কানাডার ছুঁড়ে দেওয়া দুশো ছুঁইছুঁই দলীয় সংগ্রহটা টপকে জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্রের। সেই ব্যাপারটা মাথায় নিয়েই ব্যাট করতে নেমেছিল স্বাগতিকরা। আগের ১৬৯ রান তাড়া করার লক্ষ্যটা তারা অনায়াসেই টপকে গেছে ১৪ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখে। যা কিনা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সহযোগী দেশগুলো মধ্যে রান তাড়ার রেকর্ডও।
রবিবার (২ জুন) বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে রেকর্ড গড়া ঐতিহাসিক জয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নায়ক ছিলেন অ্যারন জোন্স। চারে নামা এই ব্যাটার ফিফটি করেন ২২ বলে। যা তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে দ্রুততম। শুধু ফিফটি করেই থামেননি ১০ ছক্কায় করেন ৪০ বলে অপরাজিত ৯৪ রান। তার এই বিধ্বংসী ইনিংসেই ম্যাচে নিজেদের অবস্থান হারিয়ে ফেলে কানাডা। তাকে সঙ্গ দেন আন্দ্রিস গুস।
এই দুজনের জুটিতে আসে ৫৮ বলে ১৩১ রানের এক অবিশ্বাস্য জুটি। প্রতি ওভারে এই জুটি রান তোলে ১৪.২৯ করে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শতরানের জুটির ইতিহাসে এর চেয়ে দ্রুতগতিতে রান তুলতে পারেনি আর কোনো জুটি। ৪৬ বলে ৬৫ রান করে আউট হন গুস।
যদিও, ১৯৫ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেওয়া কানাডা শুরুটা করেছিল অসাধারণ। প্রথম ৭ ওভারে স্বাগতিকদের ২ উইকেট তুলে নেয় তারা ৪৫ রানে। রিকোয়ার্ড রানরেট কঠিন কওরে তোলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। বাকি ১৩ ওভারে তাদের দরকার ছিল ১৫০ রান। সেটিও আবার তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ১৮ বল আগে টপকে যেতে দিয়েছে নিজেদের খেই হারানো বোলিং ও বাজে ফিল্ডিংয়ে।
এর আগে, টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার অ্যারন জনসন ও নবনীত ঢালিওয়ালয়ের জুটিতে আসে ৪৩ রান। জনসন ১৬ বলে ২৩ রানে আউট হলেও টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি করেন ঢালিওয়াল। ৩৬ বলে ফিফটি করা ঢালিওয়াল আরও একটি কার্যকরি জুটি গড়েন চার নম্বরে ব্যাট করতে আসা নিকোলাস কার্টনের সঙ্গে ৩৭ বলে ৬২ রানের।
ঢালিওয়াল ৬১ রান করে আউট হন কোরি অ্যান্ডারসনের বলে। রানের চাকা সচল থাকে ২৮ বলে ফিফটি করা কার্টনের ব্যাটে। এছাড়া শেষ দিকে শ্রেয়াস মোভা ১৬ বলে ৩২ রানের ক্যামিও ইনিংস খেললে কানাডা পায় ১৯৪ রানের বড় সংগ্রহ। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে স্পিনার হারমিত সিং ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন।
সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে ২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডসের ১৯৩ রান ছিল সর্বোচ্চ, সেই রান এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনেই ভেঙে দিয়েছে কানাডা ১৯৪ রান করে। এই রান তাড়া করে জিতে শেষ পর্যন্ত কানাডার রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।