যখন পরীক্ষার সময়টা ঘনিয়ে আসে, তখন অনেক বাড়িতে যেন প্রচণ্ড বিপদ নেমে আসে, জরুরি অবস্থা জারি হয়ে যায়, সকলে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, প্রস্তুতি নিতে থাকে। এমন প্রস্তুতি ও পরিশ্রম প্রশংসনীয় ও প্রতিদানের উপযুক্ত, যদি নিয়ত ঠিক রাখা হয়, যদি এ পরীক্ষা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়।
কিন্তু যে পরীক্ষার জন্য আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আমাদের মধ্যে কে কে সে পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছে? আমরা ভুলে আছি। ভ্রমে আছি। অথচ দুনিয়ার যে পরীক্ষাকে আমরা এত গুরুত্ব দিচ্ছি, তা চূড়ান্ত পরীক্ষার তুলনায় কতই না তুচ্ছ।
দুনিয়ার পরীক্ষা একটা নির্দিষ্ট বই অথবা নির্দিষ্ট শাস্ত্রের ওপরে হয়। অন্যদিকে আখিরাতের পরীক্ষায় যে বইটি নিয়ে আসা হবে, সেখানে পরীক্ষার্থীর ছোট-বড় কোনো কর্মই বাদ পড়বে না।
কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, এটা কেমন কিতাব যে, ছোট-বড় কোনো কাজই ছেড়ে দেয়নি; বরং সবকিছুর হিসাব রেখেছে। বান্দা যা করেছে, তা সামনে উপস্থিত পাবে, আর আমাদের প্রতিপালক কারও প্রতি জুলুম করবেন না। কারণ ছোট-বড় সব গুনাহ লেখা থাকবে, ছোট ও বড় সবকিছুই লিপিবদ্ধ অবস্থায় পাবে সকলে।
দুনিয়ার পরীক্ষা নির্দিষ্ট পরীক্ষার হলে হয় যেখানে চেয়ার বিছানো থাকে, টেবিল পাতানো থাকে, নাতিশীতোষ্ণ আরামদায়ক আবহাওয়ায় পরীক্ষা হয়। কিন্তু আখিরাতের পরীক্ষার আবহাওয়া হবে বড় ভয়ানক, অবস্থা খুবই গুরুতর, চারদিকে বিপদের আশঙ্কা, অন্তর থাকবে কম্পমান। দুনিয়ার পরীক্ষায় গার্ড থাকে আমাদের মতোই কোনো মানুষ। কিন্তু আখিরাতের পরীক্ষায় গার্ড হবেন স্বয়ং আল্লাহতায়ালা, তিনি না কোনো কিছু ভোলেন, আর না কোনো কিছু বিস্তৃত হন, তিনি সবকিছুকে ইলমের মাধ্যমে বেষ্টন করে আছেন।
দুনিয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণের সংখ্যা অনেক বেশি, আর অকৃতকার্যের সংখ্যা তুলনায় কম। কিন্তু আখিরাতের পরীক্ষায় কম পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারবে। দুনিয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সম্মান ও সার্টিফিকেট পায়; কিন্তু আখিরাতের পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা জান্নাত লাভে ধন্য হয়।
সুতরাং যাকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা করা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই সফলকাম হবে। বস্তুত পার্থিব জীবন ছলনার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক