ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের লাল বাহাদুর দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিল শিবিরে ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় সম্মতি রাশিয়ার পাঠকের গল্প : বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার চায়নিজ জামাই চাকরি দেবে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি গুগল এআই প্রো নিয়ে এল টেকনো ব্রাজিলিয়ানদের সুখবর দিলেন নেইমার রংপুরে ওয়ার্ডভিত্তিক অপরাধচক্র শনাক্তের নির্দেশ আরপিএমপির ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের লিফলেট তৈরির সময় আটক ২ দেশের ১৬ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস পড়ে পাওয়া গল্প থেকে ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ইরান-ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হলেও হুমকি চলছে দিনাজপুরে বেড়ার হোটেলে নিম্নমানের খাবারসহ একাধিক অভিযোগ ইরানে হামলা চালালে একাই লড়তে হবে: নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু বিশ্বকাপ নিয়ে অনারের ক্যাম্পেইন, ফোন-ট্যাবলেটসহ পুরস্কার জেতার সুযোগ বিশ্বকাপের আগে জয়ের ধারায় ফিরল স্পেন ইরান ও হিজবুল্লাহ আগের চেয়েও দুর্বল: নেতানিয়াহু বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস আজ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর: বাতিল হতে পারে ৬ বিষয়ে অনার্স কোর্স টিভিতে আজকের খেলা
Nagad desktop

লালমনিরহাট জেলার সাহরি-ইফতারের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
লালমনিরহাট জেলার সাহরি-ইফতারের সময়সূচি
ছবি: খবরের কাগজ

 

রমজান

তারিখ (ফেব্রু-মার্চ)

বার

সাহরির শেষ সময়

ফজরের আজান

ইফতারের সময়

০১

১৯ ফেব্রুয়ারি

বৃহস্পতিবর

৫:১৬

৫:২০

৬:০০

০২

২০ ফেব্রুয়ারি

শুক্রবার

৫:১৬

৫:২০

৬:০০

০৩

২১ ফেব্রুয়ারি

শনিবার

৫:১৫

৫:১৯

৬:০১

০৪

২২ ফেব্রুয়ারি

রবিবার

৫:১৪

৫:১৮

৬:০২

০৫

২৩ ফেব্রুয়ারি

সোমবার

৫:১৩

৫:১৭

৬:০২

০৬

২৪ ফেব্রুয়ারি

মঙ্গলবার

৫:১৩

৫:১৬

৬:০৩

০৭

২৫ ফেব্রুয়ারি

বুধবার

৫:১২

৫:১৫

৬:০৩

০৮

২৬ ফেব্রুয়ারি

বৃহস্পতিবার

৫:১১

৫:১৫

৬:০৪

০৯

২৭ ফেব্রুয়ারি

শুক্রবার

৫:১০

৫:১৪

৬:০৫

১০

২৮ ফেব্রুয়ারি

শনিবার

৫:০৯

৫:১৩

৬:০৫

১১

০১ মার্চ

রবিবার

৫:০৮

৫:১২

৬:০৬

১২

০২ মার্চ

সোমবার

৫:০৭

৫:১১

৬:০৬

১৩

০৩ মার্চ

মঙ্গলবার

৫:০৬

৫:১০

৬:০৭

১৪

০৪ মার্চ

বুধবার

৫:০৬

৫:০৯

৬:০৭

১৫

০৫ মার্চ

বৃহস্পতিবার

৫:০৫

৫:০৮

৬:০৮

১৬

০৬ মার্চ

শুক্রবার

৫:০৪

৫:০৭

৬:০৯

১৭

০৭ মার্চ

শনিবার

৫:০৩

৫:০৬

৬:০৯

১৮

০৮ মার্চ

রবিবার

৫:০২

৫:০৫

৬:১০

১৯

০৯ মার্চ

সোমবার

৫:০১

৫:০৪

৬:১০

২০

১০ মার্চ

মঙ্গলবার

৫:০০

৫:০৩

৬:১১

২১

১১ মার্চ

বুধবার

৪:৫৯

৫:০২

৬:১১

২২

১২ মার্চ

বৃহস্পতিবার

৪:৫৮

৫:০১

৬:১২

২৩

১৩ মার্চ

শুক্রবার

৪:৫৭

৫:০০

৬:১২

২৪

১৪ মার্চ

শনিবার

৪:৫৬

৪:৫৯

৬:১৩

২৫

১৫ মার্চ

রবিবার

৪:৫৪

৪:৫৮

৬:১৩

২৬

১৬ মার্চ

সোমবার

৪:৫৩

৪:৫৭

৬:১৪

২৭

১৭ মার্চ

মঙ্গলবার

৪:৫২

৪:৫৬

৬:১৪

২৮

১৮ মার্চ

বুধবার

৪:৫১

৪:৫৫

৬:১৫

২৯

১৯ মার্চ

বৃহস্পতিবার

৪:৫০

৪:৫৩

৬:১৫

৩০

২০ মার্চ

শুক্রবার

৪:৪৯

৪:৫২

৬:১৬

 

শামায়েল কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ, নয়ন ও চরণ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম
কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ, নয়ন ও চরণ
ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি কখনো এমন কোনো নয়নের কথা কল্পনা করেছেন, যার শুভ্রতার মাঝে লুকিয়ে ছিল এক মায়াবী লালিমা? কিংবা এমন এক অনন্য বাচনভঙ্গির কথা, যা কোনো কৃত্রিম মাইক্রোফোন ছাড়াই হাজারও মানুষের জনসমুদ্রে স্পষ্ট শোনা যেত? সাহাবি হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.) যখনই প্রিয় নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারার দিকে তাকাতেন, তাঁর দৃষ্টি থমকে যেত নবিজির চোখ এবং মুখের এক অপার্থিব সৌন্দর্যের কাছে। চলুন, আজ নবিজির মুখাবয়ব, ডাগর চক্ষু এবং পায়ের গোড়ালির চমৎকার এক শারীরিক রহস্য উন্মোচন করি।

হাদিসের নিখুঁত পরিভাষা ও সাহাবিদের বিবরণ থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর মুখ মোবারক ছিল বেশ প্রশস্ত (মুসলিম,৬২১৬)। আরবের প্রখ্যাত বর্ণনাকারী সিমাক (রহ.) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এর অর্থ হলো– তিনি ‘বড় মুখগহ্বর বিশিষ্ট’ বা সুন্দর ও সুললিত বাচনভঙ্গির অধিকারী ছিলেন। মানব শরীরের গঠনশৈলী ও প্রাচীন আরবের অলঙ্কারশাস্ত্র অনুযায়ী, প্রশস্ত মুখগহ্বর হওয়া উচ্চ কণ্ঠস্বর, স্পষ্ট উচ্চারণ এবং অসাধারণ বাগ্মিতার লক্ষণ। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি যখন কথা বলতেন, তখন প্রতিটি শব্দ মুক্তোর মতো ঝরে পড়ত এবং দূর-দূরান্তের মানুষও তা কোনো অস্পষ্টতা ছাড়াই শুনতে পেত।

নবিজি (সা.)-এর চোখের গঠন ছিল অতুলনীয়। তিনি ছিলেন ডাগর বা বড় চক্ষুর অধিকারী (মুসলিম,৬২১৬)। তাঁর চোখের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল, চোখের সাদা অংশের মাঝে এক ধরনের হালকা ও সূক্ষ্ম লালিমার আভা ছড়িয়ে থাকত (মুসনাদে আহমাদ, ২১০২৪)। এটি কোনো ক্লান্তির লক্ষণ ছিল না, বরং এই স্বাভাবিক লালিমা তাঁর ডাগর চোখ দুটিকে এক অনন্য তেজস্বী, গম্ভীর এবং মায়াবী রূপ দান করেছিল, যা দেখামাত্রই মানুষের অন্তরে শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হতো।

নবিজি (সা.)-এর পায়ের গোড়ালি মোবারক ছিল সাধারণ মানুষের তুলনায় স্বল্প মাংসল বা সরু (সহিহ ইবনে হিব্বান,৬২৮৯)। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, পায়ের গোড়ালি হালকা ও সরু হওয়া দ্রুত হাঁটার ক্ষমতা, ক্ষিপ্রতা এবং ক্লান্তিহীন পথ চলার শারীরিক সক্ষমতাকে নির্দেশ করে। এই চমৎকার শারীরিক কাঠামোর কারণেই তিনি আরবের উত্তপ্ত বালুকারাশির ওপর দিয়ে মাইলের পর মাইল ক্লান্তিহীনভাবে হেঁটে দাওয়াতের কাজ সম্পন্ন করতে পারতেন (জামেউস সগির, ৮৯৫২)।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

৯ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:১৬ এএম
৯ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে। 

আজ ৯ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (১০ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.)

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.)
ছবি: সংগৃহীত

আমাদের জীবনে আনন্দ ও উদযাপনের মুহূর্তগুলো নানা রূপে আসে। কখনো পরীক্ষায় ভালো ফলাফল, কখনো চাকরিতে কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি, ব্যবসায়িক সাফল্য কিংবা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন—সবই মানুষের মনকে এক অনাবিল প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়। বিজয়ের এই আনন্দঘন মুহূর্তে মানুষ সাধারণত উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। কিন্তু একজন মুমিনের আনন্দ প্রকাশের ধরণ সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, যেকোনো অর্জনের পেছনে নিজের মেধার চেয়ে মহান আল্লাহর অনুগ্রহই প্রধান। তাই সাফল্যের চূড়ায় দাঁড়িয়ে অহংকারী না হয়ে আল্লাহর দরবারে বিনম্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

রাসূলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো বড় সাফল্য, বিজয় বা কাঙ্ক্ষিত অর্জন লাভ করতেন, তখনই তিনি পরম স্রষ্টার প্রতি শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এক বিশেষ দোয়া পাঠ করতেন। ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের মতো মহিমান্বিত মুহূর্তেও আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর অবয়বে কোনো অহংকার ছিল না, বরং তাঁর হৃদয় ছিল আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতায় নত।

বিজয় ও সাফল্যের সেই বিশেষ মুহূর্তে রাসুল (সা.) যে দোয়াটি নিয়মিত পড়তেন, তা নিচে দেওয়া হলো: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَصَرَ عَبْدَهُ وَأَعَزَّ دِينَهُ
বাংলা উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি নাসারা আবদাহু ওয়া আ-আজ্জা দ্বীনাহ।
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর দ্বীনকে (জীবনবিধানকে) শক্তিশালী ও সম্মানিত করেছেন।

আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে আমরা যখনই কোনো সফলতা পাই, মনের অজান্তেই আমাদের ভেতর আমি বা অহংকারবোধ জাগ্রত হয়। আমরা মনে করি, এই অর্জন কেবলই আমাদের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। অথচ আমাদের চারপাশে কত মানুষই না রাতদিন চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না। তাই যেকোনো বড় অর্জনে এই দোয়াটি পাঠ করার মাধ্যমে মানুষ নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে এবং সমস্ত সফলতার কৃতিত্ব মহান আল্লাহকে উৎসর্গ করে। এটি মানুষের মন থেকে অহংকার দূর করে তাকে বিনয়ী করে তোলে।

কৃতজ্ঞতা কেবল একটি শব্দ নয়, এটি এক পরম ইবাদত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দেব। (সুরা ইবরাহিম, ৭)

লেখক: শিক্ষিকা, মাদরাসা ফাতেমাতুজ জাহরা, মুহাম্মদপুর।

জবানের যে ছোট্ট কথায় অফুরন্ত সওয়াব মেলে

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
জবানের যে ছোট্ট কথায় অফুরন্ত সওয়াব মেলে
ছবি: সংগৃহীত

দৈনিক চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে কত হাজারও কথা আমরা বলি, যার সিংহভাগই অর্থহীন। অথচ যদি জানতেন, জিহ্বা নড়াচড়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের কিছু সহজ বাক্যে আপনার জীবনের সব পাপ ধুয়ে-মুছে যেতে পারে, এমনকি কিয়ামতের দিন আপনার নেকির পাল্লা পাহাড়ের চেয়েও ভারী হয়ে যেতে পারে! রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন কিছু জাদুকরী ও সংক্ষিপ্ত জিকির শিখিয়েছেন, যা একদিকে উচ্চারণে পানির মতো সহজ, অন্যদিকে এর আধ্যাত্মিক ওজন মহাবিশ্বের চেয়েও বিশাল।

আমরা যখন কারও প্রশংসা করি, তখন অনেক ভেবেচিন্তে শব্দ চয়ন করতে হয়। কিন্তু মহাবিশ্বের মালিক আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় শব্দগুলো আমাদের মুখের একদম কাছেই রয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুটি কালেমা (বাক্য) রয়েছে, যা দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, উচ্চারণে খুবই সহজ এবং মিজানের (আমলের) পাল্লায় অত্যন্ত ভারী। তা হলো: ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম’। (বুখারি, ৬৪০৬; মুসলিম, ২৬৯৪)

দিনের শুরুতে বা যেকোনো সময় একটি বিশেষ দোয়া ১০০ বার পাঠ করলে যে অলৌকিক নিরাপত্তা ও সওয়াব পাওয়া যায়, তা সমকালীন যেকোনো সাইবার সিকিউরিটি বা বডিগার্ডের চেয়েও শক্তিশালী।

আরো পড়ুন: কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায়

রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দিনে একশবার পড়বেন–লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির, তার ১০টি দাস মুক্ত করার সওয়াব হবে, ১০০টি নেকি লেখা হবে এবং ১০০টি গুনাহ মাফ হবে। সবচেয়ে বড় কথা, সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি তাঁর জন্য শয়তান থেকে বাঁচার ‘রক্ষামন্ত্র’ হবে। (বুখারি, ৩২৯৩; মুসলিম, ২৬৯৩)

পাশাপাশি, কেউ যদি দিনে ১০০ বার শুধু ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করে, তবে তার সমস্ত পাপ সমুদ্রের ফেনার পরিমাণ হলেও তা ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আমরা শূন্যস্থান বা ভ্যাকুয়াম বলতে যা বুঝি, ইসলামে আধ্যাত্মিক সওয়াব দিয়ে তা পূরণের এক অবিশ্বাস্য সমীকরণ দেওয়া হয়েছে।
হযরত আবু মালেক আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, পবিত্রতা অর্ধেক ঈমান। আর ‘আলহামদু লিল্লাহ’ দাঁড়িপাল্লাকে ভরে দেয় এবং ‘সুবহানাল্লাহ’ ও ‘আলহামদু লিল্লাহ’ আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী শূন্যতাকে (সওয়াব দিয়ে) পূর্ণ করে দেয়।( মুসলিম, ২২৩; তিরমিজি, ৩৫১৭)

আরো পড়ুন: স্বপ্নে গান শোনা, আসলে কীসের ইঙ্গিত?

ফরজ নামাজ শেষ করেই আমরা অনেকে তাড়াহুড়ো করে উঠে যাই। অথচ স্বয়ং বিশ্বনবি (সা.) নামাজ শেষ করে একটি রাজকীয় অভ্যাস বজায় রাখতেন। হযরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন নামাজ শেষে সালাম ফেরাতেন, তখন প্রথমে তিনবার ইস্তিগফার করতেন (বলতেন, আস্তাগফিরুল্লাহ) এবং তারপর পড়তেন: ‘আল্লাহুম্মা আন্তাস সালামু ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া যাল-জালালি ওয়াল ইকরাম’। (মুসলিম, ৫৯১; আবু দাউদ, ১৫১২)

বেদুইনদের সাধারণ প্রশ্ন থেকে শুরু করে নামাজের পরের বিশেষ আমল, সবখানেই রাসুল (সা.) আমাদের দেখিয়েছেন কীভাবে অল্প পরিশ্রমে আখেরাতের সর্বোচ্চ ধনী হওয়া যায়। এই জিকিরগুলো কেবল মুখের বুলি নয়, এগুলো মুমিনের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার। বইয়ের পাতায় বা অনলাইন সিরিজে এই সহজ আমলগুলোর মহাজাগতিক গুরুত্ব আধুনিক পাঠককে মোবাইল স্ক্রলিংয়ের ফাঁকেও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে বাধ্য করবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

মাঠের ফুটবল যখন জীবনের ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায়

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
মাঠের ফুটবল যখন জীবনের ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায়
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল কিংবা ইউরোপিয়ান লিগের আসর এলেই আমাদের চেনা জগৎটা এক লহমায় বদলে যায়। চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন নীল-সাদা বনাম হলুদ-সবুজের তুমুল লড়াই। ফুটবল মাঠের উত্তেজনা গ্যালারি পেরিয়ে আমাদের ড্রয়িংরুম, ছাদ আর পাড়ার মোড়ে এমন এক আবহ তৈরি করে, যা মাঝেমধ্যে উৎসবের আনন্দকে বিষাদে রূপ দেয়। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই ভালোবাসার সীমানা ঠিক কোথায়? এটি কি কেবলই ক্ষণিকের বিনোদন, নাকি এক ধরনের অন্ধ আসক্তি যা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, সময় ও আদর্শকে গ্রাস করে নিচ্ছে?

ইসলাম মানবপ্রকৃতির সুস্থ বিনোদনকে সবসময় স্বাগত জানিয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজে সাহাবিদের সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন, তীরন্দাজিতে উৎসাহিত করেছেন। বুখারি শরিফের হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদল সাহাবিকে বলেছিলেন, হে বনী ইসমাঈল! তোমরা তীর নিক্ষেপ করো, কারণ তোমাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন একজন দক্ষ তীরন্দাজ। অতএব, সুস্থ উপায়ে খেলাধুলা উপভোগ করায় কোনো বাধা নেই।

বিপত্তিটা বাঁধে তখনই, যখন বিনোদন মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্যকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। পবিত্র কুরআনের সুরা মুনাফিকূনের ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, হে মুমিনগণ! তোমাদের সম্পদ ও সন্তান যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। আর যারা এমন করবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
আধুনিক ফুটবলের জোয়ারে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে সময়ের অপচয়। মধ্যরাতের ম্যাচ দেখে অনেকেই ফজরের নামাজ অবহেলায় ঘুমিয়ে পার করছেন। খেলা শেষে সামাজিক মাধ্যমে চলে কাদা ছোড়াছুড়ি। অথচ কিয়ামতের দিন যে প্রধান প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে, তার অন্যতম হলো,মানুষ তার জীবন কোন কাজে ব্যয় করেছে (তিরমিজি)।

আবেগের পাশাপাশি হচ্ছে বিপুল অর্থের অপচয়। প্রিয় দলের বিশাল পতাকা বানানো, জার্সি কেনা বা আতশবাজির নামে যে অপব্যয় হয়, তা বিবেকবান কাউকে আনন্দ দিতে পারে না। কোরআনে বলা হয়েছে, অপচয় করো না। নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। (সুরা ইসরা, ২৬-২৭)।
এই উন্মাদনা সমাজে কৃত্রিম বিভেদ তৈরি করছে। একই ছাদের নিচের দুই ভাই বা দুই বন্ধু স্রেফ খেলার কারণে শত্রুতে পরিণত হচ্ছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, প্রকৃত মুসলমান সে, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। (বুখারি)।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো তরুণদের অন্ধ অনুকরণ। প্রিয় খেলোয়াড়ের খেলা দেখতে দেখতে তারা কখন যেন তার লাইফস্টাইল, অদ্ভুত চুলের ছাঁট বা ট্যাটু সংস্কৃতির অনুকরণ শুরু করে, তা নিজেরাও টের পায় না। যার আদর্শ হওয়ার কথা ছিল বিশ্বনবি (সা.)-এর সে আজ একজন বিদেশি ফুটবলারের জন্য হাজার শব্দের পোস্ট লেখে, অথচ সুন্নাহর প্রতি তার ভ্রুক্ষেপ নেই।

ইসলাম আনন্দের একটি সুন্দর নৈতিক সীমারেখা টেনে দেয়। খেলাধুলা যেন আমাদের ইবাদত ও আখেরাতের প্রস্তুতিকে গ্রাস না করে। বিনোদনকে বিনোদনের জায়গায় রেখে আসুন আমরা নিজে ও আমাদের সন্তানদের এই মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখি।

লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস জামিয়া ইমাম বুখারী,উত্তরা,ঢাকা।