আমাদের জীবনে আনন্দ ও উদযাপনের মুহূর্তগুলো নানা রূপে আসে। কখনো পরীক্ষায় ভালো ফলাফল, কখনো চাকরিতে কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি, ব্যবসায়িক সাফল্য কিংবা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন—সবই মানুষের মনকে এক অনাবিল প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়। বিজয়ের এই আনন্দঘন মুহূর্তে মানুষ সাধারণত উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। কিন্তু একজন মুমিনের আনন্দ প্রকাশের ধরণ সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, যেকোনো অর্জনের পেছনে নিজের মেধার চেয়ে মহান আল্লাহর অনুগ্রহই প্রধান। তাই সাফল্যের চূড়ায় দাঁড়িয়ে অহংকারী না হয়ে আল্লাহর দরবারে বিনম্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
রাসূলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো বড় সাফল্য, বিজয় বা কাঙ্ক্ষিত অর্জন লাভ করতেন, তখনই তিনি পরম স্রষ্টার প্রতি শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এক বিশেষ দোয়া পাঠ করতেন। ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের মতো মহিমান্বিত মুহূর্তেও আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর অবয়বে কোনো অহংকার ছিল না, বরং তাঁর হৃদয় ছিল আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতায় নত।
বিজয় ও সাফল্যের সেই বিশেষ মুহূর্তে রাসুল (সা.) যে দোয়াটি নিয়মিত পড়তেন, তা নিচে দেওয়া হলো: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَصَرَ عَبْدَهُ وَأَعَزَّ دِينَهُ
বাংলা উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি নাসারা আবদাহু ওয়া আ-আজ্জা দ্বীনাহ।
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর দ্বীনকে (জীবনবিধানকে) শক্তিশালী ও সম্মানিত করেছেন।
আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে আমরা যখনই কোনো সফলতা পাই, মনের অজান্তেই আমাদের ভেতর আমি বা অহংকারবোধ জাগ্রত হয়। আমরা মনে করি, এই অর্জন কেবলই আমাদের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। অথচ আমাদের চারপাশে কত মানুষই না রাতদিন চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না। তাই যেকোনো বড় অর্জনে এই দোয়াটি পাঠ করার মাধ্যমে মানুষ নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে এবং সমস্ত সফলতার কৃতিত্ব মহান আল্লাহকে উৎসর্গ করে। এটি মানুষের মন থেকে অহংকার দূর করে তাকে বিনয়ী করে তোলে।
কৃতজ্ঞতা কেবল একটি শব্দ নয়, এটি এক পরম ইবাদত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দেব। (সুরা ইবরাহিম, ৭)
লেখক: শিক্ষিকা, মাদরাসা ফাতেমাতুজ জাহরা, মুহাম্মদপুর।