রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট ও শপিংমলগুলোয় গোয়েন্দা নজরদারিসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পবিত্র রমজান মাস ঘিরে এবং আসন্ন ঈদ সামনে রেখে এখন থেকেই যাতে রাজধানীবাসী নিরাপদে-নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) প্রথম রমজান থেকেই বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে ছিনতাই, ডাকাতি ও খুন-জখম বেড়ে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে ডিএমপিসহ আইন প্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থা। যদিও রাজধানীতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ তথা যৌথ বাহিনী। এমন প্রেক্ষাপটে রমজান মাস ঘিরে আরও বেশি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ডিএমপি। এ জন্য মার্কেট-শপিংমলকেন্দ্রিক ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টির অপতৎপরতা রোধে পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে মানুষ যেন নিরাপদে কেনাকাটা করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ নিরাপত্তা দিচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিজাত মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে পুলিশের ফোর্স পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আনসার ও সিকিউরিটি গার্ডরাও কাজ করছেন।
তিনি বলেন, শপিংমলগুলোর প্রবেশ পথে তল্লাশি করা হচ্ছে। বসানো হয়েছে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পুরুষ ও নারী সদস্যরা কাজ করছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, রয়েছে ‘প্যাট্রোল ভিজিট’। এ ছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
সরেজমিনে গতকাল রবিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টোকিও স্কয়ার, ধানমন্ডি-২৭ রাপা প্লাজা, বসুন্ধরা সিটিসহ বেশ কয়েকটি শপিংমল ও মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে প্রবেশ পথে তল্লাশি করা হচ্ছে। বসানো হয়েছে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরাও। এ ছাড়া মার্কেট ও শপিংমলগুলোর বাইরে চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা দিতে দেখা গেছে। তবে গতকাল অভিজাত শপিংমল বসুন্ধরা সিটি বন্ধ ছিল। সেখানে গেলে দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ড মতিকুল খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রথম রোজায় মার্কেট বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার মার্কেট খোলা থাকবে। বসুন্ধরার নিজস্ব সিকিউরিটি গার্ডের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও নিরাপত্তা দেবেন।’
গতকাল শপিংমলগুলো ঘুরে দেখা যায়, ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ব্যবসায়ীরা বিপণিবিতানগুলো নতুন আঙ্গিকে সাজিয়েছেন। পণ্যভর্তি দোকানগুলোতে ঈদের কেনাকাটা করতে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে।
পুলিশি নিরাপত্তার এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। টোকিও স্কয়ার শপিংমল থেকে হাতঘড়ি কিনছিলেন রাহেলা। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রথম থেকেই ঈদের কেনাকাটা শুরু করেছি। ১০ রোজার পরে মার্কেটে আসা যায় না। ঠাসা ভিড়, দামও বেশি। এ ছাড়া চুরি, ছিনতাইয়ের ভয় তো আছেই।’
নিরাপত্তার জন্য পুলিশ আছে, প্রতিবেদকের এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘মার্কেটে এসেই গেটে পুলিশ দেখলাম। নিরাপত্তা দিচ্ছে দেখে ভালো লাগল।’
কাপড় ব্যবসায়ী রহিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘পুলিশের নিরাপত্তা দেখে ভালো লাগছে। এবার রোজায় নিরাপদে ব্যবসা করা যাবে।’ এ সময় তিনি ইউনূস সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
পুলিশ নিরাপত্তা দেওয়ায় খুশি শপিংমলগুলোর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। নিরাপত্তার বিষয়ে টোকিও স্কয়ার মার্কেটের সভাপতি শওকত ইমরান খবরের কাগজকে বলেন, ‘মার্কেটের নিরাপত্তায় ১৫ জন আনসার সদস্য রয়েছেন। আমাদের সিকিউরিটি গার্ড আছেন ১৭০ জন। এ ছাড়া নিরাপত্তার জন্য থানা থেকে পুলিশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ নিরাপত্তা দেওয়ায় ভালো লাগছে।’
সন্ত্রাসীদের হুমকি ও চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ ধরনের সমস্যা দেখছি না। সমস্যা হলে পুলিশের সহায়তা নেব।’
রাপা প্লাজার মার্কেট সভাপতি মোতাহার হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘রাপা প্লাজার নিরাপত্তায় আমাদের ১৩ জন সিকিউিরিটি গার্ড রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশও নিরাপত্তায় কাজ করছে।’
গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) রেজাউল করিম মল্লিক সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘রমজানে বিপণিবিতানগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ছদ্মবেশে আমাদের সদস্যরা মানুষের মধ্যে থেকে অপরাধীদের শনাক্ত করবেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনী ও ডিবির পাশাপাশি অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীও মাঠে কাজ করছে। আমরা বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে তাদের সহায়তা করছি।’
রমজানে ‘মানি এসকর্ট’ সেবা দেবে ডিএমপি
রমজানে নগদ অর্থ উত্তোলন ও পরিবহনে ‘মানি এসকর্ট’ সেবা দেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এসকর্ট সেবা পেতে পুলিশ কন্ট্রোল রুমসহ যোগাযোগের বেশ কিছু নম্বর দিয়েছে ডিএমপি। সেগুলো হলো ২২৩৩৮১১৮৮, ০২৪৭১১৯৯৮৮, ০২৯৬১৯৯৯৯, ০১৩২০-০৩৭৮৪৫, ০১৩২০-০৩৭৮৪৬ এবং জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯।
ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাবেচা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থ লেনদেন ও স্থানান্তর বেড়ে যায়। কোনো ব্যক্তি, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বেশি অর্থ স্থানান্তরের জন্য পুলিশের সাহায্য চাইলে দেওয়া হবে। এটাকে আমরা বলি ডিএমপির এসকর্ট সেবা।’ যারা এসকর্ট সেবা নেবেন, তাদের যানবাহনের ব্যবস্থা তাদের করতে হবে বলেও জানান তিনি।