সৃষ্টির আদিতেই মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, তিনি জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্য। তবে মানুষ হিসেবে আমরা চলার পথে প্রতিনিয়ত নানা ভুল ও পাপাচারে লিপ্ত হই। কিন্তু দয়াময় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য রেখেছেন তওবা ও ক্ষমার দ্বার। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো তাঁর জিকির বা স্মরণ। আর জিকির ও দোয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলো আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা, যাকে ইসলামি পরিভাষায় বলা হয় ‘ইস্তিগফার’।
সাইয়েদুল ইস্তিগফার কী?
ইস্তিগফার শব্দের অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা করা। নবি করিম (সা.) অসংখ্য দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন। তবে এসব দোয়ার মধ্যে একটি বিশেষ দোয়াকে তিনি ‘সাইয়েদুল ইস্তিগফার’ বা ‘ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর কারণ হলো, এই দোয়ার শব্দগুলোতে বান্দার বিনয়, মহান আল্লাহর রবুবিয়াত (প্রভুত্ব), বান্দার অসহায়ত্ব এবং আল্লাহর অসীম দয়ার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছে।
দোয়ার উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রব্বি। লা ইলাহা ইল্লা আনতা। খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা। ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাতাতু। আউজু বিকা মিন শাররি মা-সানাআ’তু। আবুয়ু লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা। ওয়া আবুয়ু লাকা বি জাম্বি। ফাগফিরলি। ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনবা ইল্লা আনতা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রভু, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ বা মাবুদ নেই; আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনারই গোলাম। আমি আপনার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের ওপর সাধ্যমতো অটল আছি। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার কৃতকর্মের অকল্যাণ ও ক্ষতি হতে। আমার প্রতি আপনার দেওয়া সব নেয়ামত আমি স্বীকার করছি এবং আপনার সমীপে আমার সব অপরাধও স্বীকার করছি। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া ক্ষমা করার আর কেউ নেই। (সুনানে নাসায়ি: ৫৫২১, সহিহ বুখারি)
জান্নাত লাভের নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি
সাইয়েদুল ইস্তিগফারের ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক অসামান্য সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি দিনের বেলা পূর্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে এই দোয়াটি পাঠ করবে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যাবে, সে জান্নাতি হবে। আর যে ব্যক্তি রাতের বেলা পূর্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে এটি পাঠ করবে এবং সকাল হওয়ার আগে মারা যাবে, সে জান্নাতি হবে।’ (সহিহ বুখারি)
কখন পাঠ করবেন?
ক্ষমা প্রার্থনার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই; যখনই মানুষ নিজের পাপের জন্য অনুতপ্ত হবে, তখনই আল্লাহর দরবারে হাত তোলা উচিত। তবে রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ও ওলামায়ে কেরামদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন সকালে (ফজরের পর) এবং রাতে (মাগরিব বা এশার পর) এই দোয়াটি পাঠ করা সবচেয়ে উত্তম ও বরকতময়।
মানুষ হিসেবে আমরা কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নই। প্রতিদিনের ব্যস্ততায় আমরা যেন মহান রবের স্মরণ ও ক্ষমা প্রার্থনা থেকে বিচ্যুত না হই। বিশেষ করে সাইয়েদুল ইস্তিগফার পাঠের মাধ্যমে আমরা কেবল গুনাহ থেকেই মুক্ত হব না, বরং এটি আমাদের পরকালীন চিরস্থায়ী সুখের নীড় ‘জান্নাত’ লাভের পথকেও প্রশস্ত করবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে নিয়মিত এই শ্রেষ্ঠ দোয়ার আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।