আমি কে। কী আমার পরিচয়। আমার সৃষ্টিকর্তা কে? কেন আমাকে সৃষ্টি করা হলো। আমার বাড়ি, গাড়ি, ধন দৌলত, সম্পদ, স্ত্রী, সন্তান। প্রকৃত অর্থে এগুলোর মালিক কে? মূল মালিকানা কার? সম্পদের অহংকারে মাটিতে পা পড়ে না। নিজেকে এত বেশি জ্ঞানী ভাবি। অন্যদের পাত্তাই দিই না। অন্যকে কথাই বলতে দিই না। নিজে যেন সব জান্তা শমসের। সবকিছুতেই আমি আর আমি। আমিই যেন সব। অন্যরা তুচ্ছ, নগণ্য। আত্ম-অহংকার, অহমিকায় ডুবে আছি। কখনো কি আমরা ভেবে দেখেছি, এই আমিত্বের পরিণাম কী? আমার আমিই তো আমি নই। ডাক আসলে চলে যেতে হবে। সবকিছু পড়ে রবে। তাহলে কেন মিছে এই অহংকার, কেন আমিত্বের দাপট। আত্মমগ্নতায় ডুবে থাকা। আমিত্বের জালে জড়ানো এক প্রকার ব্যাধি। নম্রতা, বিনয়ের বিপরীত। ইসলাম নম্রতা পছন্দ করে।
রাসুল (সা.) ছিলেন সবচেয়ে বিনয়-নম্রতার অধিকারী। অথচ আমরা রাসুল (সা.) এর আদর্শের অনুসরণে নেই। ইসলামি গণ্যমান্য ব্যক্তিত্বের মধ্যে ও আমিত্বের ব্যাধি দেখা যায়। টক শো হচ্ছে। বক্তা তিনজন। অথচ উপস্থাপক কথা বলেই যাচ্ছেন। বক্তারা কিছু বলা শুরু করলে তার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে তিনিই বলতে থাকেন। বক্তা তো বটেই। শ্রোতাদের জন্য এটা চরম বিরক্তিকর। অনেক সময় বক্তা বলেই ফেলেন, আমাকে কথা শেষ করতে দিন। উপস্থাপকের এমন অসভ্যতা ইসলামের শিক্ষা নয়।
রাসুল (সা.) মানুষের কথা শুনতেন। তাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতেন। বিধর্মীরাও তাদের কথা বলার সুযোগ পেত। আত্মপ্রশংসা এক অর্থে আল্লাহর আদেশের বিপরীত কাজ। আল্লাহ বলেন, অতএব তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনিই ভালো জানেন কে আল্লাহভীরু। (সুরা নাজম, ৩২)। রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা পরস্পর প্রশংসা করা থেকে বেঁচে থাকো কেননা তা হচ্ছে জবাই করা। (ইবনে মাজাহ, ৩৭৪৩)।
নিজের প্রশংসা নির্লজ্জরাই বেশি করে। বুদ্ধিমানরা প্রশংসা করে এক আল্লাহর। প্রশংসার আসল মালিক এক আল্লাহ। যা নিয়ে আমিত্বের বড়াই, তা কিন্তু চলে যেতে সময় লাগে না একটুও। সম্পদ মুহূর্তের মধ্যে চলে যেতে পারে। পৃথিবীর সবকিছুর মালিকানা এক আল্লাহর। কিছু জিনিস আল্লাহ আমাদের সীমিত সময়ের জন্য দেন। অথচ এটাকেই যেন মূর্খের দল স্থায়ী মালিকানা ভেবে বসে। ইমাম আল গাজ্জালি বলেন, দুনিয়াতে সবচেয়ে বোকা ও নির্বোধ সে, যে নিজের পবিত্রতা দাবি করে এবং নিজেই নিজের প্রশংসা করে। (বিদায়াতুল হিদায়াহ, পৃষ্ঠা-১১৫)।
লেখক: অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার
সেলস অপারেশনস, ফেয়ার ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড