‘আমলে সালেহ’ একটি বহুল ব্যবহৃত ইসলামি পরিভাষা, যার আভিধানিক অর্থ হলো উত্তম কাজ বা সৎকর্ম। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে, আমলে সালেহ বলতে সেসব সৎকর্মকে বোঝানো হয়—যা মহান আল্লাহতায়ালার দেখানো পথে, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এবং বিশুদ্ধ নিয়তে সম্পন্ন করা হয়। আমলে সালেহ কেবল ইবাদত-বন্দেগির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানবজীবনের প্রতিটি ভালো কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মাধ্যমেই একজন মুমিন তার জীবনে পবিত্রতা আনে এবং পরকালীন মুক্তির পথ সুগম করে।
পবিত্র কোরআনুল কারিমে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেন, ‘আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে মুহাম্মদের প্রতি অবতীর্ণ সত্যে বিশ্বাস করে, আল্লাহ তাদের মন্দ কর্মসমূহ মার্জনা করেন এবং তাদের অবস্থা ভালো করে দেন।’ (সুরা মুহাম্মদ, ২)
আমলে সালেহ কী কী? ‘আমলে সালেহ’-এর পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। নিচে এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো—
ইমান ও তাওহিদ: আমলে সালেহ কবুল হওয়ার প্রথম শর্ত হলো খাঁটি ইমানের অধিকারী হওয়া এবং কুফরি ও শিরক (আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন) থেকে মুক্ত থাকা।
ফরজ ইবাদত: নামাজ, রোজাসহ ইসলামের মৌলিক ফরজ বিধানগুলো বিশুদ্ধভাবে ও সময়মতো আদায় করা।
পারিবারিক দায়িত্ব: পিতামাতার সেবা করা এবং তাদের প্রতি সদাচরণ করা।
আর্থিক কর্তব্য: সামর্থ্য থাকলে সঠিকভাবে জাকাত আদায় করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী প্রকাশ্যে বা গোপনে দান-সদকা করা।
শারীরিক ইবাদত: সামর্থ্য থাকলে জীবনে একবার হজ করা।
চারিত্রিক গুণাবলি: নম্র, ভদ্র, বিনয়ী হওয়া, সত্যবাদী হওয়া এবং সকল প্রকার চারিত্রিক উত্তম গুণাবলি অর্জন করা।
আচরণগত পবিত্রতা: কাউকে কথা দিয়ে আঘাত না করা, মিথ্যাচার, হিংসা ও পরনিন্দা থেকে দূরে থাকা।
সামাজিক উপকার: হাসিমুখে কথা বলা, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমলে সালেহ। এ ছাড়া অন্যের উপকার করা—সেটা অর্থ বা কথা দিয়ে সহায়তা করাই হোক কিংবা রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়াই হোক।
আমলে সালেহর গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘আর যারা ইমান আনে আর সৎকর্ম করে, অবশ্যই আমি তাদের থেকে তাদের পাপসমূহ দূর করে দেব এবং আমি অবশ্যই তাদের সেই উত্তম আমলের প্রতিদান দেব, যা তারা করত।’ (সুরা আনকাবুত, ৭)
সুতরাং, আমলে সালেহ বা উত্তম করতে হলে ইবাদতের পাশাপাশি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। কারণ, এই সৎকর্মই আখিরাতে আমাদের মুক্তির একমাত্র পুঁজি।
লেখক: প্রাবন্ধিক