শেষবার বাংলাদেশ-ভারত নারী দলের সিরিজ নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। এর জন্য শাস্তিও পেতে হয়েছিল ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরকে। এক বছরের কম সময়ের ব্যবধানে ফের মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। সিলেটে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে আজ বিকেল ৪টায়। সিরিজ শুরুর আগে ভারতীয় অধিনায়ক জানান, বাংলাদেশকে সমীহ করছেন তিনি। তাতে খুশি বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। একই সঙ্গে তার চাওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পার করা কঠিন সময় পেরিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলা।
গতকাল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আসেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জ্যোতি। সেই আনুষ্ঠানিকতায় উঠে আসে আগের সিরিজে দুই দলের মধ্যে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্বের কথা। সেসব অবশ্য মাথায় রাখতে চান না জ্যোতি। তার কথায়, ‘অতীতে অনেক কিছু হয়ে গেছে। কিন্তু যা হওয়ার তা হয়েছে। ওটাতে আমরা বসে নেই।’ বাংলাদেশ দলকে নিয়ে হারমানপ্রীতের প্রশংসা নিয়ে জানতে চাইলে টাইগ্রেস অধিনায়ক বলেন, ‘শুনে ভালো লেগেছে যে তারা বলছে, আমরা আগের থেকে অনেক পরিপক্ব দল। এর মানে হচ্ছে তারা আমাদের হালকাভাবে নেয়নি অবশ্যই।’
দেশজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহের মাঝে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তবে বিকেলে খেলা বলে খানিকটা স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছেন জ্যোতি। তার কথায়, ‘যখন ৪টার সময় খেলব, তখন রোদের তাপমাত্রা একটু হলেও কমে যাবে। একটু স্বস্তিতে খেলতে পারব দুই দল।’ এমন গরমে উইকেট হতে পারে স্পিনবান্ধব। ম্যাচের আগে উইকেট দেখে তবেই বোলিং আক্রমণ নির্ধারণ করতে চান জ্যোতি।
এদিকে সিলেটের উইকেটে রান ফোয়ারার প্রশংসা হয় প্রতিনিয়ত। বাংলাদেশ কাপ্তানের আশা একই ধারা থাকবে এই সিরিজেও। বিশ্বকাপের আগে এমন সিরিজ খেলতে পারাকে বাড়তি সুবিধা হিসেবে নিচ্ছেন টাইগ্রেস অধিনায়ক। বলেছেন, ‘সিলেটের উইকেট কিন্তু বরাবরই ভালো। স্পোর্টিং উইকেট। ব্যাটাররা রান করতে পারে, বড় স্কোর হয়। টি-টোয়েন্টিতে সবাই চায় স্কোর হোক। সে জন্য বলব যে টি-টোয়েন্টি খেলার জন্য সিলেট আদর্শ একটি ভেন্যু।’
এ ছাড়া বিশ্বকাপের আগে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলাকে দেখছেন বাড়তি সুবিধা হিসেবে জ্যোতি। তার কথায়, ‘ওদের জন্য একটা ভালো প্রস্তুতি, আমাদের জন্যও। ভারতের মতো দলের বিপক্ষে পাঁচটা টি-টোয়েন্টি খেলা এবং আমাদের দলটা যে কঠিন সময় পার করে এসেছে সেটা থেকে কামব্যাক করতে হলে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। এটা আমাদের জন্য বড় সুযোগ।’
সিলেটের উইকেট বিবেচনায় রেখে কেমন রান আশা করছেন সেই উত্তরে জ্যোতির ভাষ্য ছিল, ‘প্রথমে ব্যাট করে ১৫০ প্লাস বা ১৪০ প্লাস রান যদি করতে পারি তাহলে তাদের জন্য চেজ করা কঠিন হবে। তবুও বলব না, কারণ টি-টোয়েন্টিতে এখন কোনো রানই আসলে নিরাপদ না। সবকিছুই আসলে অনিশ্চিত। তবে যদি ১৪০ বা ১৫০ রান করতে পারি, তাহলে আমাদের বোলিং অ্যাটাকের দিক থেকে ডিফেন্ড করাটা হয়তো বা একটু হলেও সহজ হবে।’