মিনার জামারা এবং আরাফার ময়দানের স্তম্ভকে অনেকে ভাস্কর্য হিসেবে প্রকাশ করেন। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য কেবল ঐতিহাসিকভাবে ভুল নয়, বরং ধর্মীয় বিশ্বাসের মূলে আঘাত হানার শামিল। আমাদের দায়িত্ব হলো এই অপপ্রচারের অসারতা জনসমক্ষে তুলে ধরা। প্রথমেই আসা যাক মিনার জামারা প্রসঙ্গে। ইসলামি শরিয়তে জামারা কোনো স্মারক স্তম্ভ বা শিল্পকর্ম নয়। এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত স্বচ্ছ। হযরত ইব্রাহিম (আ.) যখন আল্লাহর নির্দেশে নিজ পুত্রকে কোরবানি দিতে যাচ্ছিলেন, তখন শয়তান তাঁকে তিনবার প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিল। সেই প্রতিটি স্থানে তিনি পাথর নিক্ষেপ করে শয়তানকে বিতাড়িত করেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে হাজিদের জন্য সেই স্থানগুলো নির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে সেখানে তিনটি স্তম্ভের মতো চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তির প্রতিকৃতি নয়, বরং পাথর নিক্ষেপের স্থান নির্দেশক মাত্র। একে ভাস্কর্য বলা মানে ভাস্কর্য শব্দেরই অপপ্রয়োগ। যদি এগুলো ভাস্কর্য হতো, তবে প্রশ্ন জাগে–এগুলো কার স্মরণে? শয়তানের স্মরণে? যা চরম হাস্যকর এবং অযৌক্তিক। আরাফার ময়দানে জাবালে রহমতের চূড়ায় একটি সাদা স্তম্ভ রয়েছে। কেউ কেউ দাবি করছেন এটি আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর সাক্ষাৎস্থলের স্মারক এবং এতে ছবি বা প্রতিকৃতি রয়েছে। অথচ বাস্তব সত্য হলো, সেখানে কোনো ধরনের ছবি বা প্রাণীর অবয়ব নেই।
আরাফার চারদিকের অসংখ্য পাহাড়ের মধ্যে কোনটি ‘জাবালে রহমত’ (যেখানে রাসুল (সা.) বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন), তা সাধারণ মানুষের চেনার সুবিধার্থে এই সাদা চিহ্নটি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একটি দিকনির্দেশক ছাড়া আর কিছুই নয়। আদম-হাওয়া (আ.)-এর সাক্ষাতের সুনির্দিষ্ট স্থান হিসেবে এর কোনো ধর্মীয় ভিত্তি বা প্রমাণ নেই।
ধর্মীয় স্থাপনা বা প্রতীককে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ভাস্কর্য হিসেবে চালিয়ে দেওয়া এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক জোচ্চুরি। ইসলামের বিধান অনুযায়ী প্রাণীর ছবি বা মূর্তির কোনো স্থান নেই। যারা নিজেদের বিশেষ মতাদর্শ প্রচারের জন্য মক্কা-মদিনার পবিত্র নিদর্শনগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন, তারা আসলে সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে চাইছেন।
সত্যকে মিথ্যার আবরণে ঢাকা যায় না। ইসলামের হেফাজতকারী স্বয়ং আল্লাহ। তবে পাঠক হিসেবে আমাদের সচেতন হতে হবে, যাতে কোনো চটকদার লেখা পড়ে আমরা বিভ্রান্ত না হই। ধর্মীয় স্থাপনার সংজ্ঞা এবং উদ্দেশ্য না বুঝে সেগুলোকে বিতর্কিত করা থেকে বিরত থাকাই বাঞ্ছনীয়।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক