সরকারি কোনো কর্মকর্তা ঠিকাদার বা বেসরকারি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থে বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না। গত ২৩ মার্চ এ-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। এ বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ঠিকাদার ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি জরুরি কারণ ছাড়া উপদেষ্টা বা সিনিয়র সচিব ও সচিবদের একান্ত সচিব বা সহকারী একান্ত সচিবদের সহযাত্রী হিসেবে বিদেশে ভ্রমণ পরিহার করতে হবে।
এ ছাড়াও সরকারিভাবে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা তাদের স্বামী/স্ত্রী বা সন্তানদের সফরসঙ্গী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন না।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া স্বাক্ষরিত পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, এর আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের জারি করা পরিপত্রের অনুকরণে নির্দেশিত বিষয়গুলো অনুসরণের জন্য বলা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে অপর এক আদেশে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করে পরিপত্র জারি করেছিল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
তাতে বলা হয়েছিল, নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত ইতোপূর্বের আদেশ ও নির্দেশনা সংবলিত পরিপত্রের অনুকরণে নির্দেশনাগুলো অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
বিদেশ ভ্রমণের জন্য মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ডেটাবেজ তৈরির পরামর্শ দিয়ে তাতে বলা হয়েছিল, এই ডেটাবেজের কাঠামো প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় তৈরি করে দেবে এবং এসব তথ্য সংরক্ষণ করবে।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও সচিবের একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করে সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের একাধারে বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়। তবে কোনো কারণে জাতীয় স্বার্থে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও সচিবের একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণ একান্ত প্রয়োজনীয় হলে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে বলা হয়েছে। তবে সাধারণভাবে উপদেষ্টা ও সচিবের একসঙ্গে বিদেশে ভ্রমণ পরিহার করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধীনস্থ অধিদপ্তর বা সংস্থাপ্রধানের এক সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থে একান্ত অপরিহার্য না হলে এধরনের ভ্রমণ পরিহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিদেশে অনুষ্ঠিতব্য সেমিনার/ওয়ার্কশপ ইত্যাদিতে অংশগ্রহণের জন্য উপদেষ্টা ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে আমন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং একই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশ থেকে কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা এতে অংশ নিচ্ছেন সেসব তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব পেশকালে উক্ত ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রস্তাবিত কর্মকর্তার ওই কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও উপযোগিতার বিষয় উল্লেখ করতে হবে।
কেনাকাটা, প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন কিংবা ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপ্ট্যান্স টেস্ট ইত্যাদির ক্ষেত্রে কেবলমাত্র সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ পাঠানোর বিষয় বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ ও কম প্রয়োজনীয় ভ্রমণ অবশ্যই পরিহার করার কথা বলা হয়েছে তাতে।
কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব পাঠানোর সঙ্গে প্রস্তাবিত কর্মকর্তার পূর্ববর্তী এক বছরের বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানানোর জন্য বলা হয়েছে নির্দেশনায়।
এ ছাড়াও সরকারি সব স্তরের কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ছুটিতে যাওয়াও পরিহার করতে বলা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের নির্দেশনায়।