আল্লাহর বন্ধুকে কেউ কষ্ট দিলে, তার সাথে শত্রুতা করলে, তাকে যন্ত্রণা দিলে এবং তার ক্ষতি করতে চাইলে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বন্ধুর পক্ষ হয়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা করলাম। আচ্ছা, এমন কেউ কি আছে যে আল্লাহ তায়ালার সাথে যুদ্ধ করতে সক্ষম? তিনি তো এমন শক্তিশালী সত্তা, যাঁকে পরাজিত করা যায় না এবং কেউই তাঁর সাথে যুদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে না।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আর আসমান ও জমিনের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই।' তিনি তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বাহিনী লেলিয়ে দেন। যেমন, রোগ-ব্যাধি, শয়তান ইত্যাদি এমনকি তার বিরুদ্ধে মশা ও মাছি পর্যন্ত লেলিয়ে দেন। তিনি তাঁর বাহিনী থেকে এমন কিছু তার উপর চাপিয়ে দেন যা তাকে কষ্ট দেয় ও অস্থির করে তোলে। সুতরাং, মুমিন বান্দাদেরকে গীবত, চোগলখুরি বা কোনো মন্দ কথ বা কাজ ইত্যাদির মাধ্যমে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
কারণ আল্লাহ তাদের পক্ষ হয়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী। বরং তাদেরকে ভালোবাসা এবং সাহায্য-সমর্থন করা আপনার উপর ওয়াজিব; কেননা আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করোয়।' (সুরা আহযাব, ৫৮)
তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নৈকট্য লাভের দুটি পথের কথা উল্লেখ করেন-
প্রথম: ফরজ ইবাদাত। ফরজ আমলই হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়।
দ্বিতীয়: নফল ইবাদাত। বান্দা যখন নফল ইবাদাতের মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হতে থাকে, তখন আল্লাহ তাকে ভালোবেসে ফেলেন। আর এই ভালোবাসার প্রতিদান কী? এর প্রতিদান হলো, আল্লাহ তায়ালা তাকে এমনভাবে পরিচালিত করেন যে, সে কেবল তাই শোনে, যা আল্লাহ পছন্দ করেন। সে কেবল তাই দেখে, যা আল্লাহ পছন্দ করেন। তার হাত-পা কেবল আল্লাহর পছন্দনীয় কাজেই ব্যবহৃত হয়। সে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে অবশ্যই দান করেন। আর যদি সে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে অবশ্যই আশ্রয় দেন। এটি আল্লাহর বন্ধুদের এক মহান মর্যাদা, যা কেবল তারাই লাভ করতে পারে, যারা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ এবং তাঁর ভালোবাসায় সিক্ত।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক