ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতল রাব্বানীর ‌‌'সাঁতার' সাইবার সুরক্ষায় ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’ সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হাবিপ্রবিতে সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলায় নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ১টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান নারীকণ্ঠে কথা বলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩ প্রতারক শাহরাস্তিতে মাকে ভরণপোষণ না দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে কারাগারে ইমাম যশোরে নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কুপিয়ে হত্যা একনেকে ৩৮৯১ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন ডামুড্যায় শিক্ষকের ওপর হামলা: ‘ভিডিও করতে গিয়ে’ আসামি গণমাধ্যমকর্মী লোহাগাড়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ৪ মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মেয়ের হাতে মা খুন যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক গোপালগঞ্জে ইয়াবা ও মদসহ ২ মাদককারবারি আটক গোপালগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ ঘুমধুম সীমান্তে আবারও মাইন বিস্ফোরণ, যুবক নিহত কুমিল্লায় মহাসড়কে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন বার্তা রায়পুরে হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানের বর্জ্যে দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য ছয় বিষয়ের অনার্স কোর্স কি আসলেই বাতিল হচ্ছে? যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গফরগাঁওয়ে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের লাল বাহাদুর দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিল শিবিরে
Nagad desktop

ইন-ওয়ার্ক ও অফ-ওয়ার্কের যাঁতাকলে প্রশাসন

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ১১:১৮ এএম
আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ১১:৩২ এএম
ইন-ওয়ার্ক ও অফ-ওয়ার্কের যাঁতাকলে প্রশাসন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

প্রশাসনের শীর্ষ পদে নিয়মিত কর্মকর্তার (ইনওয়ার্ক) পদে হঠাৎ অনিয়মিত কর্মকর্তার (অফওয়ার্ক) নিয়োগ হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খাচ্ছেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নকাজ এবং প্রশাসন ও বিভাগের কাজ সমাপ্ত করতে সময় নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ চলছে ধীরগতিতে। 

কর্মকর্তারাও রুটিন কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং মাঠ প্রশাসনের কয়েক জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ না থাকায় ওইসব মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও জেলায় সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব খবরের কাগজকে জানান, সরকারের হঠাৎ পরিবর্তনে প্রশাসনসহ সব ক্ষেত্রেই একটা অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা, আতঙ্ক কাজ করছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কাজের গতি কম। কারণ পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় কাজের পরিবেশেরও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। 

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বভাবতই গত সরকারের অনেক সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা বুঝতে কিছুটা সময় নিচ্ছে প্রশাসন। এ কারণে এখন নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেই। তবে রুটিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে না। তা ছাড়া ইন ওয়ার্কে যেসব কর্মকর্তা ছিলেন, তাদের নিয়মিত প্র্যাক্টিস থাকায় অনেক কিছু সহজেই বুঝে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। আর এখন অনেক সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব আছেন, যারা অনেক দিন প্রশাসনের কাজ-কর্মে যুক্ত ছিলেন না। কয়েক বছর বা বেশ কিছু সময় তারা প্রশাসন থেকে বাইরে অর্থাৎ অফ ওয়ার্কে ছিলেন। তাই এসব কর্মকর্তার কাজ বুঝে নিতে সময় লাগছে। তবে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে প্রশাসনের কর্মকাণ্ড।

গত সরকারের আমলে বঞ্চিত থাকা কর্মকর্তাদের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপ-সচিব এবং জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ৭ শতাধিক কর্মকর্তার তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের সচিব পদে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়াসহ মাঠ প্রশাসনে ১৮-২২ জন ডিসি প্রত্যাহার করে নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য প্রায় দুই মাস আগ থেকে যোগ্য কর্মকর্তার খোঁজে তালিকা বাছাইয়ের কাজ চলছে।

জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে স্থানীয় সরকারসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে সচিব এবং আট জেলায় ডিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। ফলে প্রশাসনে আরও কিছু পরিবর্তন আসছে। 

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত ২৭ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব পদে নতুন মুখ এসেছে। এর মধ্যে তিনজনের শুধু দপ্তর বদল হয়েছে। কেউ কেউ চুক্তিতে এসেছেন। কিছুদিন যাবৎ সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব পদ শূন্য রয়েছে। অতিরিক্ত সচিবরাই সেখানে রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে সচিব পদে যোগ্যদের নিয়োগে অধিকতর যাচাই-বাছাই করছে সরকার। বিগত সরকারের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের এই আমলেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে বঞ্চিত ও পদোন্নতি প্রত্যাশী কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। 

এক মাস যাবৎ আট জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদ শূন্য রয়েছে। ফলে মাঠের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জটিলতা বাড়ছে। এর মধ্যে একটি বিভাগে বিভাগীয় সদরসহ চার জেলায় ডিসি নেই। সেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরাই রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন। তাই সচিবের পাশাপাশি ডিসি পদে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদায়নে অধিকতর যাচাই-বাছাই করতে হচ্ছে। 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘সচিবের কয়েকটি পদ শূন্য রয়েছে। এগুলো শিগগিরই পূরণ করা হবে। সে জন্য যোগ্য কর্মকর্তাদের বাছাই করা হচ্ছে। সচিব পদ বেশি দিন শূন্য রাখা যাবে না। একইভাবে ডিসি পদেও নিয়োগ দেওয়া হবে।’  

জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই কয়েকটি জেলায় ডিসি নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা ওঠে। যা পরবর্তী সময়ে বাতিল করতে হয়। এসব জেলায় এখনো ডিসি নিয়োগ না হওয়ায় সেখানে মাঠ প্রশাসনে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এরপরও যোগ্য কর্মকর্তাদের (উপসচিব) যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ডিসি নিয়োগের কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি সচিব পদেও নিয়োগ নিয়ে কাজ চলছে। 

গত ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সচিব পদে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়। বিগত সরকারের আমলে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া সচিবদের বাতিল করা হয়। আর পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন এমন কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনজন সচিবের দপ্তর বদল হলেও বেশ কিছু সচিব পদ পূরণ করা হয়েছে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে। 
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রশাসনে নেতিবাচক চোখেই বরাবর দেখা হয়। বর্তমান সরকারের আমলেও নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন, জননিরাপত্তা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতের সরকারগুলোর পথেই হাঁটছে এ সরকার। ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের শেষ সময়ে প্রশাসনের দুই শীর্ষ পদসহ অন্তত ২৪টি পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ছিলেন অবসরে যাওয়া সাবেক আমলারা। এ নিয়ে প্রশাসনে একধরনের অস্বস্তি ছিল। আর বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েই উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক দিনেই ১১ জন সচিবের চুক্তি বাতিল করে। পরে আরও কয়েকটি পদের চুক্তি বাতিল করে সরকার। এরপর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয় প্রশাসনে। তারা অধিকাংশই বিসিএস ১৯৮২ নিয়মিত ব্যাচের কর্মকর্তা (বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত)। এরপর ধাপে ধাপে আরও কিছু পদে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, হাসিনা সরকারের আমলে অনেকে রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে ধাপে ধাপে কিছু পদে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া দরকার। তবে বেশি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হলে পরবর্তী সময়ে অন্তত তিন থেকে পাঁচজন কর্মকর্তা পদোন্নতি বঞ্চিত হন। সেগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। যাতে প্রশাসনিক কাজকর্মে স্থবিরতা নেমে না আসে। 
ডিসি ছাড়াই চলছে আট জেলা

ডিসি ছাড়াই চলছে দেশের আট জেলা। গত ১০ সেপ্টেম্বর ডিসি হিসেবে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার পর ১১ সেপ্টেম্বর তাদের মধ্যে আটজনের নিয়োগ বাতিল করায় এসব জেলার ডিসির পদ ফাঁকা হয়ে যায়। কাউকে পদায়ন না করায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরাই রুটিন কাজ করছেন। জেলাগুলো হলো- রাজশাহী, নাটোর, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও দিনাজপুর। 

অপরদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ বলেন, দ্রুত পদায়ন দিতে তারা চেষ্টা করছেন। আপাতত ডিসি নিয়োগে নতুন করে আর কোনো ফিট লিস্ট করা হবে না। ডিসি নিয়োগের যে ফিট লিস্ট রয়েছে, সেখান থেকেই আট জেলায় ডিসি পদায়ন করা হবে। 

এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় সরকার, সোচ্চার শ্রমিক-কর্মচারীরা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:১০ এএম
এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় সরকার, সোচ্চার শ্রমিক-কর্মচারীরা
ছবি:খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বন্দরের ‍নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার কাজ দিতে দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড এফজেডইর সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে চায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। তাই এনসিটি পরিচালনায় ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল অপারেটর (আইটিও) নিয়োগের লক্ষ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান আলোচনা এগিয়ে নিতে মন্ত্রণালয়ের এক দাপ্তরিক চিঠিতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে বিষয়টি সামনে আসতেই আবারও সোচ্চার হয়েছেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। তাদের অবস্থান আগের মতোই অপরিবর্তিত।

গত ৪ জুন এই বিষয়ে দুটি দাপ্তরিক চিঠি ইস্যু করে মন্ত্রণালয়। প্রথম চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-১ অধিশাখার সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা হোসেন স্বাক্ষরিত লেখা চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের লক্ষ্যে চলমান নেগোসিয়েশন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অথবা নেগোসিয়েশন এগিয়ে নিতে ইচ্ছুক না হলে সে ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া বাতিল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

সেদিন প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে পর্যালোচনা করতে নৌপরিবহনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের একই কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত আরেকটি চিঠি ইস্যু হয়। ওই চিঠিতে বন্দর চেয়ারম্যানের উদ্দেশে বলা হয়, পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যালোচনার লক্ষ্যে নৌপরিবহনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ৪ জুনের সভায় আলোচনা মোতাবেক ওই প্রকল্পের পরিচালনা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের লক্ষ্যে নেগোসিয়েশন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এনসিটি নিয়ে একই দিন মন্ত্রণালয়ের দুই ধরনের চিঠি ইস্যু হওয়ার বিষয়টিকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না বন্দরের শ্রমিকনেতা ও কর্মচারীরা। মন্ত্রণালয়ের এমন কাজে তাদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু করেছে বলে জানান তারা। তাদের দাবি, তারা বিদেশি বিনিয়োগের বিরুদ্ধে নন। বে-টার্মিনালের তিনটি টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার উদ্যোগে কোনো শ্রমিকনেতা ও কর্মচারী আপত্তি জানাননি। পাশাপাশি পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়েকে দেওয়ার সময়ও কেউ বাধা দেননি। কিন্তু এনসিটি যন্ত্রপাতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। টার্মিনালটির অপারেশনাল কার্যক্রম গতিশীল ও লাভজনক। এই টার্মিনালের সেবার মান নিয়ে বন্দরের কোনো স্টেকহোল্ডার কখনো কোনো অভিযোগ দেননি। তাহলে একটি পূর্ণাঙ্গ, সুসজ্জিত ও লাভজনক টার্মিনাল কেন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিতে হবে?

বন্দর কর্তৃপক্ষও বলছে, এনসিটি গতিশীল

গত বছরের ৭ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল) চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনালের অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। গত ২ জুন বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিডিডিএলের সদস্যরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করায় কনটেইনার খালাস ও লোডিং প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল হয়েছে। এনসিটিতে মে মাসে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে। মাসটিতে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউএস কনটেইনার (আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনার ছিল ৫৯ হাজার ৮৫১ টিইইউস ও রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার ছিল ৬৬ হাজার ৬৪৫ টিইইউস) হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।

এর আগে এনসিটির ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড হয়েছিল গত বছরের অক্টোবর মাসে। সে সময় এনসিটিতে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৩ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল। তবে গত মে মাসে আরও বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হওয়ায় আগের রেকর্ডটি ভেঙে গেল। তবে এসব বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা কথা বলতে রাজি হননি। কয়েকজন অর্থনীতিবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারাও বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। 

ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে শ্রমিকনেতাদের প্রতিক্রিয়া

শ্রমিকনেতারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ড বন্দরের এনসিটির পাশাপাশি সিসিটি টার্মিনাল পরিচালনার আগ্রহ দেখায়। সে সময় চলমান প্রক্রিয়ায় সিসিটির বিষয়টি না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আর এগোতে চাননি বন্দর কর্মকর্তারা। শেষমেশ শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে এনসিটি চুক্তিও করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বর্তমান সরকার যদি আবারও এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে হাঁটে, তবে সেটি কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না। তারা বলছেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা না দিয়ে সরকার টিকতে পারছে না। ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দর দেওয়ার পর বাংলাদেশ কীভাবে টিকবে?

বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন জানান, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। কনসেশন চুক্তির আওতায় বন্দরের প্রধান টার্মিনাল এনসিটি ও সিসিটি বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়া হলে বন্দর ও দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বন্দর তার কর্তৃত্ব হারাবে। বিদেশি আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, যার ফলে দেশ চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। পিসিটি, এনসিটি, সিসিটি–সবই যদি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাহলে যেকোনো সময় দেশি-বিদেশি যেকোনো ষড়যন্ত্রে দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, ‘বন্দর বিদেশিদের দেওয়ার চেষ্টা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজ অর্থাৎ চট্টগ্রাম চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ কোনো স্টেকহোল্ডারকে এখনো বলতে শুনিনি যে চট্টগ্রাম বন্দর তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের চাহিদা পূরণ করেই বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছে। সড়কের যানজটের ব্যবস্থাপনাসহ কাস্টম ব্যবস্থাপনায় কোনোরূপ উন্নতি না করে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যেকোনো চুক্তি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ বলে আমরা মনে করি।’ 

এনসিটি ঘিরে আগেও হয়েছে আন্দোলন, ধর্মঘট

গত ২৯ জানুয়ারি দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি প্রক্রিয়া বৈধ বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেদিন বেলা সাড়ে ১১টায় ওই রায়কে কেন্দ্র করে অফিস চলাকালীন চট্টগ্রাম বন্দরের কিছু কর্মচারী বন্দর ভবনে, ফয়ারে এবং বন্দর ভবন এলাকায় মিছিলে অংশ নেন। সেখানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন ও হুমায়ুন কবীর এবং বন্দর শ্রমিক দলের সদস্য আনোয়ারুল আজীম ও ফরিদুর রহমান। 

বন্দরের কোনো টার্মিনাল বিদেশিদের ইজারা না দিতে দফায় দফায় আন্দোলন চালিয়ে যায় চট্টগ্রাম সুরক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, চট্টগ্রাম বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘ, গণ-অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশে জুয়েলারি সমিতি চট্টগ্রাম বিভাগ, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক জনগণ প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) বিভিন্ন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠন।

এনসিটি বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা না দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি (৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি বাদে) পর্যন্ত সাত দিনের ধর্মঘট পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এই ধর্মঘটের কারণে পণ্য সরবরাহে ভাটা পড়ে। ইয়ার্ডে বাড়তে থাকে কনটেইনারের সারি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজানের পণ্য খালাসের স্বার্থে ৯ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত রাখে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আলোচনায় বসলেও আর কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি সংগঠনটির নেতারা।

চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক খবরের কাগজকে বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেন সেটি সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। পাশাপাশি বন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। যেকোনো ধরনেরর আন্দোলনে বন্দরের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে। এটিও সবার মাথায় রাখতে হবে। 

চট্টগ্রামে শিক্ষকের ৮ হাজার পদ শূন্য

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০০ এএম
চট্টগ্রামে শিক্ষকের ৮ হাজার পদ শূন্য
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এ সমস্যা আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বর্তমানে ১ হাজার ৭৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় আট হাজার শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সৃষ্ট পদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষক পদই বর্তমানে শূন্য রয়েছে। দ্রুত নিয়োগ না দিলে এ সংকট ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে জুনিয়র স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও কলেজ মিলে ১ হাজার ৭৩৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি কলেজ ২১টি, বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজ ৭৯টি ও এমপিওবিহীন ২৪টি কলেজ রয়েছে। সরকারি স্কুল রয়েছে ২৫টি। বেসরকরি স্কুল রয়েছে এমপিওভুক্ত ৫৭৭টি, নন-এমপিও ২২৪টি। স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে ৭৫টি। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৬৪টি ও জুনিয়র স্কুল রয়েছে ১৬৭টি। চট্টগ্রামে মাদরাসা রয়েছে ৪৮২টি। এর মধ্যে ৩৮১টি এমপিওভুক্ত।

সব মিলে ১ হাজার ৭৩৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, (প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ) সহকারী প্রধান (শিক্ষক বা উপাধ্যক্ষ) ও সহকারী শিক্ষকসহ ২৬ হাজার ১৪৮ শিক্ষক থাকার কথা। কলেজ পর্যায়ে গড়ে ২১ জন করে শিক্ষক থাকার কথা, স্কুল ও মাদরাসা পর্যায়ে ১৮ জন ও জুনিয়র স্কুলে থাকার কথা ১২ জন করে শিক্ষক। স্কুল ও মাদরাসা মিলে ১ হাজার ৩০৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে শিক্ষক থাকার কথা ২৩ হাজার ৫৪৪ জন। কিন্তু আছে ১৬ হাজার ৫৪৪ জন।

মাধ্যমিক ও মাদরাসায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও ২৫০ জন প্রধান শিক্ষকের পদ বা প্রতিষ্ঠানপ্রধানের পদ খালি রয়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ খালি আছে ৩০০ জন। কলেজের ক্ষেত্রে অধ্যক্ষের পদ খালি রয়েছে ৪০টি। শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে ৪৫০ জনের। এ ছাড়া উপাধ্যক্ষ পদ খালি রয়েছে ৩০ জনের। সর্বমোট চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮ হাজার ৩০টি পদ খালি রয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধু বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকই নন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের অনেক পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। অনেক প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল আজিজ খবরের কাগজকে বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে একজন শিক্ষককে একাধিক বিষয় পড়াতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ক্লাস নিয়মিত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক সংকট সবচেয়ে বেশি। কারিগরি ও অনেক বিষয়ের কোনো শিক্ষকই নেই। তবে যা আছে তাই দিয়ে কোনোভাবে চালিয়ে নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক নিয়োগে ধীরগতির কারণে এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা গেলে সংকট তৈরি হতো না। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও ঝুলে রয়েছে। চাহিদার বিপরীতে কম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাই শিক্ষক স্বল্পতার তালিকা দীর্ঘ হয়েছে। তবে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হলে সংকট চলে যাবে। 

সূত্র জানায়, গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এ সংকটে বেশি ভুগছে। অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

চট্টগ্রামের অংকুর সোসাইটি উচ্চবিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক সুলতানা কাজী খবরের কাগজকে বলেন, প্রধান শিক্ষক ও প্রশাসনিক পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়ে। শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি, শিক্ষক মূল্যায়ন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সরকারি নির্দেশনা কার্যকর করার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। 

শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ না করা, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত জটিলতা, নিয়োগ কার্যক্রমে প্রশাসনিক ধীরগতি, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সে অনুপাতে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
 
প্রবীণ শিক্ষক আবু তালেব বেলাল বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হলে প্রথমেই শিক্ষক সংকট নিরসন করতে হবে। একটি অঞ্চলের শিক্ষার মান নির্ভর করে পর্যাপ্ত ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের উপস্থিতির ওপর। শিক্ষক ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা কমে যায়, যা ভবিষ্যতে জাতীয় উন্নয়নেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শূন্যপদ পূরণের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ, প্রশাসনিক পদে যোগ্য ব্যক্তিদের পদায়ন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষক ধরে রাখতে বিশেষ প্রণোদনাও দেওয়া যেতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতে সংকট: বরাদ্দের অর্ধেকও ব্যয় হয় না

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:১৭ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ এএম
স্বাস্থ্য খাতে সংকট: বরাদ্দের অর্ধেকও ব্যয় হয় না
বাজেট ২০২৬-২০২৭

সংকটে দেশের স্বাস্থ্য খাত। এ খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করার সুযোগ থাকলেও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের অর্ধেকও খরচ করেনি। আগামী অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে চলতিবারের তুলনায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত বিভাগগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে দ্বিতীয় অবস্থানে রাখা হয়েছে। 

• অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের মাত্র ৩০-৪০% খরচ করেছে
• আগামী বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ১২,১৬৭ কোটি টাকা
• শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, সঠিক ব্যয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে

স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, শুধু বরাদ্দ রাখলেই হবে না। বরাদ্দ ব্যয় করার বিষয়েও নজর দিতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সরকার ছিল না, তাই জবাবদিহিও ছিল না। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কাজ না করলেও চলেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আশা করি, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের সবটা ব্যয় করে এ খাতের উন্নয়ন করবে। সবার জন্য গুণগত চিকিৎসা নিশ্চিত হবে। 

ওষুধ শিল্প সমিতির সাবেক মহাসচিব, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ডেল্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চিকিৎসক জাকির হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এ পর্যন্ত বরাদ্দের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই খরচ করতে পারেনি। দেশে হামের মতো একটি সাধারণ রোগের টিকা পর্যন্ত আমদানি করা হয়নি। শুধু হাম নয়, আরও অনেক রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকারের অর্থ ব্যয় করে সাধারণ পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তেমন কোনো কাজ হয়নি। 

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের দেশে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করা অর্থ ফেরত যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এ দেশে একজন মানুষ নিজের চিকিৎসার মোট খরচের ৬০-৭০ শতাংশ নিজের পকেট থেকে ব্যয় করেন। এ দেশে সরকারি অর্থ চিকিৎসা খাতে খরচ হবে না–এটি ঠিক নয়। নির্বাচিত সরকারের কাছে আবেদন জানাব, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েই দায়িত্ব শেষ করবেন না, কোথায় কীভাবে কারা কতটা খরচ করছে, তাও খতিয়ে দেখবেন। এ দেশের মানুষের জন্য বিনামূল্যে সরকারি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।’ 

আওয়ামী লীগ সরকার প্রণীত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা (প্রায় ৪১৪০৮ কোটি টাকা) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল ওই বাজেটের মোট আকারের প্রায় ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। ওই বাজেটে বিনামূল্যে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। 

পরে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে সময়ে অর্থ খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে বলেছিলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সব নাগরিককে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে সেবার পরিধি বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও দক্ষ জনবল নিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদ পূরণে চিকিৎসক, সেবিকা, টেকনিশিয়ান, ফার্মাসিস্ট ও স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়োগ ত্বরান্বিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টির সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। 

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেছিলেন, বাজেটে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত ৪ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দেশে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রেফারেল হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি ৫০ শয্যার বেশি সব হাসপাতাল স্থাপনের জন্য সুবিধা থাকছে। 

ওষুধ শিল্প সমিতির সাবেক মহাসচিব জাকির হোসেন বলেন, সাবেক অর্থ উপদেষ্টার পরিকল্পনাগুলোর প্রায় সব কটি কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ আছে। দেশে হামের কারণে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে অথচ হামের টিকা আমদানি করাই হয়নি। 

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ টাকা ব্যয় করতে না পারার অন্যতম কারণ স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্পের বেশির ভাগ মহাপরিচালক, পরিচালকের অভিজ্ঞতা থাকে না। বরাদ্দ ব্যয় করা না হলে কোনো জবাবদিহি চাওয়া হয় না। আমাদের মতো গরিব দেশে স্বাস্থ্য খাতের সরকারি বরাদ্দ ব্যয় না করা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত। অথচ দেখেন হামের টিকা না আনার কারণে কার কী শাস্তি হয়েছে?’ 

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না। যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। কয়েক বছর ধরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের মতো হলেও কী পরিবর্তন হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে? মোট বাজেটের অন্তত ৭ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন এবং তা সঠিকভাবে ব্যয় করতে হবে। বিনামূল্যে সরকারি স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে। 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। আগামী বছরের বাজেটে যে ১০ মন্ত্রণালয় বা বিভাগে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ দ্বিতীয়। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্তের তালিকায় সাত নম্বরে ছিল। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ৩১ হাজার ২২ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আগামী বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বরাদ্দ বাড়ছে ১২ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। মোট বাজেটের আকার হিসাবে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে দশমিক ৬৭ শতাংশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। এ হিসাবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে জিডিপির দশমিক ৬৩ শতাংশের সমান বরাদ্দ থাকছে। অর্থাৎ জিডিপির ভিত্তিতেও আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ বাড়ছে।

বিদ্যুতে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান চুরি, সিস্টেম লস ও ভর্তুকিতে ঘুরপাক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
চুরি, সিস্টেম লস ও ভর্তুকিতে ঘুরপাক
বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের পকেট কেটে ভর্তুকির ওপর নির্ভর করেই টিকে আছে পুরো বিদ্যুৎ খাত। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত যুগ যুগ ধরেই লোকসানে রয়েছে। চুরি, সিস্টেম লস, অপচয়, দুর্নীতি এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে প্রতিবছরে এই খাতে রাষ্ট্রকে গুনতে হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি। বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের পকেট কেটে ভর্তুকির ওপর নির্ভর করেই টিকে আছে পুরো বিদ্যুৎ খাত। উপাদন সক্ষমতা বাড়লেও বিতরণব্যবস্থার দুর্বলতা, অবৈধ সংযোগ, মিটার কারসাজি এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বিদ্যুৎ খাত এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ চুরির অন্যতম প্রধান উৎস হলো অবৈধ সংযোগ বা ‘হুকিং’। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট, বাজার এবং অস্থায়ী স্থাপনায় সরাসরি বিদ্যুতের লাইন থেকে সংযোগ নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া মিটার টেম্পারিং, বাইপাস সংযোগ, বিলিং জালিয়াতি এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং স্টেশন থেকেও বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। অনুমোদনহীন এসব চার্জিং পয়েন্টে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হলেও এর বড় অংশের কোনো বৈধ হিসাব থাকে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অসাধু কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের কারসাজিতে হচ্ছে অনিয়ম-দুর্নীতি। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওই সব অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুতুড়ে বিল, মিটার জালিয়াতি, অবৈধ সংযোগ, সিস্টেম লসের নামে অনিয়ম এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কার্যকর জবাবদিহি ও শাস্তির নজির না থাকায় পরিস্থিতিরও তেমন উন্নতি হচ্ছে না। অন্যদিকে, বছর বছর বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হলেও খাতটির আর্থিক সংকট কাটছে না। 

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বিদ্যুতের সিস্টেম লস সাধারণত ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশে তা ১০ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও বিতরণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো অবকাঠামো, দুর্বল ট্রান্সফরমার, জরাজীর্ণ লাইন এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে প্রযুক্তিগত ক্ষতির পাশাপাশি চুরি ও অনিয়ম মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৯ হাজার ৫৪৩ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও গ্রাহকদের কাছে পৌঁছেছে ৮ হাজার ৮১৯ কোটি ইউনিট। ফলে ৭২৪ কোটির বেশি ইউনিট বিদ্যুৎ সিস্টেম লস হিসেবে অপচয় হয়েছে। প্রতি ইউনিটের গড় মূল্য হিসাব করলে এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা।

বিতরণ সংস্থাগুলোর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডেসকোর বিদ্যুৎ অপচয়ের হার ছিল ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, ডিপিডিসির ৫ দশমিক ৬, পিডিবির ৬ দশমিক ৬৮, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ৭ দশমিক ২৬ এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।

একই সময়ে বিপিডিবির আর্থিক অবস্থা আরও নাজুক হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকা, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৮ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লোকসান বেড়েছে ৯৪ শতাংশেরও বেশি।

বিদ্যুৎ সরবরাহে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিপিডিবির মোট ব্যয় ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয় হয়েছে ৬৯ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা। ঘাটতি কমাতে অর্থ বিভাগ থেকে ৩৮ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকার নিট লোকসান হয়েছে সংস্থাটির।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে বেসরকারি আইপিপি কেন্দ্রগুলো থেকে। এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৭২ হাজার ৭১ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আইপিপি থেকে বিদ্যুৎ কেনা হয়েছিল ৫৭ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকার। অথচ জাতীয় বাজেটে এ খাতে ব্যয়ের প্রাক্কলন ধরা হয়েছিল মাত্র ৪৩ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি খাত থেকে ১ লাখ ৩০৯ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে। প্রতি ইউনিটের গড় দাম পড়েছে ১৪ টাকা ৪৫ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৪০ পয়সা বেশি। ফলে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচও বেড়ে ১২ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছেছে, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ১১ টাকা ৩৫ পয়সা।

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি নিয়েও রয়েছে তথ্যগত অসংগতি। বিপিডিবির হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৩৮ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের এক নথি অনুযায়ী একই সময়ে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বকেয়াসহ বিদ্যুৎ খাতে মোট ভর্তুকি ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের মোট জ্বালানির প্রায় ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশই জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর এবং এর প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। ফলে আমদানি নির্ভরতা কমানো না গেলে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপও কমবে না। বিপিডিবির হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সম্ভাব্য আর্থিক ঘাটতি প্রায় ৬২ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে বিদ্যুতের দাম একাধিকবার বাড়ানো হলেও আর্থিক সংকট কাটছে না। চলতি মাসে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন (হুইলিং) চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ এবং পাইকারি দর ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। 

বিদ্যুৎ খাতে লোকসানের পেছনে বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তাদের ‘চুরি’র কারণে সংকট কাটছে না বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ খাত একটি অসাধু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের লাগামহীন দুর্নীতি ও চুরির কারণে দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারের কারণেও এই সংকট বাড়ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যারা ভোক্তাবিরোধী ও গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে বিচারের কোনো নজির নেই। ফলে সংকটও কাটছে না।

অধ্যাপক শামসুল আলমের মতে, বিদ্যুৎ খাতের ঘাটতি কমানোর কথা বলে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও বাস্তবে আর্থিক ঘাটতি কমছে না, বরং প্রতিবছরই তা বাড়ছে। তিনি বলেন, সরকারের প্রধান দায়িত্ব জনগণকে সেবা দেওয়া, মুনাফা অর্জন নয়। তাই শুধু দাম বাড়ানোর নীতি অনুসরণ না করে সাধারণ মানুষের স্বার্থে বিদ্যুতের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার উদ্যোগও প্রয়োজন।

বিএনপির ১৩ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
বিএনপির ১৩ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

দেশের অর্থনীতি সংকটে আছে। রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি নেই। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সর্বনিম্ন। এমন প্রেক্ষাপটেও আগামী অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় বিএনপির ১৩ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা থাকছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেটবিষয়ক প্রতিবেদন থেকে এসব জানা যায়। 

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, বাজটে বক্তৃতায় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচির কথা থাকছে। এলাকাভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এভাবে একগুচ্ছ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। 

সূত্র জানায়, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্কের বাজেট দিতে যাচ্ছে তারেক রহমানের সরকার। গতকাল পর্যন্ত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ে হিসাব কষা হয়েছে। ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলেছেন, সরকার বিভিন্ন সংকটে আছে। আর তাই আগামী বাজেটে বিএনপি সরকারের নির্বাচনি সব প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব না হলেও বেশির ভাগই থাকছে। এসব প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগই সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের পরিবর্তে পাইলট প্রকল্প হিসেবে আনা হবে। 

অর্থনীতির সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই রেকর্ড ঘাটতির বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। বাজেটে অর্থায়নে যে সূত্র আঁকা হয়েছে, তা সফল না হলে সমগ্র অর্থনীতি চাপে পড়বে। 

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর খবরের কাগজকে বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। বিএনপি নির্বাচনের আগে যেসব অঙ্গীকার করেছে, আগামী বাজেটে তার বেশির ভাগই থাকবে। অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন আগামী বাজেট থেকে শুরু করা হবে। পরে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে যাবে। 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, দেশের অর্থনীতি এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে সংকটে আছে। বিগত দুই সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। এমন পরিস্থিতিতেও বড় অঙ্কের বাজেট দেওয়া হবে। এই বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। রাজস্ব আদায় বাড়াতে আয়ের খাত বাড়ানো হয়েছে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘বড় অঙ্কের বাজেটে অর্থায়ন করতে হলে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। কিন্তু আমরা জানি চলতি অর্থবছরের গত ১১ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রেকর্ড রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। আগামীতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে তা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছি। এতে অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়বে।’ 

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেছেন, দেশের অর্থনীতি সংকটে ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতির সংকট বেড়েছে। সরকার ও ব্যক্তি খাত–দুই খাতই ভালো নেই। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন, উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে। তবে সরকার যত সংকটেই থাকুক না কেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ দিতে হবে। নির্বাচনের আগে বিএনপি যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা বলেছে, তার বেশির ভাগ আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও সব বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। আগামী অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো প্রতিশ্রুতি পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। 

আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার, কোন খাতে কত ব্যয় ধরা হবে, কোন খাত থেকে কত আয় করা হবে, এনবিআর ও এনবিআরবহির্ভূত খাত থেকে আয় নির্ধারণসহ বাজেটের বিভিন্ন হিসাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কয়েক দফা বৈঠক করেন। অনেক বিষয় নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও আলোচনা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানসহ বাজেট প্রস্তুত কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গেও পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন। সবার মত নিয়ে যাচাই-বাছাই করে প্রস্তাবিত বাজেটের সারসংক্ষেপ প্রণয়ন করা হয়েছে। 

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর ৩০ জুন পর্যন্ত আলোচনা হবে। এরপর তা চূড়ান্ত করে ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন করা হবে। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি। আসন্ন অর্থবছরের বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে চলতি বাজেটের তুলনায় ১৮.৭৩ শতাংশ বেশি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড বৃদ্ধি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ভাবা হচ্ছে, যা আগের বছরের তুলনায় অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি। উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর হিসাব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাজেটে সরকারের পরিচালন ও অন্যান্য ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের এনবিআর থেকে ৬ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা, নন-এনবিআর ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং এনটিআর খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে। অর্থায়নের ক্ষেত্রে বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ১৫ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।