ইসলামি জীবনদর্শনে পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধি ব্যবহারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তবে আধুনিক পারফিউমে অ্যালকোহলের ব্যবহার এর পবিত্রতা নিয়ে অনেকে অনেক সময় প্রশ্ন তোলে। পারফিউমের অ্যালকোহল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অ্যালকোহলের প্রকারভেদ ও উৎস সম্পর্কে ইমামদের মতামত জানা জরুরি।
ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, অ্যালকোহল বা মদকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:
১. আঙুরজাত অ্যালকোহল: যা কাঁচা আঙুরের রস থেকে তৈরি হয়। এটি সর্বসম্মতিক্রমে নাপাক এবং হারাম। এর অল্প বা বেশি যেকোনো পরিমাণ ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয় সবই নিষিদ্ধ।
২. খেজুর বা কিশমিশজাত অ্যালকোহল: এটিও হারাম ও নাপাক। তবে এর কঠোরতা প্রথম প্রকারের চেয়ে কিছুটা শিথিল। চিকিৎসার প্রয়োজনে এটি কেনাবেচার কিছু অবকাশ থাকলেও ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর মতে এটিও বর্জনীয়।
৩. অন্যান্য উৎস থেকে তৈরি অ্যালকোহল: গম, যব, মধু, শস্য কিংবা রাসায়নিক বিভিন্ন উপাদান (যেমন- গন্ধক বা সালফেট) থেকে তৈরি অ্যালকোহল।
বর্তমান বিশ্বে ব্যবহৃত অধিকাংশ অ্যালকোহল মূলত তৃতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। ‘এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা’র তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত অ্যালকোহল সাধারণত শস্য, মধু বা রাসায়নিক উপাদান থেকে প্রস্তুত হয়, যেখানে আঙুর বা খেজুরের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।
শাইখুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মদ ত্বাকী উসমানী (দা.বা.)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাজারে প্রচলিত অ্যালকোহল যদি আঙুর বা খেজুর থেকে তৈরি না হয়।
তবে তা ওষুধ কিংবা পারফিউমের মতো বৈধ প্রয়োজনে ব্যবহার করা ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে জায়েজ। যেহেতু এটি নেশার উদ্দেশ্যে নয় এবং এর উৎস হারাম বা নাপাক কোনো বস্তু নয়, তাই এটি ব্যবহারে পোশাক অপবিত্র হবে না। যদিও বাজারে প্রচলিত অধিকাংশ পারফিউমই শস্য বা রাসায়নিক অ্যালকোহল থেকে তৈরি এবং তা ব্যবহারে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবুও
যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে কোনো পারফিউমের অ্যালকোহল আঙুর বা খেজুর থেকে তৈরি, তবে তা ব্যবহার করা যাবে না।
আধ্যাত্মিক সতর্কতা ও মনের প্রশান্তির জন্য বাজারে যেসব ‘অ্যালকোহলমুক্ত’ আতর বা সুগন্ধি পাওয়া যায়, সেগুলো ব্যবহার করাই হবে সবচেয়ে উত্তম ও শ্রেয়।
উপার্জন ও ইবাদতের বিশুদ্ধতার জন্য মাসয়ালা জানা অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক পারফিউমের অ্যালকোহল অধিকাংশ ক্ষেত্রে নাপাক মদের অন্তর্ভুক্ত নয় বিধায় এটি ব্যবহারে নামাজ বা পবিত্রতা নষ্ট হয় না। তবে একজন মুমিনের উচিত সর্বদা সন্দেহযুক্ত বিষয় এড়িয়ে সন্দেহমুক্ত জিনিসের অনুসন্ধান করা।
তথ্যসূত্র: তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ১/৩৪৮, ৩/৩৩৭; ফিকহুল বুয়ূ ১/২৯৪, ১/২৯৮
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক