শিশুরা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া পবিত্র আমানত ও জান্নাতের ফুল। প্রতিটি মা-বাবাই চান তাদের কলিজার টুকরো সন্তানরা সব ধরনের অনিষ্ট, রোগ-বালাই ও বদনজর থেকে নিরাপদে থাকুক। শিশুদের সুরক্ষায় ইসলামে অত্যন্ত কার্যকর ও সুন্দর আমল বর্ণিত হয়েছে। স্বয়ং বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর দুই প্রাণপ্রিয় নাতি হজরত হাসান ও হজরত হুসাইন (রা.)-এর নিরাপত্তার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।
হাসান-হুসাইনের (রা.) জন্য নবিজির আমল
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) হাসান ও হুসাইনকে রক্ষার জন্য নিচের দোয়াটি পাঠ করতেন। এটি কেবল তাঁর নাতিদের জন্যই নয়, বরং কিয়ামত পর্যন্ত আসা সব শিশুর নিরাপত্তার জন্য একটি অব্যর্থ আমল। নবিজি (সা.) যে দোয়াটি পাঠ করতেন তা হলো: ‘উয়িজুকুমা বিকালিমাাতিল্লাহিত তা-ম্মাতি মিন কুল্লি শাইত্বানিওঁ ওয়া হা-ম্মাতিন, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লা-ম্মাতিন।’
অর্থ: ‘আমি তোমাদের উভয়ের জন্য আল্লাহর পরিপূর্ণ কল্যাণময় কালামের মাধ্যমে প্রতিটি শয়তান, বিষাক্ত জীবজন্তু এবং অনিষ্টকারী কুদৃষ্টি (বদনজর) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (সুনানে তিরমিজি)
নবিদের ঐতিহ্যবাহী দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি পড়ার সময় বলতেন, ‘তোমাদের আদি পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)ও তাঁর দুই সন্তান হজরত ইসহাক ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর জন্য এই দোয়ার মাধ্যমেই আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন।’ এ থেকে বোঝা যায়, সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা সব নবী-রাসুলেরই চিরন্তন আদর্শ।
কেন এই দোয়াটি গুরুত্বপূর্ণ?
সমাজে বদনজর বা কুদৃষ্টির প্রভাব একটি বাস্তব সত্য। ছোট শিশুরা অনেক সময় কারণে-অকারণে কান্নাকাটি করে বা অসুস্থ হয়ে পড়ে, যার পেছনে অনেক সময় শয়তানের প্রভাব বা বদনজর কাজ করে। নবিজি (সা.)-এর শেখানো এই দোয়াটি শিশুদের ওপর থেকে যাবতীয় অশুভ শক্তি ও বিষাক্ত প্রাণীর ক্ষতি দূর করতে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
মা-বাবাদের প্রতি পরামর্শ
প্রতিটি মুসলিম মা-বাবার উচিত প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় এবং শিশুদের বাইরে নেওয়ার সময় বা ঘুমানোর আগে এই দোয়াটি পাঠ করে তাদের ফুঁ দেওয়া। নিজের সন্তানের সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার পাশাপাশি নবিজির (সা.) শেখানো এই সুন্নতি আমলটি হতে পারে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। আল্লাহতায়ালা আমাদের সন্তানদের যাবতীয় অনিষ্ট ও বদনজর থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক