ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মেক্সিকোর চোখ গ্রুপসেরায়, দ.কোরিয়ার সামনে নকআউট নিশ্চিতের সুযোগ অপেক্ষা ফুরাচ্ছে ওচোয়ার! ইংল্যান্ডকে জিততে দিল না ঘানা মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গেলেন ফ্রান্সের কোচ অতঃপর দেম্বেলে… প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা বিশ্বকাপে ইরানের সফর নীতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

ক্রীড়াঙ্গনে ভালোবাসা দিবসের সেকাল-একাল

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১১:২৫ এএম
আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১১:২৬ এএম
ক্রীড়াঙ্গনে ভালোবাসা দিবসের সেকাল-একাল
দুই তারকা শুটার সাবরিনা সুলতানা ও সাইফুল আলম চৌধুরী রিংকি

দীর্ঘ প্রেমের পর এ শতাব্দীর শুরুর দিকে ঘর বেঁধেছিলেন দুই তারকা শুটার সাবরিনা সুলতানা ও সাইফুল আলম চৌধুরী রিংকি। পরের দশকে একে অপরের সঙ্গে বাধা পড়েন ব্যাডমিন্টনের উজ্জ্বল দুই মুখ এনায়েত উল্লাহ খান ও এলিনা সুলতানা। আর সদ্যই ভারোত্তোলেন তারকা মাবিয়া আক্তার সীমান্ত জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন সতীর্থ ভারোত্তোলক শাকায়েত হোসেন প্রান্তকে। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে খবরের কাগজ তুলে ধরছে এই তিন দম্পতির গল্প। তিনটি ভিন্ন দশকে ঘর বাঁধা এই দম্পতিদের গল্পে উঠে এসেছে ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইনস ডের সেকাল-একালও। লিখেছেন- তোফায়েল আহমেদ

রিংকি-সাবরিনার ১১ বছরের প্রেম

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অন্যতম সফল দুই ক্রীড়াবিদ সাবরিনা সুলতানা ও সাইফুল আলম চৌধুরী রিংকি। দুজনই দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে একাধিক স্বর্ণ পদক জিতেছেন। কমনওয়েলথ শুটিংয়েও সোনার পদক আছে সাবরিনার ঝুলিতে। ২০০৩ সালে তারা ঘর বাঁধেন। তার আগে দুজনের মধ্যে ছিল দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্ক। ১৯৯২ সালে একে অপরকে মন দেন। সেই সময়টায় ভ্যালেন্টাইনস ডে কীভাবে উদযাপন করতেন তারা?

রিংকির কথায়, ‘সেই সময় আমাদের তো একটা পরিচিতি ছিল। অনেক কিছু হিসাব করেই করতে হতো। চাইলেই শুধু দুজন মিলে একসঙ্গে ঘুরতে পারতাম না।’

সাবরিনার কথায়, ‘আমাদের ওই সময়ে আসলে ভ্যালেন্টাইনস ডে এখনকার মতো এতটা জনপ্রিয় ছিল না। তবে পহেলা ফাল্গুনটা উদযাপন করতাম। আমরা সব শুটার মিলে বইমেলায় যেতাম। মেয়েরা শাড়ি পরত, ছেলেরা পাঞ্জাবি। দিনে সকালে শুটিং করে বিকেলে সবাই দিনটা উদযাপন করতাম।’

এটা সাবরিনার বিয়ের আগের কথা। তবে বিয়ের পর তো আর কোনো বাধা ছিল না। আর ততদিনে পহেলা ফাল্গুনের মতো ভ্যালেন্টাইনস ডেও বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের জন্য উদযাপনের উপলক্ষে পরিণত হয়েছে। সাবরিনা বলেন, ‘বিয়ের পর পর দুজনে মিলে একটু বাইরে যাওয়া, ঘোরা এগুলো তো হতোই। ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুনের বিষয় মাথায় রেখে সে অনুযায়ী শাড়ি পরতাম, যেটা রিংকি পছন্দ করত।’

এখনো দিনটি উদযাপন করে এই দম্পতি। তবে কিছুটা হলেও বদলে গেছে উদযাপনের রং। রিংকি বলেন, ‘বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তো অনেক কিছুই বদলে যায়। এখন বাচ্চারা আছে। ওদের নিয়েই সব। ওদের সঙ্গে নিয়েই দিনটি উদযাপন করি। বাইরে বের হই।’ সাবরিনা বলেন, ‘আগের দুজন ছিলাম, এখন তো চারজন। দুই ছেলে আমাদের। এখন চারজন মিলেই উদযাপন করি। বাচ্চাদের ছাড়া এখন আসলে কিছুই হয় না।’

এলিনা-এনায়েতের ১৪ বসন্ত

দুজনই ব্যাডমিন্টনের সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। এনায়েত খেলা ছেড়ে এখন পুরোদস্তুর কোচ-সংগঠক। এলিনাও মনোনিবেশ করেছেন কোচিংয়ে। ২০১১ সালে দুজন ঘর বাঁধেন। এরপর একে একে ১৪টি বসন্ত পাড়ি দিয়েছেন। দুজন থেকে তারকা দম্পতির সংসার এখন পাঁচজনের।

তাদের ঘর আলো করে রেখেছে তিন সন্তান। এলিনা-এনায়েতের ভালোবাসা দিবসের কেন্দ্রেও এখন তাদের সন্তানরা। এলিনার কথায়, ‘প্রথম দিকে সবারই একটু ভিন্নভাবে কাটে। এটাই স্বাভাবিক। ভালোবাসাটা শুধু তো আর স্বামী-স্ত্রীকেন্দ্রিক না। ভালোবাসাটা ছেলেমেয়ে, বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবাইকে নিয়ে। আমরা দুজনই যেহেতু ব্যস্ত, ছুটির দিন হলে পরিবারের সবাই মিলে ঘোরা যায় কি না, এটা লক্ষ্য থাকে।’

এনায়েতের কথায়, ‘ভালোবাসা অনুভূতির বিষয়। এটা তো শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনকেন্দ্রিক হয় না। প্রতিদিনই আসলে ভালোবাসার। আমার স্ত্রীর কথা বলব- অনেক ভালোবাসি তাকে। আর এখন আমাদের এক ছেলে-দুই মেয়ে। ওদের নিয়ে খুব ভালো আছি। ভালোবাসার প্রকৃত রূপ যেটা, সেটা তো আসলে বাচ্চারা। ওদের নিয়ে প্রতিদিনই এখন ভালোবাসার দিন।’

এনায়েত-এলিনা দম্পতি বিয়ের আগে যে লম্বা প্রেম করেছেন এমন নয়। এলিনা তো তাদের বিয়েকে প্রেমের বিয়ে বলতেই চান না, ‘আমাদের এ ধরনের কোনো সম্পর্ক ছিল না। পুরোপুরি পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছে। ভেবেছিলাম, যেটাই হোক না কেন বিয়ের পরই হোক (হাসি)।’

এনায়েতের কথায়, ‘ওকে আমার খুব ভালো লাগত। একসঙ্গে অনেক দেশ ঘুরেছিলাম আমরা। এক দিন সাহস করে ওকে ভালোলাগার কথাটি বলেই ফেলি। পরবর্তী সময়ে পারিবারিকভাবে বিয়ে।’ বিয়ের শুরুর দিকে অবশ্য ভ্যালেন্টাইনস ডে বিশেষভাবেই উদযাপন করতেন তারা। এখন সবকিছু সন্তাদের ঘিরে হলেও এলিনা কিন্তু দিবসটি উপলক্ষে গিফট পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেন না। না হলে কেন বলবেন, ‘ভ্যালেন্টাইনস ডেতে হাজবেন্ডের কাছ থেকে গিফট নেওয়ার অপশন ছাড়া যাবে না। এটা নারী জাতির অধিকার (হাসি)।’

প্রেম করার সময় পাননি মাবিয়া-প্রান্ত

সদ্যই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন তারকা ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। জীবনসঙ্গী হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন সতীর্থ ভারোত্তোলক শাকায়েত হোসেন প্রান্তকে। সদ্য বিয়ে, আপাতত তাদের প্রতিটি দিনই তো উদযাপনের। এর মধ্যে সপ্তাহ ঘুরতেই হাজির ভ্যালেন্টাইনস ডে। দিনটা কীভাবে উদযাপন করবেন এই নব দম্পতি?

মাবিয়ার কথায়, ‘আমাদের তো প্রেম করার সময় হয়নি। একসঙ্গে এটাই প্রথম ভ্যালেন্টাইনস ডে আমাদের। চেষ্টা করব আমাদের জন্য দিনটি যেন স্মরণীয় হয়ে থাকে। বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। অবশ্যই তাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। এখন তিনি আমাকে কী সারপ্রাইজ দেবেন, সেটা আমি জানি না (হাসি)।’

মাবিয়া যোগ করেন, ‘দিনটি অবশ্য শবেবরাত পড়েছে। এদিন বাসায় কাজ থাকবে। যদি বের হতে না-ও পারি তাহলে পরের দিন আমরা ভ্যালেনটাইনস ডে উদযাপন করব। একটু ঘুরতে যাওয়া, রেস্টুরেন্টে যাওয়া… এসব আরকি।’

প্রান্ত বলেন, ‘আমাদের জন্য খুব দ্রুতই এসে গেছে দিনটি। ভাবতেছি কী করা যায়? তবে এখনো কনফার্ম কিছু ভাবিনি। যেহেতু প্রথম ভ্যালেন্টাইনস ডে, দিনটিকে স্মরণীয় তো করতেই হবে।’

মাবিয়া-প্রান্ত একই ভুবনের বাসিন্দা। চেনা-জানা তাদের আগে থেকেই। তবে বিয়েটিকে প্রেমের বিয়ে নয় বলেই দাবি দুজনের। মাবিয়ার কথায়, বছর দুই আগে প্রান্ত তাকে নিজের মনের অনুভূতির কথা জানিয়েছিলেন। মাবিয়া বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছিলেন পরিবারের ওপর। এরপর পারিবারিকভাবেই গত ৭ ফেব্রুয়ারি তাদের চার হাত এক হয়েছে।

প্রান্ত বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে প্র্যাকটিস করতাম। ওকে আমার ভালো লাগত। এক দিন প্রকাশও করি। পরে ওদের পরিবারকেও জানাই। ওরা আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে কথাবার্তা বলতে বলেন। এভাবেই আসলে সবকিছু এগিয়েছে।’

মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গেলেন ফ্রান্সের কোচ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ এএম
মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গেলেন ফ্রান্সের কোচ
দিদিয়ের দেশম। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের মা মারা গেছেন। মায়ের মৃত্যুতে বিশ্বকাপ ছেড়ে দেশে ফিরে গেলেন তিনি। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডাগআউটে দেখা যাবে না ৫৭ বছর বয়সী এই কোচকে। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)।

মঙ্গলবার সকালে মায়ের মৃত্যুর খবর পান দিদিয়ের দেশম। এরপর এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালিও তাকে শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য দেশে ফেরার অনুমতি দেন।

এক বিবৃতিতে ফেডারেশন জানায়, ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক এই সময়ে আমরা প্রধান কোচের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তাকে শক্ত থাকার আহ্বান জানাই এবং পুরো ফুটবল পরিবারের সমর্থন তার সঙ্গে রয়েছে।’

ফলে নরওয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দলের সঙ্গে থাকবেন না দেশম। শুক্রবার (২৬ জুন) বোস্টনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে গ্রুপ ‘আই’-এর শীর্ষস্থান নির্ধারিত হবে।

এফএফএফ জানিয়েছে, দেশমের অনুপস্থিতিতে সহকারী কোচ গাই স্টেফেন দলের দায়িত্ব পালন করবেন। দেশম ফিরে না আসা পর্যন্ত তিনিই দলের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

দেশমের অধীনে ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে শিরোপা জেতে ফ্রান্স। এ ছাড়া ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি, যদিও টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্সআপ হতে হয় ফরাসিদের।

চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শুরু করেছে ফ্রান্স। প্রথম দুই ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ এবং ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে ইতোমধ্যে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা। 

সালমান/

অতঃপর দেম্বেলে…

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:৪০ এএম
অতঃপর দেম্বেলে…
উসমান দেম্বেলে। ছবি: সংগৃহীত

উসমান দেম্বেলের বুক থেকে নিশ্চয়ই বড় এক পাথর সরে গেল! ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকার ক্যাবিনেটে কি নেই? বিশ্বকাপ জিতেছেন, ক্লাব ফুটবলে সব বড় ট্রফিরই দেখা পেয়েছেন। এর পরও একটা না পারার হাহাকার তার মনে ছিলই। বিশ্বকাপের মঞ্চে যে একটা গোল ছিল না তার। অবশেষে এই না পারার দুঃখ মোচন হয়েছে পিএসজি ফরোয়ার্ডের। সোমবার রাতে ইরাকের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-০ গোলের জয়ে জালের দেখা পেয়েছেন ২৯ বছর বয়সী তারকা।

নিজের ১৩তম বিশ্বকাপ ম্যাচে এসে গোলের দেখা পেলেন দেম্বেলে। এই যে এতদিন গোল করতে পারেননি, এ নিয়ে কানাঘোষা কম হয়নি। পিএসজির হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ২০২৫ সালে ব্যালন ডি’অর ও ‘ফিফা দি বেস্ট’ পুরস্কার জিতে নেন তিনি। এর পরও সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছিলেন- ফ্রান্সের এই দলে দেম্বেলে আদৌ নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছেন কি না? বিশেষ করে সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের প্রথম ম্যাচের পর। ৩-১-এ জয়ী ম্যাচটিতে দেম্বেলেকে একপর্যায়ে বদলিও করেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম। সেটা দেখে অনেকে এও বলছিলেন, দেম্বেলে বুঝি দেশমের কৌশলের সঙ্গে ঠিক খাপ খাওয়াতে পারছেন না। 

অবশ্য ইরাক ম্যাচের আগে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে এসব সমালোচনার জবাব দেন। দেম্বেলের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘উসমান ব্যালন ডি’অর জয়ী। দলের সবাই তার পাশে আছে এবং তাকে বিশ্বাস করে। সে দলের অপরিহার্য একজন। সে অনেক বছর ধরে খেলছে এবং ফ্রান্স দল কীভাবে খেলে সে ভালো করেই জানে।’

এমবাপ্পে সেনেগাল ম্যাচের পর ইরাকের বিপক্ষেও জোড়া গোল পেয়েছেন। যার একটি তিনি করেছেন দেম্বেলের এসিস্ট থেকেই। সতীর্থকে দিয়ে গোল করার পর নিজেও জাল খুঁজে নিয়ে দীর্ঘ এক অপেক্ষার ইতি টানেন তিনি। বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে নিজের ২০তম ম্যাচে এসে মেজর টুর্নামেন্টে গোল। বলতেই হয়, বুক থেকে বড় পাথরটা সরাতে পরেছেন দেম্বেলে।

এই দেম্বেলেকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমও। শিষ্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, ‘উসমানের প্রতি একটু সদয় হোন। তাকে নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। এখানে এসে তাকে সেই পদ্ধতির সঙ্গে আবার মানিয়ে নিতে হচ্ছে, যেটায় সে সারা বছর খেলে না।’ 

অধিনায়ক ও কোচ দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জেতা এই কিংবদন্তি আরও বলেন, ‘উসমানের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। সে নিজেও সেটা জানে। সে এমন কেউ নয়, যে নিজেকে নিয়ে সংশয়ে ভুগবে। আজ সে যা করেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার মতো একজন খেলোয়াড়।’

অপেক্ষা ফুরাচ্ছে ওচোয়ার!

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৫:০০ এএম
অপেক্ষা ফুরাচ্ছে ওচোয়ার!
গিয়ের্মো ওচোয়া। ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়ার। চেকিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকোর শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষককে। ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোচ হাভিয়ের আগিরে এই ম্যাচে ওচোয়াকে শুরু থেকেই খেলানোর পরিকল্পনা করছেন।

বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির মতো ওচোয়াও আছেন ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। তবে পার্থক্য হলো; এবার মাঠে নামলে সেটি হবে তার মাত্র চতুর্থ বিশ্বকাপ।

২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে পুরো সময় বেঞ্চেই কাটাতে হয়েছিল তাকে। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২; টানা তিন আসরে গোলপোস্টের নিচে ছিলেন মেক্সিকোর অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক। বিশেষ করে বড় ম্যাচে তার একের পর এক স্মরণীয় সেভ বিশ্বকাপ ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে দিয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই নিজেদের গ্রুপসেরা নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। ‘এ’ গ্রুপ থেকে শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করে ফেলা দলটি গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে চেকিয়ার বিপক্ষে।

ম্যাচটি হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকায়। যে মাঠ ওচোয়ার কাছে শুধুই একটি স্টেডিয়াম নয় বরং নিজের ফুটবল জীবনের সবচেয়ে পরিচিত ঠিকানা। মেক্সিকোর শীর্ষ লিগ লিগা এমএক্সের ক্লাব আমেরিকায় ক্যারিয়ারের বড় সময় কাটিয়েছেন তিনি। তাই বিশ্বকাপের সম্ভাব্য শেষ অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে পারেন নিজের সবচেয়ে পরিচিত মঞ্চেই।

আগামী মাসে ৪১ বছরে পা দিতে যাওয়া ওচোয়ার জন্য এটি হতে পারে বিশ্বকাপে দ্বাদশ ম্যাচ এবং জাতীয় দলের জার্সিতে ১৫৩তম উপস্থিতি। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন; এই আসর শেষেই জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন। এমনকি পেশাদার ফুটবল থেকেও সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

মেক্সিকো ও পুরো কনক্যাকাফ অঞ্চলের অন্যতম সফল গোলরক্ষক হিসেবে ধরা হয় ওচোয়াকে। তার নেতৃত্বে তিনবার কনক্যাকাফ গোল্ড কাপ জিতেছে মেক্সিকো; ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে। এই টুর্নামেন্টে তার খেলা ১৭ ম্যাচের মধ্যে মেক্সিকো জিতেছে ১৪টি, ড্র করেছে দুটি এবং হেরেছে মাত্র একবার।

মেক্সিকোর চোখ গ্রুপসেরায়, দ.কোরিয়ার সামনে নকআউট নিশ্চিতের সুযোগ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:০০ এএম
মেক্সিকোর চোখ গ্রুপসেরায়, দ.কোরিয়ার সামনে নকআউট নিশ্চিতের সুযোগ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’-তে শেষ রাউন্ডের ম্যাচগুলোই ঠিক করে দেবে বাকি সমীকরণ। স্বাগতিক মেক্সিকো টানা দুই জয়ে ইতোমধ্যে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে ১ পয়েন্ট করে নিয়ে এখনো আশা বাঁচিয়ে রেখেছে চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৮টায় একসঙ্গে মাঠে নামবে চার দল। মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ চেক প্রজাতন্ত্র, আর দক্ষিণ আফ্রিকা খেলবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। দুই ম্যাচের ফলেই চূড়ান্ত হবে গ্রুপের শেষ চিত্র।

মেক্সিকো ইতোমধ্যেই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে। তবে নিজেদের দর্শকদের সামনে শতভাগ সাফল্য ধরে রেখে গ্রুপসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নামবে হাভিয়ের আগিরের দল। দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্টের পাশাপাশি এখন পর্যন্ত কোনো গোলও হজম করেনি স্বাগতিকরা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ও দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে তারা।

অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের সামনে সমীকরণ একটাই; জিততেই হবে। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হারের পর দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ১-১ ড্র করেছে তারা। ফলে দুই ম্যাচ শেষে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

চেকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভারসাম্য রাখা। জয়ের জন্য আক্রমণে উঠতে হবে, কিন্তু তাতে পেছনে ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন মেক্সিকোর আক্রমণভাগের রাউল হিমেনেজ ও সান্তিয়াগো গিমেনেজ।

দুই দলের ইতিহাসও খুব সমৃদ্ধ নয়। এর আগে মোট তিনবার মুখোমুখি হয়েছে তারা। বিশ্বকাপে চেক প্রজাতন্ত্র নামে এটিই হবে প্রথম দেখা। সর্বশেষ ২০০০ সালে লুনার নিউ ইয়ার কাপে ২-১ গোলে জিতেছিল চেকরা। এর আগে ১৯৬২ বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরেছিল মেক্সিকো এবং ১৯৬১ সালের প্রীতি ম্যাচে জিতেছিল চেকোস্লোভাকিয়া।

দলীয় খবরেও বড় কোনো উদ্বেগ নেই। চেকদের আক্রমণে থাকবেন পাত্রিক শিক, মাঝমাঠে টমাস সউচেক। আর মেক্সিকোর হয়ে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া, অধিনায়ক এডসন আলভারেজ এবং আক্রমণে রাউল হিমেনেজ-সান্তিয়াগো গিমেনেজ জুটি হতে পারে মূল ভরসা।

কোরিয়া-আফ্রিকার লড়াই 
গ্রুপের অন্য ম্যাচটি কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই। দুই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে একটাই পথ; জয়। ড্র করলে প্রায় নিশ্চিতভাবেই শেষ হয়ে যাবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।

দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হেরেছে তারা। তবু ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। নকআউট নিশ্চিত করতে অন্তত এক পয়েন্ট প্রয়োজন তাদের।

দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফিরে এসে এখনো নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে পায়নি। দুই ম্যাচে মাত্র এক গোল করেছে দলটি। তবে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ড্র তাদের কিছুটা আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার শক্তি তাদের আক্রমণ ও অভিজ্ঞতা। সন হিউং-মিন, লি কাং-ইন ও হুয়াং হি-চানের মতো খেলোয়াড়রা যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। মাঝমাঠে হুয়াং ইন-বম ও আক্রমণে ও হিউন-গিউ ইতোমধ্যে এই টুর্নামেন্টে গোল করেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে লাইল ফস্টার, অসউইন অ্যাপোলিস ও এভিডেন্স মাকগোপা আক্রমণের দায়িত্বে থাকবেন। অধিনায়ক গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস এবং মাঝমাঠে তেবোহো মোকোয়েনার ওপরও থাকবে বাড়তি দায়িত্ব।

গ্রুপ ‘এ’-এর শেষ ম্যাচগুলোতে তাই দুই রকম গল্প। একদিকে মেক্সিকোর আধিপত্য ধরে রাখার মিশন, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার নকআউট নিশ্চিতের লড়াই। আর চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটাই শেষ সুযোগ।

প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ এএম
প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা
ছবি: সংগৃহীত

বোস্টনে ঘানার বিপক্ষে প্রথমার্ধে বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়েছে ইংল্যান্ড। কিন্তু পায়নি কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা। প্রথমার্ধে তাদের আটকে রাখল আফ্রিকান দেশটি। এতে গোলশূন্য সমতায় শেষ হলো প্রথমার্ধ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিবাগত রাত ২টায় মুখোমুখি হয় দুই দল। 

ম্যাচে ৮০ শতাংশ বলের দখল নিয়ে গোলের খোঁজে ৬টি শট নিয়েছে ইংল্যান্ড। কিন্তু ঘানার রক্ষণ ভেঙে গোল আদায় করতে পারেনি সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ইংলিশদের প্রথমার্ধে আটকে রাখা ঘানা গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি।  

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলে জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের মতো প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে ঘানাও। তারা পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে।

সালমান/