঠে জমায়েত না হয়ে তাদেরকে নিজ নিজ জেলা ও এলাকা থেকেই বের হওয়ার জন্য মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যারা পাঁচ দিনের জোর থেকে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছিলেন তাদেরকেও ইজতেমা মাঠে এখন না এসে ওয়াক্ত পুরা করে আসার জন্য মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। টঙ্গী মাঠে কোনো ধরনের সমাবেশ হচ্ছে না।” 

তিনি আরও জানান, খুরুজের জোড় উপলক্ষে টঙ্গী মাঠে যে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ থেকে একটি টিম ও বিষয়গুলা পর্যবেক্ষণ করেন। 

অতীতের কয়েকটি সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন—প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাদপন্থীরা একাধিকবার সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ইজতেমা মাঠ প্রস্তুতির কাজে নিয়োজিত তাবলীগের সাথিদের ওপর হামলায় প্রায় পাঁচ হাজার সাথি আহত হন। একইভাবে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে পুনরায় হামলায় চারজন সাথি শহীদ হন এবং শতাধিক সাথি আহত হন। উভয় ঘটনার ক্ষেত্রেই সরকারের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি ছিল। এসব প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে নেক্কারজনক হামলার মাধ্যমে তাবলীগের মেহনতকে দেশ-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে সাদপন্থীরা।

তিনি বলেন, এসব জঘন্য ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষ নৈতিক ও নীতিগতভাবে ইজতেমা মাঠে কোনো ধরনের জোড় বা ইজতেমা আয়োজনের অধিকার হারিয়েছে। ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, সাদপন্থীরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ইজতেমা করতে পারবে, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে কোনো ধরনের ইজতেমা বা তাবলীগি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। যেহেতু তারা গতবছর ইজতেমা সম্পন্ন করে, অর্থাৎ ইজতেমা করার মাধ্যমে তারা শর্তকে মেনে নিয়েছে।  

হাবিবুল্লাহ রায়হান আরও বলেন— সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

কিয়ামতের আদালতে সবচেয়ে ভয়ংকর সাক্ষী কে জানেন?

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
কিয়ামতের আদালতে সবচেয়ে ভয়ংকর সাক্ষী কে জানেন?
ছবি: সংগৃহীত

সিসিটিভি ক্যামেরা কিংবা সাইবার নজরদারি এড়াতে আজকের দুনিয়ায় কত কৌশলী পথই না খোঁজে মানুষ! নামি আইনজীবীর চাতুর্য আর আইনের ফাঁক গলে অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার ঘটনাও অহরহ। কিন্তু এমন এক মহাজাগতিক আদালতের মুখোমুখি আমাদের হতেই হবে, যেখানে কোনো জাগতিক প্রভাব, তদবির বা আইনজীবীর সওয়াল-জবাব খাটবে না। যেখানে বিচারক স্বয়ং মহাবিশ্বের একমাত্র অধিপতি।

আজকের সভ্যতায় মানুষ নিজের প্রাইভেসি নিয়ে তুমুল সচেতন। অথচ শেষ বিচারের দিন মুমিন বান্দার গোপনীয়তার এক অনন্য ও অলৌকিক নজির দেখা যাবে। হযরত ইবনু ওমর (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানান, হাশরের মাঠে আল্লাহতায়ালা তাঁর মুমিন বান্দাকে নিজের কাছাকাছি এনে কুদরতি চাদরে ঢেকে নেবেন, যাতে অন্য কেউ তার পাপের কথা জানতে না পারে। একান্তে গুনাহের স্বীকারোক্তি শেষে যখন বান্দা নিজেকে ধ্বংসোন্মুখ ভাববে, তখন পরম করুণাময় বলবেন, দুনিয়াতে আমি তোমার অপরাধ ঢেকে রেখেছিলাম, আজ তা মাফ করে দিলাম। (মিশকাত, ৫৫৫১)। বিপরীতভাবে, অহংকারী ও মোনাফিকদের অপরাধ পুরো সৃষ্টির সামনে উন্মোচন করে দেওয়া হবে।

কোনো সাক্ষী বা প্রমাণ ছাড়া কেবল নিজের বাকপটুতা দিয়ে পার পাওয়ার শেষ চেষ্টা মানুষ করবে হাশরের মাঠেও। হযরত আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, এক বান্দা আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে দাবি করবে, নিজের অঙ্গ বা আপনজন ছাড়া সে বাইরের কারও সাক্ষ্য মানবে না। আল্লাহ তার এই দাবি মেনে নিয়ে তৎক্ষণাৎ তার মুখের ওপর মোহর বা সিল মেরে দেবেন। বাকশক্তি হারিয়ে ফেলা সেই মানুষের হাত, পা, চোখ আর ত্বক তখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার সমস্ত গোপন অপরাধের সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করবে। মুখের মোহর খোলার পর নিজের দেহের এই চরম বিশ্বাসঘাতকতায় স্তম্ভিত হয়ে মানুষটি আক্ষেপ করে বলবে, তোদের ধ্বংস হোক! তোদের বাঁচানোর জন্যই তো আমি এতক্ষণ বিতর্ক করছিলাম! (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৫৫৪)।

এই কঠিন আদালতের মুখোমুখি হওয়ার আগে যাপিত জীবনকে পাপাচারমুক্ত রাখার এক চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক দাওয়াই দিয়ে গেছেন সাহাবি জারির ইবনু আব্দুল্লাহ (রা.)। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে তিনটি বিষয়ে বিশেষ শপথ নিয়েছিলেন, নামাজ আদায় করা, জাকাত দেওয়া এবং সমাজের প্রতিটি মানুষের কল্যাণ কামনা করা (বুখারি, ৫৭; মুসলিম ৫৬)।

অন্যের পেছনে লাগা, ক্ষতি করা এবং গোপন ত্রুটি খুঁজে বেড়ানোর এই যুগে পরকালের মুক্তি লুকিয়ে আছে অন্যের দোষ আড়াল করার মধ্যে। আজ আমরা আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে যেভাবে ব্যবহার করছি, শেষ বিচারের দিন ঠিক সেভাবেই তারা আমাদের পক্ষে বা বিপক্ষে জবানবন্দি দেবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে চুলের সিঁথি কাটতেন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে চুলের সিঁথি কাটতেন
তিনি কখনো চুল অবিন্যস্ত রাখতেন না। ছবি: সংগৃহীত

ফ্যাশন বা স্টাইল নয়, আল্লাহর রাসুলের (সা.) চুল আঁচড়ানো ও সিঁথি কাটার পেছনেও ছিল এক চমৎকার আদর্শিক ও মনস্তাত্ত্বিক পটভূমি। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক তাঁর চুলের সুন্নাহর এক অনন্য অধ্যায়। বিশ্বনবির কেশবিন্যাসের সেই অজানা ইতিহাস জানলে আপনি মুগ্ধ হবেন।

ইসলাম শুধু মানুষের ভেতরটা পরিবর্তনের কথা বলে না, বরং বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যেরও নিখুঁত পাঠ দেয়। প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র অবয়ব, পোশাক এবং কেশবিন্যাসের প্রতিটি দিক ছিল অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। তাঁর চুল রাখার এবং সিঁথি কাটার অভ্যাসটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এক সুন্দর ঐতিহাসিক বিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

ইসলামের প্রথম যুগে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর পবিত্র মাথার চুল সামনের দিকে কপালে ও ঘাড়ের দিকে সোজা ঝুলিয়ে রাখতেন, কোনো সিঁথি করতেন না। সে সময় মক্কার মুশরিকরা মাথায় সিঁথি করত, আর ইহুদি ও খ্রীষ্টানরা (আহলে কিতাব) চুল ঝুলিয়ে রাখত। যেহেতু মুশরিকদের চেয়ে তাওহিদে বিশ্বাসী আহলে কিতাবদের প্রতি নবিজির (সা.) এক ধরনের পছন্দ ছিল, তাই যে বিষয়ে সরাসরি কোনো ওহি বা ঐশী নির্দেশনা আসত না, সে বিষয়ে তিনি আহলে কিতাবদের অনুকরণ করা পছন্দ করতেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর কেশ নিম্নদেশে ঝুলিয়ে রাখতেন (অর্থাৎ প্রথম দিকে তিনি সিঁথি করতেন না)। আর মুশরিকরা তাদের মাথায় সিঁথি করত। পক্ষান্তরে আহলে কিতাব তাদের মাথার চুল ঝুলিয়ে রাখত। প্রথম দিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে ব্যাপারে প্রত্যাদেশ না পেতেন, সেসব ব্যাপারে আহলে কিতাবদের অনুসরণ পছন্দ করতেন। এর পর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর কেশকে সিঁথি করতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৫৫৮; সুনানে নাসাঈ, হাদিস নম্বর: ৫২৩৮; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৬০৫)

নবিজির (সা.) এই অভ্যাসে পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন আসে। আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশনা বা ইঙ্গিত পাওয়ার পর তিনি চুল ঝুলিয়ে রাখা ছেড়ে দেন এবং মাথার মাঝখান থেকে সুন্দর করে সিঁথি করা শুরু করেন। জীবনের শেষভাগ পর্যন্ত তিনি এই নিয়মই বজায় রেখেছিলেন। সাধারণত আমরা মনে করি বেণি করা কেবল নারীদের সৌন্দর্য। কিন্তু আরব সংস্কৃতি এবং সফরের সুবিধার্থে পুরুষদের দীর্ঘ চুল থাকলে তা গুছিয়ে রাখার চমৎকার এক পদ্ধতি ছিল এটি। মক্কা বিজয়ের সময় যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তাঁর চুল মোবারক চার ভাগে চমৎকারভাবে বিন্যস্ত ছিল।

উম্মে হানি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আমি চুলের চারটি বেণী বাঁধা অবস্থায় দেখেছি।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২৭৪৩০; আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী, ২০৪৮৩)। নবিজির (সা.) অবয়ব সিরিজের এই অংশটি আমাদের শেখায় যে, চুলের যত্ন নেওয়া এবং তা পরিপাটি রাখা সুন্নাহ। তিনি যেমন কখনো চুল অবিন্যস্ত রাখতেন না, তেমনি প্রতিটি আচরণের পেছনে উম্মাহর জন্য রেখে গেছেন সুনির্দিষ্ট আদর্শ।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৫ জুন ২০২৬, সোমবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৬ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে ডাকের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর ভালোবাসা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে ডাকের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর ভালোবাসা
ছবি: সংগৃহীত

আমরা প্রতিনিয়ত পাপ করি, আবার নিজেই নিজের ভাগ্যের ওপর দোষ চাপাই। কিন্তু আপনি কি জানেন, মহান আল্লাহ আমাদের ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে নিজের ভুলগুলো অনুধাবন করার তাগিদ দিয়েছেন?

ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু বাণী আছে যা সরাসরি আল্লাহর কথা, কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জবানীতে আমাদের কাছে পৌঁছেছে; পরিভাষায় একে বলা হয় ‘হাদিসে কুদসি’। হযরত আবুজর গিফারি (রা.) বর্ণিত সহিহ মুসলিমের একটি দীর্ঘ ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হাদিসে মহান আল্লাহ মানবজাতিকে এক অদ্ভুত সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।

এই বাণীর শুরুতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, তিনি নিজের ওপর জুলুম বা অন্যায়কে হারাম করেছেন এবং মানুষের সমাজেও একে নিষিদ্ধ করেছেন। এর পর মানুষের চরম অসহায়ত্ব ও আল্লাহর অসীম ক্ষমতার এক চমৎকার বৈপরীত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আল্লাহ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষের হিদায়াত, খাদ্য ও বস্ত্রের কোনো স্বাধীন ক্ষমতা নেই; সবই আল্লাহর দান। মানুষ দিন-রাত পাপ করলেও আল্লাহর দরবার ক্ষমা করার জন্য সর্বদা উন্মুক্ত।

তবে এই হাদিসের সবচেয়ে চোখ খোলার মতো অংশটি হলো আল্লাহর ‘অমুখাপেক্ষী’ হওয়ার ধারণা। সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত মানুষ ও জিন যদি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পুণ্যবান বা সবচেয়ে বড় পাপী হয়ে যায়, তাতে আল্লাহর রাজত্বের এক চুলও লাভ বা ক্ষতি হবে না। সৃষ্টির সব চাওয়া একসঙ্গে পূরণ করলেও আল্লাহর ভাণ্ডারে কোনো কমতি পড়ে না।

আসলে আল্লাহ মানুষের এই পুরো জীবনটাকে একটি পরীক্ষার খাতা হিসেবে দেখছেন। তিনি আমাদের সমস্ত আমল বা কর্ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংরক্ষণ করছেন। দিনশেষে মানুষ যে ভালো বা মন্দ ফলাফল পাবে, তা তার নিজের কর্মেরই ফল। তাই প্রাপ্তিতে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আর ব্যর্থতায় নিজেকেই সংশোধন করার বার্তা দিয়ে শেষ হয় এই ঐশী সংলাপ।

প্রচলিত ধারণা হলো, আমাদের ইবাদত বোধহয় আল্লাহর রাজত্বকে বড় করে। কিন্তু এই হাদিস আমাদের সম্পূর্ণ নতুন এক দর্শন শেখায়–আল্লাহর আমাদের প্রয়োজন নেই, আমাদেরই আল্লাহকে প্রয়োজন। আমরা সফল হলে তা আল্লাহর দয়া, আর ব্যর্থ হলে তা আমাদের নিজেদের কর্মের ত্রুটি।

লেখক: আলেম ও সাংকবাদিক 

আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

কোনো মানুষের দুনিয়ায় জনপ্রিয় হওয়া বা মানুষের হৃদয়ে স্থান পাওয়া কি কেবলই তার বাহ্যিক যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো আসমানী রহস্য? সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং বন্ধুত্বের ধরন কীভাবে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার মাধ্যম হতে পারে–তা নিয়ে ইসলাম এক অভিনব দর্শন দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রামাণ্য হাদিসগুলো বিশ্লেষণ করলে সামাজিক বন্ধন ও আত্মিক শুদ্ধির এক অনন্য রূপরেখা আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়।

দুনিয়ার বুকে মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার এক গোপন সূত্র রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি চমৎকার হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাঈল (আ.)-কে ডেকে বলেন যে, তিনি অমুককে ভালোবাসেন। ফলে জিবরাঈল (আ.) এবং আকাশের সমস্ত ফেরেশতা তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। এর পর: সে ব্যক্তির জন্য জমিনেও জনপ্রিয়তা দান করা হয় (মুসলিম, মিশকাত হা/৫০০৫)।বিপরীতে, আল্লাহ কোনো বান্দাকে ঘৃণা করলে আসমানী ফেরেশতাদের মাধ্যমে জমিনের মানুষের হৃদয়েও তার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয়।

মানুষের জীবনে বন্ধু বা সঙ্গীর প্রভাব কতটা গভীর, তা বোঝাতে রাসুল (সা.) এক অনন্য উদাহরণ দিয়েছেন। আবু মুসা আশয়ারী (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, ভালো ও মন্দ বন্ধুর দৃষ্টান্ত হলো যথাক্রমে আতর বিক্রেতা ও কামারের হাঁপড়ের মতো। আতর বিক্রেতার কাছ থেকে কিছু না কিনলেও সুঘ্রাণ পাওয়া যায়, আর কামারের কাছে গেলে জামা-কাপড় না পুড়লেও তার ধোঁয়ার দুর্গন্ধ সহ্য করতেই হয় (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত হা/৫০১০)।

নিছক পার্থিব স্বার্থের বাইরে গিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গড়ে ওঠা সম্পর্কের মূল্য অপরিসীম। মুয়ায ইবনু জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা বলেন, যারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালোবাসে, সমাবেশে মিলিত হয়, সাক্ষাৎ করে এবং সম্পদ ব্যয় করে, তাদের জন্য আল্লাহর ভালোবাসা অবধারিত (মালেক, মিশকাত হা/৫০১১)। আর এই ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখতে মিকদাদ ইবনু মা‘দীকারাব (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) এক মনস্তাত্ত্বিক ফর্মুলা দিয়েছেন–কেউ তার কোনো ভাইকে ভালোবাসলে সে যেন তাকে তা জানিয়ে দেয় (আবু দাঊদ, হা/৫০১৬)।

সামাজিক এই সুসম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি রূপ নেয় পরকালের শান্তিতে। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) এমন একদল মানুষের সুসংবাদ দিয়েছেন যাদের জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম। তারা হলেন এমন ব্যক্তিবর্গ–যাদের মেজাজ নরম, স্বভাব কোমল, মানুষের সঙ্গে মিশুক এবং আচরণ অত্যন্ত সরল সহজ (তিরমিজি, হা/৫০৮৪)। আসমানী ভালোবাসা অর্জন, সৎসঙ্গের সান্নিধ্য এবং মানুষের সঙ্গে কোমল আচরণের মাধ্যমেই একটি আদর্শ সমাজ গঠন সম্ভব, যা মানুষকে পরকালের কঠিন আগুন থেকে রক্ষা করবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক