ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকো সিটিতে হাজার হাজার ফুটবল ভক্ত বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের অলৌকিক প্রার্থনায় জড়ো হচ্ছেন রাজধানীর প্রধান ক্যাথেড্রালে। তবে এই প্রার্থনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মেক্সিকোর জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পরা এক শিশু যীশুর মূর্তি। ভক্তরা সেখানে গিয়ে দলের বিজয়ের জন্য আকুল প্রার্থনা জানাচ্ছেন।
মেক্সিকোতে এই ঐতিহ্যের সূচনা হয়েছিল ১৯৭০ সালে, যখন দেশটিতে প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবারই প্রথম মেক্সিকোর প্রধান ক্যাথেড্রালে এই ফুটবলার শিশু যীশু'র মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।
মেক্সিকোর সংস্কৃতিতে শিশু যীশুর মূর্তিকে বিভিন্ন পোশাকে সাজানোর রেওয়াজ বেশ পুরনো। যেমন—ভ্রমণকারীদের সুরক্ষার জন্য তাকে তীর্থযাত্রীর পোশাকে কিংবা সুস্বাস্থ্যের প্রার্থনায় 'ডাক্তার'-এর পোশাকে সাজানো হয়।
ফুটবল জার্সিতে শিশু যীশু সাজানোর এই প্রথাটি ৫৫ বছর আগে মেক্সিকো সিটির একটি দরিদ্র এলাকার 'সান মিগুয়েল আরকাঞ্জেল' চার্চে শুরু হয়েছিল। তবে চলতি বছর চার্চের নতুন যাজক এটিকে ‘অসম্মানজনক’ আখ্যা দিয়ে এই রীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
এতে ভক্তদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এমনকি অনেক ভক্ত আশঙ্কা করতে থাকেন যে, এর ফলে হয়তো জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এই চরম উত্তেজনার মুখে মেক্সিকো সিটির মেট্রোপলিটন ক্যাথেড্রাল কর্তৃপক্ষ ভক্তদের আবেগকে সম্মান জানিয়ে নিজেদের প্রাঙ্গণেই 'এল ত্রি' এর জার্সি পরিহিত শিশু যীশুর মূর্তি প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়।
ক্যাথেড্রালের ক্যানন ম্যানুয়েল কোরাল বলেন, ‘ক্যাথেড্রালে এবারই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে... স্বয়ং সাধারণ মানুষই এই দাবি জানিয়েছিলেন।’
কোরাল আরও জানান, বিশ্বকাপে প্রিয় দলের একটু বাড়তি সুবিধা বা আশীর্বাদ পাওয়ার এই আকুলতা কেবল মেক্সিকান ভক্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আজতেকা স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার আগে কলম্বিয়ার ভক্তদেরও এখানে এসে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে।
মেক্সিকো দলের পারফরম্যান্স যাই হোক না কেন, বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের শেষ দিন পর্যন্ত এই মূর্তিটি ক্যাথেড্রালের অলিন্দসহ বিভিন্ন অংশে প্রদর্শিত হবে এবং এটি জাতীয় দলের কোনো না কোনো জার্সি পরিহিত অবস্থায় থাকবে।