এক পাশে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন শক্তি, অন্য পাশে মরুভূমির দেশ হলেও বিশ্বকাপে চমক দেখানোর স্মৃতি আছে যাদের। ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘এইচ’ গ্রুপে মঙ্গলবার ভোরে মুখোমুখি হচ্ছে উরুগুয়ে ও সৌদি আরব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোর ৪টায় শুরু হবে ম্যাচ। দুই দলের লক্ষ্য আলাদা। উরুগুয়ে চাইছে নিজেদের গৌরবময় অতীতের সঙ্গে নতুন সাফল্যের সেতুবন্ধ গড়তে, আর সৌদি আরব খুঁজছে আরেকটি বিশ্বকাপ-অঘটনের গল্প।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে উরুগুয়ের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন তারাই। এরপর ১৯৫০ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জেতে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। বিশ্বকাপ একাধিকবার জেতা মাত্র ছয় দেশের একটি উরুগুয়ে। কিন্তু ইতিহাস যত উজ্জ্বলই হোক, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বকাপের শুরুটা খুব একটা ভালো হয় না তাদের। শেষ আটটি উদ্বোধনী ম্যাচের মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে লা সেলেস্তেরা। চারটি ড্র, তিনটিতে হার।
এই দলের নেতৃত্বে আছেন অভিজ্ঞ মার্সেলো বিয়েলসা। বিশ্বকাপে এটি তার তৃতীয় অধ্যায়। এর আগে আর্জেন্টিনা ও চিলির কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ খেলিয়েছেন তিনি। তিনটি ভিন্ন জাতীয় দল নিয়ে বিশ্বকাপ পরিচালনা করা কোচের সংখ্যা খুবই কম; সেই বিশেষ তালিকাতেই আছেন বিয়েলসা।
দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে উরুগুয়ে ছিল চতুর্থ। সবচেয়ে বড় সাফল্য; আর্জেন্টিনাকে তাদের মাঠে হারানো। আক্রমণে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল দারউইন নুনিয়েসের। পাঁচ গোল ও দুই গোলে সহায়তা করে তিনি ছিলেন দলের প্রধান অস্ত্র। আক্রমণের দায়িত্ব এবারও তার কাঁধেই। তবে কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে উরুগুয়ে শিবিরে। দলের তুখোড় মিডফিল্ডার জর্জিয়ান দে আরাসকায়েতা, রোনাল্ড আরাউহো ও অধিনায়ক হোসে মারিয়া হিমেনেসের শারীরিক অবস্থা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। হিমেনেস না খেললে অধিনায়কত্ব করবেন ফেদেরিকো ভালভার্দে।
অন্যদিকে সৌদি আরবের পথটা ছিল কঠিন। এশিয়া অঞ্চলের বাছাইয়ে প্রত্যাশামতো খেলতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ ধাপে ইরাক ও ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করে। ১২ ম্যাচে মাত্র ১০ গোল করার পর বিদায় নেন হারভে রেনার। এরপর দায়িত্ব নেন গ্রিসের কোচ জর্জিওস দোনিস। নতুন কোচের অধীনে শুরুটা মিশ্র; ইকুয়েডরের কাছে হারলেও পরে পুয়ের্তো রিকোকে হারিয়েছে, সেনেগালের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে।
তবে সৌদিদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা এখনো কাতার বিশ্বকাপের সেই দিন। প্রথম ম্যাচেই তারা হারিয়েছিল শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর্জেন্টিনাকে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে এখনো সেই ম্যাচ আলোচনায়। যদিও পরিসংখ্যান খুব বেশি আশাবাদী নয়। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৯ ম্যাচ খেলে ১৩টিতেই হেরেছে সৌদি আরব। ১৫ বা তার বেশি ম্যাচ খেলা দেশগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে খারাপ হারের পালা। আর মাত্র একবারই তারা গোল না খেয়ে ম্যাচ শেষ করতে পেরেছে; ১৯৯৪ সালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। সেই আসরেই একবারের মতো প্রথম পর্ব পেরিয়েছিল তারা।
এবার সৌদিদের বড় ভরসা দুজন; ফিরাস আল ব্রিকান ও সালেম আল দাওসারি। বাছাইপর্বে পাঁচ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন আল ব্রিকান। আর ৩৪ বছর বয়সেও সালেম দলটির প্রাণভোমরা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইতিহাস গড়া গোলটিও এসেছিল তার পা থেকেই। গোলপোস্টের নিচেও কিছুটা অনিশ্চয়তা আছে। প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক নাওয়াফ আল আকিদি না থাকায় দায়িত্ব পেতে পারেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ আল ওয়স।
দুই দলের মুখোমুখি ইতিহাস খুব ছোট। বিশ্বকাপে একবারই দেখা হয়েছে; ২০১৮ সালে। সেবার লুইস সুয়ারেজের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল উরুগুয়ে। বিশ্বকাপের বাইরে ২০১৪ সালে রিয়াদে প্রীতি ম্যাচে ১-১ ড্র করেছিল দুই দল।
পরিসংখ্যান উরুগুয়ের দিকে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও জয়ের সম্ভাবনা তাদের অনেক বেশি। কিন্তু বিশ্বকাপ এমন এক মঞ্চ, যেখানে আট বছর আগের ইতিহাস কিংবা চার বছর আগের অঘটন; দুটোই নতুন করে জন্ম নিতে পারে।