ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, যেখানে মানুষের প্রতিটি কাজ ও উপার্জনের স্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো— যে বস্তু ব্যবহার করা হালাল, তার ব্যবসা ও বিপণন করাও হালাল। নারীদের পোশাক, বিশেষ করে তাদের একান্ত ব্যক্তিগত বা গোপন পরিধেয় বস্ত্রের ব্যবসা নিয়ে অনেক সময় সাধারণ মানুষের মনে দ্বিধা তৈরি হয়। শরিয়তের আলোকে এ বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার।
নারীদের বিশেষ পোশাকসমূহ একান্তই তাদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী, যা পরিধান করা তাদের জন্য বৈধ। যেহেতু এই পণ্যগুলো মৌলিকভাবে হালাল, তাই এগুলো বিক্রয় করে অর্থ উপার্জন করাও সম্পূর্ণ জায়েজ। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত উমর (রা.)-কে একটি রেশমি পোশাক উপহার দিয়েছিলেন (যা পুরুষদের জন্য পরা নিষিদ্ধ)।
তিনি উমর (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে, এটি তিনি নিজে পরিধান না করলেও অন্য কাউকে উপহার দিতে পারেন অথবা বিক্রয় করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোনো বস্তু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ হলেও তার বাণিজ্যিক বিনিময় বা হালাল কোনো কাজে ব্যবহার জায়েজ হতে পারে।
হালাল ব্যবসা হলেও নারীদের গোপন পরিধেয় বস্ত্র বিক্রয় ও সরবরাহের ক্ষেত্রে পর্দার প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া বাঞ্ছনীয়। বর্তমানে অনেক অনলাইন মার্চেন্ডাইজ বা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সরাসরি গ্রাহকের বাসায় পণ্য পৌঁছে দেয়। এক্ষেত্রে পণ্যটি যদি নারীদের একান্ত ব্যক্তিগত হয়, তবে তা প্যাকেজিং থেকে শুরু করে ডেলিভারি পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করা উচিত। যদি সম্ভব হয়, ডেলিভারির কাজে নারীকর্মী নিয়োগ করা বা এমনভাবে ব্যবস্থা করা যাতে সামাজিক শালীনতা ও পর্দার বিধান লঙ্ঘিত না হয়।
ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি অনুযায়ী, কোনো বৈধ পণ্য বিক্রয়ের সময় বিক্রেতার নিয়ত যদি স্রেফ ব্যবসা হয়, তবে তা গুনাহ হবে না। উদাহরণস্বরূপ, আঙুরের রস বিক্রয় করা জায়েজ, যদিও কেউ তা দিয়ে মদ তৈরি করতে পারে। তবে যদি বিক্রেতা নিশ্চিতভাবে জানেন যে ক্রেতা পণ্যটি কেবল গুনাহের কাজেই ব্যবহার করবে এবং সেই উদ্দেশ্যেই তাকে সহযোগিতা করা হয়, তবে তা অনুচিত। নারীদের পোশাকের ক্ষেত্রেও এই ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
নারীদের বিশেষ পোশাকের ব্যবসা একটি বৈধ ও সম্মানজনক পেশা হতে পারে, যদি তাতে ব্যবসায়িক সততা ও নৈতিকতার ছাপ থাকে। উপার্জনের পবিত্রতা রক্ষার পাশাপাশি আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাই মুমিনের ভূষণ।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক