সরকারের হস্তক্ষেপে ও কঠোর নিয়মকানুন বাস্তবায়নে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন গন্তব্যে বিমান টিকিটের দাম কমেছে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমান টিকিটের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের চাপ, বাংলাদেশ বিমান আর পদ্মা অয়েলের মনোপলি এবং ডলারসংকট কমানো গেলে আরও কমতে পারে বিমান ভাড়া। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত আরও বিমান সংস্থা তৈরি এবং দেশি এয়ারলাইনসগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিতে পারলে দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকবে বিমান টিকিটের দাম। সেই সঙ্গে দেশের ডলারও দেশেই থাকবে।
গ্রুপ বুকিং স্কিমের অধীন সৌদি আরবে যাওয়ার টিকিটের দাম গত বছর বেড়ে উঠেছিল ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপে সেই দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার টাকায়। এমনকি কিছু বিমান সংস্থা ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদের মতো রুটে টিকিটের দাম কমিয়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায় দিচ্ছে। ‘যাত্রীর পাসপোর্ট ও বিস্তারিত তথ্য ছাড়া আর কোনোভাবেই বিমান বা যেকোনো ফ্লাইটের টিকিট বুক করা সম্ভব হবে না’ সরকারের এমন পদক্ষেপে কমে আসে বিমান টিকিটের দাম।
তবে টিকিটের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এয়ারলাইনসগুলো বলছে, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে ২০২২ সাল থেকে টিকিটের দাম বাড়া শুরু হয়েছে। সে সময় ১ ডলারের বিপরীতে ৮৬ টাকার জায়গায় এখন ১ ডলারের বিনিময় মূল্য ১২২ টাকা। এখানেই ৪০-৫০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। এর সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আবগারি শুল্ক বাড়িয়েছে।
শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলো বাধ্য হয়ে টিকিটের দাম বাড়ায়। আবার গত সরকারের অদূরদর্শিতার খেসারতে রিজার্ভ কমতে থাকায় বিমান কোম্পানিগুলো টিকিট বিক্রির অর্থ ফেরত নিতে পারেনি। ভাড়া বৃদ্ধি এবং ফ্লাইটসংখ্যা কমানোর এটি অন্যতম কারণ। এর বাইরে জেট ফুয়েলের বাড়তি দাম, সিভিল অ্যাভিয়েশনের আকাশচুম্বী ল্যান্ডিং-পার্কিং ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একক আধিপত্যে থাকা অতিরিক্ত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ টিকিটের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।
এ বিষয়ে সালাম এয়ার ঢাকা অফিসের কান্ট্রি হেড মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম রাজন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের দেশের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ, ল্যান্ডিং-পার্কিং চার্জসহ সব চার্জই বেশি। চার্জগুলো বেশি হলে ভাড়া বেশি হবে না কেন? প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, প্লেনের টিকিটে সরকারি ট্যাক্সগুলো দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ট্যাক্সের বোঝা যাত্রীর ওপর পড়ছে। আমরা এসব বিষয়ে অনেক সময় আলোচনায় বলেছি। তবে যারা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাদের ভাষ্য হচ্ছে, আকাশপথের যাত্রীরা (স্বচ্ছল) এসব ট্যাক্স বহন করতে পারবেন। অথচ আমাদের ৮০ শতাংশ যাত্রীই দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মজীবী শ্রমিক।’
তিনি আরও বলেন, টিকিটের ওপর কর আরোপ করা যেতেই পারে, তবে এটা যাত্রীদের জন্য সহনীয় হতে হবে। মালয়েশিয়ার মতো একটি রুটে যেখানে ভাড়া ৪০ হাজার টাকা, সেখানে ১৫ হাজার টাকার ট্যাক্স ও ফি আরোপ করা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।
সাউদিয়া এয়ারলাইনসের জিএম রফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, বিমানের ভাড়া বাড়ানোর পেছনে জেনারেল সেলস এজেন্ট বা জিএসএদের কোনো হাত নেই। কারণ একটি এয়ারলাইনসের ভাড়া নির্ধারিত হয় বহু বিষয়ের সমন্বয়ে- যেমন রুট কম্পিটিশন, লোড ফ্যাক্টর, সিজানালিটি, চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্য, বৈশ্বিক অভিবাসন ধারা, এয়ারলাইনসের কমার্শিয়াল বিজনেস মডেল, স্থানীয় অপারেটিং খরচ ইত্যাদি। এসব বিষয় বিবেচনা করে মূল ভাড়া বা বেস ফেয়ার নির্ধারিত হয় এবং এর সঙ্গে ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর, উন্নয়ন ফি, বিমানবন্দর চার্জসহ অন্যান্য ফি ও সারচার্জ যুক্ত হয়।
এ ছাড়া কখন বুকিং হচ্ছে কিংবা একসঙ্গে কয়টি সিটের টিকিট বিক্রি হচ্ছে তার ভিত্তিতেও এয়ারলাইনস ভাড়ার শ্রেণিবিন্যাস হয়। যেমন- যাত্রার বেশ আগে অগ্রিম টিকিট কাটলে সাধারণত কম টাকায় টিকিট কেনা সম্ভব এবং যাত্রার তারিখের অব্যাবহিত আগে টিকিট কাটলে সাধারণত দাম অনেক বেড়ে যায়। এ ছাড়া একসঙ্গে অনেকগুলো (১০ বা তার বেশি) টিকিট কাটলে সাধারণত দাম কম হয়। আবার যেকোনো লম্বা ছুটি, বড় কোনো উৎসব বা ইভেন্টের আগে টিকিটের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ঈদ, পূজা, ইস্টার সানডে বা ক্রিসমাসের আগে টিকিটের চাহিদা বেড়ে যায়।
অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ টি এম নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, বিমানের টিকিটের দাম যেন নিজ দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকে তার জন্য বাংলাদেশকে অন্য দেশের মতো একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা তৈরি করতে হবে। এগুলোর পরিচালনা থাকতে পারে বেসরকারি কারও হাতে, কিন্তু সংস্থাগুলো হবে সরকারি। তাহলে টিকিটের দাম নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা তারা তৈরি করতে পারবে।
এ ছাড়া বিদেশি গুটিকয়েক এয়ারলাইনসের বদলে অনেক এয়ারলাইনসকে দেশে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। পাশাপাশি দেশি বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোকেও পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে। তাদের বড় হওয়ার জন্য কিছু সুবিধা দিতে হবে। এতে দেশের ডলার দেশেই থাকবে। সে ক্ষেত্রে সারচার্জ, বিভিন্ন অ্যারোনটিক্যাল চার্জ কমাতে হবে। পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মনোপলি এবং বিমানের অয়েল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েলের মনোপলিও ভাঙতে হবে। এগুলোর খরচ কমানো গেলে টিকিটের দাম আরও কমে আসবে বলে আশা করা য়ায়। এর জন্য সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশে বিমান ভাড়া বেড়ে যাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে-
ডলারের দাম বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন
দেশে বিমানের টিকিটের দাম বৃদ্ধির আরেক কারণ গত দুই বছরে ইউএস ডলারের দাম বৃদ্ধি ও টাকার অবমূল্যায়ন। দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রতি ইউএস ডলারের দর ছিল ১০২ টাকা, বর্তমানে তা ১২২ টাকা। বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোকে সব চার্জ ইউএস ডলারে পরিশোধ করতে হয়, সে ক্ষেত্রে টাকার এই অবমূল্যায়নও টিকিটের দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
সময়মতো পেমেন্ট না পেয়ে ভাড়া বাড়িয়েছে বিদেশি এয়ারলাইনস
বিমানের টিকিটের দাম বাড়ার অন্য আরেকটি কারণ হলো ডলারসংকটের কারণে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোকে সময়মতো পেমেন্ট করতে না পারা। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আয়াটা) তথ্যমতে, এখনো বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো বাংলাদেশের কাছে ১৬৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার বা ২ হাজার ১৯ কোটি টাকা পায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সময়মতো ডলার না পাওয়ায় এয়ারলাইনসগুলো বাংলাদেশের টিকিট বিক্রি করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। তারা বাংলাদেশ থেকে টিকিটের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। অর্থাৎ টিকিটগুলো অন্যান্য দেশ থেকে কাটতে যত ভাড়া দিতে হয়, বাংলাদেশ থেকে কাটলে অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ আদায় করছে।
এনবিআরের মাত্রাতিরিক্ত ট্যাক্স
এনবিআরের মাত্রাতিরিক্ত ট্যাক্স, এক্সাইজ ডিউটির বৃদ্ধির প্রভাবে টিকিটের দাম বেড়েছে। এয়ারলাইনসগুলো বলছে, বাংলাদেশ থেকে একটি প্লেনের টিকিটে এনবিআর থেকে যে পরিমাণ ট্রাভেল ট্যাক্স এবং এক্সাইজ ডিউটি নেয়, তা দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দরের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে বর্তমানে সিঙ্গাপুর, দুবাই, ওমান, শারজাহ, কুয়ালালামপুর এ পাঁচটি রুটের টিকিট কাটলে যাত্রীপ্রতি বাংলাদেশ সরকার ৯ হাজার ৮৯০ টাকা ট্যাক্স আদায় করে। অথচ একই রুটে মালয়েশিয়ার সরকার ট্যাক্স নেয় ২ হাজার ৫৬৮ টাকা, সিঙ্গাপুর ৫ হাজার ৮৭৮, ওমান ৩ হাজার ৮৭৯, দুবাই ও শারজাহ নেয় ৪ হাজার ৩৩২ টাকা। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে একজন যাত্রী এই পাঁচটি রুটে যাত্রা করলে তাকে ৭ হাজার টাকা বেশি ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। টিকিটের দামের সঙ্গে এনবিআর যেসব ট্যাক্স আদায় করে তার মধ্যে ট্রাভেল ট্যাক্স ৪ হাজার এবং এক্সাইজ ডিউটি ২ হাজার ৫০০ টাকা।
এ ছাড়া ২০২৩ সালের আগে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটের টিকিটে যাত্রীর কাছ থেকে কোনো ট্রাভেল ট্যাক্স নেওয়া হতো না। তবে প্রথমে এটি ২০০ টাকা নির্ধারণ করে পরবর্তী সময়ে এই ট্যাক্স দ্বিগুণ করে বর্তমানে ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সার্কভুক্ত দেশে ভ্রমণের টিকিটের সঙ্গে বর্তমানে ২ হাজার টাকা ভ্রমণ কর নেওয়া হচ্ছে, যা আগে ১ হাজার ২০০ টাকা ছিল। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে এই ট্রাভেল ট্যাক্স প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; যা যাত্রীর টিকিটের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়।
পদ্মা অয়েলের মনোপলি
দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো বলছে, বাংলাদেশে প্লেনের টিকিটের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ জেট ফুয়েলের দাম। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আওতাধীন পদ্মা অয়েল কোম্পানি একমাত্র জেট ফুয়েল আমদানি ও বিক্রি করে। তারা নিজেদের মতো করে মনোপলি বা একচেটিয়াভাবে দাম বাড়ায়। বর্তমানে প্রতি লিটার জেট ফুয়েল কিনতে হচ্ছে দশমিক ৭৫ ইউএস ডলারে। অথচ একই তেল ভারতের চেন্নাইয়ে দশমিক ৬৩ ইউএস ডলার, দুবাইয়ে ৫৮, শারজাহে ৬৪, চীনের গুয়াংজুতে ৫৪, কুয়ালালামপুরে ৫৯ ও জেদ্দায় দশমিক ৫৭ ইউএস ডলারে বিক্রি হয়।
আকাশচুম্বী ল্যান্ডিং-পার্কিং ও এয়ার নেভিগেশন চার্জ
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো থেকে যে ল্যান্ডিং-পার্কি চার্জ আদায় করা হচ্ছে, তা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি।
এয়ারলাইনসগুলো জানায়, বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের একটা বিমান ঢাকা অবতরণ করলে ১ হাজার ৫৪০ ইউএস ডলার ও তার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়, যা বাংলাদশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার টাকা। অথচ একই বিমান মালয়েশিয়ার কুয়ালামপুর নামলে তাকে মাত্র ১৫ হাজার ৫৩৭ টাকা ল্যান্ডিং চার্জ দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ একই বিমান ঢাকায় নামলে মালয়েশিয়ার চেয়ে ২ লাখ ৭ হাজার টাকা বেশি চার্জ দিতে হয়। এই আকাশচুম্বী চার্জ টিকিটের দামে প্রভাব ফেলছে।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বাংলাদেশ বিমানের অতিরিক্ত চার্জ আদায়
দেশি ও বিদেশি সব এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজটি করে একমাত্র বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ অবতরণের পর পথ দেখিয়ে পার্কিং বে-তে নেওয়া, দরজায় সিঁড়ি লাগানো, যাত্রীদের মালামাল ওঠানো-নামানো, কার্গো লোড-আনলোড, উড়োজাহাজের ভেতর পরিষ্কার করা, চেক-ইন কাউন্টারে সেবার মতো ইত্যাদি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মধ্যে পড়ে। এসব কাজের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যে চার্জ নিচ্ছে বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে বেশি।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বোয়িং ৭৩৮-৮০০ মডেলের বিমানের ফ্লাইটের জন্য বিমান গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ নিচ্ছে ২ হাজার ৫০০ ইউএস ডলার বা ৩ লাখ ৬ হাজার টাকা। অথচ মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের চার্জ মাত্র সাড়ে ৩ হাজার রিঙ্গিত বা ৯৭ হাজার ৫৪৫ টাকা।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের রাজস্বের একটি বড় অংশ আসে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ আদায় করে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশের একাধিক প্রতিষ্ঠান গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে চার্জগুলো অনেক প্রতিযোগিতামূলক হয়। তবে দেশের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিমানের একক আধিপত্য। নিজেদের রাজস্ব ধরে রাখতে তারা ইচ্ছামতো গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ নির্ধারণ করেছে; যা যাত্রীদের টিকিটের দামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।