ফুটবল ইতিহাসের পাতায় আরেকটি রাজকীয় অধ্যায় যোগ করতে যাচ্ছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফিফা বিশ্বকাপে 'গ্রুপ আই'-এর ম্যাচে আজ সোমবার যখন ফ্রান্স ইরাকের মুখোমুখি হবে, তখন দশম ফরাসি খেলোয়াড় হিসেবে শততম (১০০) ম্যাচ খেলার অনবদ্য মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি।
২৭ বছর বয়সী এই তারকার জন্য এই বিশেষ মাইলফলকটি এমন এক সময়ে আসছে, যার মাত্র এক সপ্তাহ আগেই তিনি ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। গত ১৬ জুন বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে এমবাপ্পে জোড়া গোল করেন। এর মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে তার গোল সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৮-তে, যা ওলিভিয়ের জিরুদের করা আগের সর্বোচ্চ ৫৭ গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়।
রবিবার ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমবাপ্পে বলেন, 'জাতীয় দলের চেয়ে বড় আর কিছুই হতে পারে না। ১০০টি ম্যাচ খেলা সত্যিই একটি ঐতিহাসিক ব্যাপার। আর সেটা যদি বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়, তবে তো কথাই নেই।'
২০১৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফ্রান্স দলের হয়ে এমবাপ্পের অভিষেক হয়েছিল। সোমবার মাঠে নামলে তিনি হবেন ফ্রান্সের ইতিহাসের ১০ম খেলোয়াড়, যিনি ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার গৌরব অর্জন করবেন। বর্তমানে ফ্রান্সের হয়ে ৯৯ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ৫৮।
এর আগে, ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে এমবাপ্পে ৪টি গোল করে ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন করতে ভূমিকা রেখেছিলেন এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৮টি গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট জয়ী) হয়েছিলেন। সেনেগালের বিপক্ষে করা সাম্প্রতিক দুটি গোলের পর বিশ্বকাপে তার মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪-তে, যা জার্মানির কিংবদন্তি গার্ড মুলারের সমান।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে কেবল লিওনেল মেসি ও মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৬টি গোল) এবং ব্রাজিলের রোনালদো (১৫টি গোল) তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন।
তবে নিজের ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের জয়কেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এমবাপ্পে। তিনি বলেন, 'ম্যাচের গুরুত্ব এবং সমীকরণটাই এখন আসল। পরের রাউন্ডে (নকআউট পর্বে) যেতে হলে আমাদের এই ম্যাচে জয় তুলে নিতে হবে।'
ইরাকের বিপক্ষে এই ম্যাচে জয় পেলেই ফ্রান্সের নকআউট পর্ব বা শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে। সূত্র: স্পোর্টস্টার
আজহার/