টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ছোট-বড় দল বলে কিছু নেই। এমনটি বলে থাকেন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। চলমান বিশ্বকাপে সাকিবের কথা অনেকটা ফলে যাচ্ছে। আইসিসির সহযোগী দেশগুলো বেশ চমক দেখাচ্ছে বৈশ্বিক এই আসরে, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এমনকি উগান্ডাও।
অ্যারন জোন্স ৪০ বলে অপরাজিত ৯৪ রানের ইনিংস খেলে নিজের ও যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেটের সামর্থ্যের ব্যাপারে চোখ উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন নিন্দুকদের। কানাডার ১৯৪ রানের বিশাল সংগ্রহ মার্কিনিরা টপকে যায় ৭ উইকেট হাতে রেখেই। টি-টোয়েন্টিতে জোন্সের রেকর্ড ১০ ছক্কা হাঁকানো ইনিংসে শুরুর দিনেই বার্তা পাওয়া গিয়েছিল দারুণ কিছুর।
উদ্বোধনী দিনটি ছিল দুই স্বাগতিক দেশের। পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে ১৩৭ রান তাড়া করে জয় পেলেও, ঘাম ঝরেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উইন্ডিজদের। আসাদ ভালারা জয় না পেলেও একদিনেই দুই সহযোগী দেশ জানান দিয়েছিল নিজেদের সামর্থ্যের।
দশ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে বার্বাডোসে হওয়া অন্য দুই সহযোগী দেশ ওমান ও নামিবিয়ার ১০৯ রানের ক্ষুদ্র লক্ষ্যের ম্যাচ উত্তাপ ছড়িয়ে শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে সুপার ওভারে, যেখানে শেষ হাসিটা নামিবিয়ার। যেই সুপার ওভার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখেছে এক যুগেরও পর। সবশেষ ২০১২-এর আসরে হয়েছিল সুপার ওভার। সেই বিশ্বকাপে হওয়া জোড়া সুপার ওভারের স্মৃতি ফিরে এসেছে চলমান বিশ্বকাপেও। সেটিও আবার সহযোগী দেশের বিস্ময় জাগানিয়া পারফরম্যান্সেই।
এই দলগুলোর দাপুটে পারফরম্যান্সে হয়তো ক্রিকেটে আপসেট শব্দটা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র সুপার ওভারে নিয়ে গিয়ে যেন পুনরাবৃত্তি করেছে ২০১২ বিশ্বকাপে হওয়া জোড়া সুপার ওভারের স্মৃতি। অন্য দলের স্মৃতি তাদের কাছে ফিরে এসে রূপ নিয়েছে সুখস্মৃতিতে। সুপার ওভারের সেই ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে সুপার এইটে যাওয়ার স্বপ্ন উজ্জ্বল হয়েছে মোনাঙ্ক প্যাটেলদের।
ক্রিকেট বিশ্বকাপকে আপাদমস্তক বৈশ্বিক আসরে রূপান্তরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিকল্প যে কিছুই নেই এটি স্পষ্ট হয়েছে এই আসরে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও উগান্ডার আগমন বাড়িয়েছে ক্রিকেটের ব্যাপ্তিও। একই সঙ্গে বেড়েছে আমেজটাও। যার উদাহরণ টানতে ডালাসের গ্যালারিতে নেপালের দর্শকদের আধিক্য এবং মাঠের খেলায় নেদারল্যান্ডসের কাছে হারলেও নেপালিদের লড়াইও মন কেড়েছে ক্রিকেট-সমর্থকদের।
সহযোগী দেশ নিয়েই যেহেতু আলোচনা, তাই গুরুত্ব দিয়ে মনে করতে হবে স্কটল্যান্ডকেও। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ১ পয়েন্ট পেলেও তাতে মন ভরেনি দলটির অধিনায়ক রিচি বেরিংটনের।
ভুলে গেলে চলবে না প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে উগান্ডার ৩ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়, যা বাড়িয়েছে বিশ্বকাপে বারামুন্দিসদের প্রথম জয়ের অপেক্ষাও। পূর্ব আফ্রিকার দেশটির ক্রিকেট বিপ্লবে এই জয় নিশ্চিতভাবেই রাখতে যাচ্ছে মুখ্য ভূমিকা। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করা কানাডাও স্বাদ পেয়েছে পূর্ণ সদস্যের দেশকে হারানোর স্বাদ। আয়ারল্যান্ডকে তারা হারিয়েছে ১২ রানে।
দুই ম্যাচ করে খেলে একমাত্র ওমান আর পাপুয়া নিউগিনিরই বাকি এই বিশ্বকাপের জয়ের দেখা পাওয়া। এক ম্যাচ খেলে জয়শূন্য আছে নেপালও। ইংল্যান্ডদের বিপক্ষে ড্র করার পর নামিবিয়াকে হারিয়ে প্রতিযোগিতায় নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে স্কটিশরা।
সহযোগী দেশগুলো যেভাবে এগোচ্ছে তাতে নিঃসঙ্কোচে বলা যায়, বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহটা তাদেরই দখলে। নিয়মিত প্রতিপক্ষদের হারানোর পর জায়ান্টদেরও তারা ছাড় দিচ্ছে না একটুও। ম্যাচ জিতলেও যেই ছাড়টা দক্ষিণ আফ্রিকা পায়নি নেদারল্যান্ডসের কাছে।