সবকিছু ঠিক থাকলে ঘরের মাঠেই বিশ্বকাপ খেলতে পারত বাংলাদেশ নারী দল। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে সামনে চলে আসে নিরাপত্তা ইস্যু। যে কারণে অনেক দেশেই বাংলাদেশের আসতে চায়নি। যার ফলে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলে যায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাতে। আর সেখানেই আজ থেকে শুরু হবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর।
শারজায় উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। বি গ্রুপের এই ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায়। উদ্বোধনী দিনে ম্যাচ রয়েছে আরও একটি। এ গ্রুপে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। দুটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে শারজাহ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। বিশ্বকাপের অপর ভেন্যু দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এ ভেন্যুতে একটি সেমিফাইনাল ও ফাইনালসহ মোট ১২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। শারজায় হবে একটি সেমিফাইনালসহ ১১টি ম্যাচ। বাংলাদেশ পড়েছে বি গ্রুপে। যেখানে বাকি চার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অন্যদিকে এ গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড টাইগ্রেসদের জন্য স্বস্তিকরই। কারণ আগের চার মোকাবিলায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে চারটিতেই জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। বিশ্বকাপের মঞ্চেও স্কটিশদের হারিয়ে শুরুটা দারুণ করতে মরিয়া নিগার সুলতানা ব্রিগেড। সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে হারানোর স্মৃতিও বাংলাদেশ শিবিরে যোগ করছে বাড়তি প্রেরণা।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির জন্য বিশেষ। বাংলাদেশের জার্সিতে এটি তার ১০০তম ম্যাচ হতে যাচ্ছে। বিশেষ মাইলফলকের ম্যাচের আগে জ্যোতি বেশ আনন্দিত। তিনি জানান, ‘অন্য রকম অনুভূতি ১০০তম ম্যাচ খেলার। অনেক বেশি খুশি। অনেক সময় আসলে অবাকও লাগে। মনে হচ্ছিল এই হয়তো ক্যারিয়ার শুরু করেছি। দেখতে দেখতে প্রায় ১০০টা ম্যাচ হয়ে যাচ্ছে। আমি অনেক আনন্দিত। সব থেকে খুশি হব যদি ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ে কোনো অবদান রাখতে পারি, সেটা হবে সবচেয়ে বেশি স্মরণীয়।’
গেল বিশ্বকাপগুলোতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আহামরি নয়। এবারের আসর ঘিরে প্রত্যাশার পারদ তাই বেশি বাংলাদেশের অধিনায়কের। তিনি বলেন, ‘আমরা যতগুলো বিশ্বকাপ খেলেছি, ২০১৪ ছাড়া বলার মতো তেমন বলার কিছু করতে পারিনি। আমাদের জন্য এটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আমরা চাই এই বিশ্বকাপটা কাউন্টেবল ও মেমোরেবল হয়।’
বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে নিগার সুলতানা বলেন, ‘আমাদের দল যেভাবে খেলে এসেছে, শেষ ওয়ার্ম আপ ম্যাচটা যেভাবে খেলেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে। সবাই একটা ভালো শেপে দেখেছি। সবার ভেতর এনার্জি বা ম্যাচ জেতার ক্ষুধা রয়েছে। ব্যাটিং ইউনিট অনেক ভালো করেছে, ভালো একটা স্কোর দাঁড় করিয়েছে। বোলাররা অনেক ভালো বেশি ব্যাক আপ দিয়েছে। আমরা জয়ের জন্যই খেলব।’
বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নিয়ে আশাব্যঞ্জক কথা বলেছেন দলের লঙ্কান কোচ হাসান তিলকরত্নে। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ। আমরা এখানে ২০ কোটি মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করছি। সবাই এই টুর্নামেন্টের দিকে তাকিয়ে আছে। যদি আপনি দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের দিকে দেখেন। প্রথমটা প্রত্যাশামতো হয়নি, দ্বিতীয়টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে মেয়েরা খুব ভালো খেলেছে। টুর্নামেন্টটা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক।’
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাস বেশ ভালো। দল জয়ই প্রত্যাশা করছে। কোচের মতে, জয় দিয়ে শুরুটা হলে মোমেন্টামে আমরা এগিয়ে থাকব। তিনি বলেন, ‘মোমেন্টামের শুরুটা প্রথম ম্যাচ থেকেই শুরু হয়। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আমরা সেরা খেলাটা খেলব ও ইতিবাচক ফল আনব। আমি নিশ্চিত মেয়েরা আত্মবিশ্বাসী ও ফোকাস টুর্নামেন্টে খেলার জন্য।’
জ্যোতির ১০০তম ম্যাচ উপলক্ষে হাসান বলেন, ‘এটা বড় উপলক্ষ জ্যোতি ও দলের জন্য। সবাই জ্যোতির ১০০তম ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছে। এটা আমাদের সবার জন্য বড় উপলক্ষ।’
এবারের বিশ্বকাপের আগে মেয়েদের ক্রিকেট উন্নয়নে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। বিশ্বকাপে ছেলেদের সমান অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে মেয়েদের চ্যাম্পিয়ন দলকেও। মেয়েদের ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দেওয়া ও ২০৩২ সালের মধ্যে এর বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে আইসিসি। তাতে ২০২৩ আসরের তুলনায় ২২৫ শতাংশ অর্থ বেশি পাবে নারী দলগুলো। আসরজুড়ে দলগুলোকে মোট ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ৮০ ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।
প্রথমবার ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হয় ২০০৭ সালে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে মেয়েদের ক্রিকেটকেও প্রসারিত করতে উদ্যোগ নেয় আইসিসি। ছেলেদের বিশ্বকাপের দুই বছর পর চালু হয় মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গত ১৫ বছরে ৮টি আসর হয়েছে। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে হয়েছিল মেয়েদের বিশ্বকাপের অষ্টম আসর।
২০১৪ থেকে শুরু করে এটি বাংলাদেশের টানা ষষ্ঠ অংশগ্রহণ। আগের পাঁচবারই প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। বিশ্বকাপে মোট ২১ ম্যাচ খেলে মাত্র ২টিতে জিতেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ছেলেদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতো মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দাপট অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের। আটবারের মধ্যে ছয়বারই চ্যাম্পিয়ন দলটি। একবার করে শিরোপা জিতেছে ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মেয়েরা।