উপুল থারাঙ্গা মারলেন ডাক। ২২ বলে জয়াসুরিয়া করতে পারলেন মাত্র ৪ রান। দুজনই মাশরাফির শিকার। তবে ওয়ান ডাউনে নামা কুমার সাঙ্গাকারাই ভোজবাজির মতো বদলে দিলেন ম্যাচের গতিপথ। খেললেন ১০৯ রানের ঝকঝকে ইনিংস। শ্রীলঙ্কার স্কোর পৌঁছাল সাত উইকেটে ৩০৯ রানে। জবাবে বাংলাদেশ করতে পারল ৯ উইকেটে ২৩১ রান। হার ৭৮ রানে।
সাঙ্গাকারা ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন সেই কবেই। সময়ের আবর্তে সেই জয়াসুরিয়া এখন শ্রীলঙ্কার দলের পরামর্শক। আর বাংলাদেশের মাশরাফি তো এখন সংসদ সদস্য। আজ থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। তার আগে জয়াসুরিয়া-মাশরাফিদের গল্প অনেকটাই ধান ভানতে শিবের গীতের মতো মনে হতে পারে কারও। তবে বাস্তবতার নিরিখে তা অমূলক নয়।
কারণ ১৮ বছর পর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে (সাগরিকা) আবার ওয়ানডেতে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। এর আগে এই ভেন্যুতে দুই দলের মধ্যকার প্রথম ও সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচটি হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। যেখানে সাঙ্গাকারাদের কাছে হেরেছিল হাবিবুল বাশার ব্রিগেড।
সেই ওয়ানডে স্কোয়াডের সদস্য নেই এখন কোনো দলেই। তবে রয়ে গেছে পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া বারুদে উত্তাপ। যার সর্বশেষ উদাহরণ ২০২৩ ভারত ওয়ানডে বিশ্বকাপ। দিল্লিতে যে ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। যেখানে দেখা মিলেছিল ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো টাইমড আউট বিতর্ক। রীতি মেনেই ক্রিকেটীয় চেতনাকে থোড়াই কেয়ার করে লঙ্কান অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো মাথিউসকে টাইমড আউটে পরিণত করেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সেই আলোচিত ঘটনার পর প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই দল। আফসোস, এই সিরিজে থাকছেন না সাকিব, ম্যাথিউসের সঙ্গে লড়াইটা তাই চাক্ষুস করা হবে না দর্শকের।
তাই বলে লড়াই থেমে থাকবে না। টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারের ক্ষত চট্টগ্রামের পয়মন্ত ভেন্যুতেই শুকাতে চায় টিম বাংলাদেশ। যদিও সেই কাজটি বেশ চ্যালেঞ্জের। একটা সময় ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ দুরন্ত-দুর্বার থাকলেও তাতে ধরেছে ঘুণ। ২০১৫ সাল থেকে ২০২২ পযন্ত একটা ছন্দ ছিল এই ফরম্যাটে। তবে ওয়ানডের সেই ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০২৩ সালে। বিশ্বকাপ ব্যর্থতাসহ বছরজুড়েই বিবর্ণ পারফরম্যান্সে টিম টাইগার্সের অবস্থা অনেকটাই ত্রাহি ত্রাহি মধুসূদন।
২০২৩ সালে ৩২টি ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ১১টি, হার ১৮টিতে। অথচ ২০১৫ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ১০৯ ম্যাচ খেলে টাইগারদের জয় ছিল ৬১টিতে। হার ৪৫ ম্যাচে। সাম্প্রতিক এমন ছন্দহীন পারফরম্যান্সের সঙ্গে যোগ হয়েছে লঙ্কানদের বিরুদ্ধে আকাশ-পাতাল হেড টু হেড পরিসংখ্যান, যা বাড়তি চাপ দলের জন্য। ওয়ানডেতে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে মোট ৫৪ বার। বাংলাদেশের জয় মাত্র ১০টিতে। হার ৪২টি। ফল আসেনি দুই ম্যাচে। ঘরের মাঠেও এমন হতশ্রী অবস্থা বদলায়নি। ২০ ওয়ানডেতে জয় সাকুল্যে ৬টি।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নতুন বছরে নতুন আরেকটি ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে চ্যালেঞ্জের সামনে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। যদিও চাপ সামলে তার চোখ ইতিবাচক ক্রিকেটে, ‘সব সময় চ্যালেঞ্জ থাকবে। আন্তর্জাতিক যেকোনো দলের বিপক্ষে খেলার আগে চ্যালেঞ্জ থাকে। যেটা বললেন, ২০১৫ থেকে ২০২২ পর্যন্ত আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। কাজেই একটা বছর খারাপ যেতেই পারে। কিন্তু দল হিসেবে ঘুরে দাঁড়িয়ে এই বছরটা ভালোভাবে ফেরাটা গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত।’
টি-টোয়েন্টির বছরে ওয়ানডের জন্য নিজেদের তাতিয়ে তোলার ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা দেখছেন না শান্ত। তার মনে হচ্ছে এই বাস্তবতা মেনেই এগিয়ে চলছেন ক্রিকেটাররা, ‘খুব একটা প্রভাব ফেলে না (নিজেদের চাঙা করতে)। কারণ এই জিনিসটা আমরা সবাই মানিয়ে নিয়েছে। গত চার-পাঁচ বছর ক্রিকেট এভাবেই এগুচ্ছে।’
ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ফেবারিট হলেও জয়ের জন্য মুখিয়ে আছে লঙ্কানরাও। দুই দলের লড়াইয়ের উত্তাপ উপভোগ করলেও দিন শেষ জয়ই মুখ্য শ্রীলঙ্কার হেড কোচ ক্রিস সিলভারউডের, ‘আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো। যদিও স্বাগতিকরা বাড়তি সুবিধা পাবে। দিন শেষে জয় পাওয়াটা স্বস্তির।’
সিরিজ শুরুর এক দিন আগে কুশল মেন্ডিসকে অধিনায়ক করে ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কার নির্বাচক কমিটি। সফরকারী কোনো দেশের এত পরে এসে দল ঘোষণা একটু অবাক করার মতোই। সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দল থেকে আছে দুটি পরিবর্তন। বাদ পড়েছেন তরুণ ব্যাটসম্যান শেভন ড্যানিয়েল ও পেসার আসিতা ফার্নান্দো। তাদের জায়গায় এসেছেন অলরাউন্ডার কামিন্দু মেন্ডিস ও পেসার লাহিরু কুমারা।