দেশের একমাত্র ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ডামাডোল শুরু হয়ে গেছে বেশ আগেই। বলা যায়, গত অক্টোবরে হয়ে যাওয়া প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে বিপিএলের ১১তম আসরের ঘণ্টা বাজতে শুরু করে। এরপর অবশ্য জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা ছিল। জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটাররা ব্যস্ত ছিলেন এনসিএল নিয়ে। তাই বিপিএল দেশের ক্রিকেটের আলোচনার কেন্দ্রে থাকেনি। তবে এখন সময়টা শুধুই বিপিএলের। কারণ আগামী সোমবার থেকেই মাঠে গড়াবে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে আলো ঝলমলে এই প্রতিযোগিতা।
বিপিএলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অবশ্য এরই মধ্যে হয়ে গেছে। গত ২৩ ডিসেম্বর হয়ে যাওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতিয়ে গেছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খান। এখন ব্যাট-বলের সুর বেজে ওঠার পালা। বিপিএল সামনে রেখে দলগুলোও এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে নিতে ব্যস্ত। এবারের আসরে অংশ নেবে ৭টি দল। যাদের মধ্যে ঢাকা ক্যাপিটালস ও চিটাগং কিংস বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামসংলগ্ন একাডেমি মাঠে অনুশীলন সেরেছে। বাকি ৫ দলেরও আজ থেকেই পুরোদমে অনুশীলনে নেমে পড়ার কথা।
আগামী সোমবার উদ্বোধনী ম্যাচে লড়বে ফরচুন বরিশাল ও দুরন্ত রাজশাহী। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে ঢাকা ক্যাপিটালস ও রংপুর রাইডার্স। পর দিন দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম কিংস ও খুলনা টাইগার্স। দ্বিতীয় ম্যাচে রংপুর খেলবে সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে। এরই মধ্যে দিয়ে এবারে আসরের প্রতিটি দলের মাঠে নামাও হয়ে যাবে। এরই মধ্যে বিদেশি ক্রিকেটাররাও আসতে শুরু করেছেন। ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবেন বাকিরাও।
এবারের বিপিএলটা একদিক থেকে একটু অন্য রকমই হবে। কারণ টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দুই ক্রিকেটারকে এবার পাওয়া যাবে না। এই দুই ক্রিকেটারের নাম মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান। খেলোয়াড়ী জীবনেই দুজন রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছিলেন। মাশরাফি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাকিব হয়েছেন একবার। কিন্তু গত অক্টোবরে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এতে মাশরাফি-সাকিব দুজনই সংসদ সদস্য পদ তো হারানই, দুজনের ক্রিকেট ক্যারিয়ারও পড়ে যায় ঝুঁকিতে। সাকিব যেমন সরকার পতনের পর আর দেশেই আসতে পারছেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার সেই আশা পূরণ হয়নি।
আসলে সাকিব-মাশরাফি দুজনের কারও মাঠে নেমে খেলার মতো পরিবেশ নেই। অথচ মাশরাফি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক। গত আসরের মতো এবারও যার খেলার কথা ছিল সিলেট স্ট্রাইকার্সে। আর সাকিব তো প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফল ক্রিকেটার। কারণ এই অলরাউন্ডার প্রতিযোগিতার সর্বাধিক উইকেট শিকারির তালিকায় শীর্ষে। রান সংগ্রাহকের তালিকায় চার নম্বরে। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারবার পেয়েছেন সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার। যাকে এবার সরাসরি চুক্তিতে দলে ভিড়িয়েছে ছিল চিটাগং কিংস।
স্বাভাবিকভাবেই গতকাল সাকিবকে ছাড়াই অনুশীলন করেছে চিটাগং। তারা যখন অনুশীলন করতে মাঠে আসে, তখনো ঢাকার অনুশীলন শেষ হয়নি। ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন যখন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন, তখন সাকিব প্রসঙ্গটা আসে। এ সময় সাকিবকে পাওয়া যাবে না বলে হতাশা প্রকাশ করে সুজন বলেন, ‘সারা দেশে সাকিবিয়ান (সাকিবের সমর্থক) তো অনেক। ‘সাকিবের না থাকা একটু তো প্রভাব ফেলবেই। কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটার সাকিব। বিশ্বের এক নম্বর ক্রিকেটার। সাকিব না থাকা তো আমাদের সবার জন্যই একটা…।’ সুজন আরও বলেন, ‘দেশের একটা ক্রিকেটার, দেশের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট খেলতে পারবে না। ক্রিকেটাররাও সবাই হতাশ আমার মনে হয়। সবাই হয়তো মাইকের সামনে বলতে পারে না। কিন্তু ক্রিকেটাররাও হতাশ। কারণ সব ক্রিকেটারের সঙ্গেই সাকিবের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। সবাইকে সব ভাবে সহযোগিতা করে সে। তো খারাপ লাগছে আর কি!’ খেলোয়াড় সাকিবের সঙ্গে ৭-৮ মাসের রাজনীতিবিদ সাকিবকে মেলানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন সুজন।
চিটাগং কিংসের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ফাস্ট বোলার শন টেইট। তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশে কখনোই পেস বোলিংয়ে এমন ডেপথ ছিল না। প্রতি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করতে পারা একজনকে পাওয়া বিরল। খুব ভালোভাবে তার (নাহিদ) যত্ন নিতে হবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সে দারুণ কিছু হবে।’