আগের দিন ভারতের কাছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ৪ উইকেটে হেরেছে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া। দীর্ঘ ১৬ বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির খরা কাটানোর দায়িত্ব এসেছিল স্মিথের কাঁধে। কিন্তু তার ৭৩ রানের ইনিংসও গতকাল বিফলে গেছে।
৪ উইকেটে পরাজয়ের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ার পরদিনই এল স্মিথের অবসরের ঘোষণা। অভিজ্ঞ এই অজি ব্যাটার বিদায় বলে দিয়েছেন ওয়ানডে সংস্করণের ক্রিকেটকে।
প্যাট কামিন্সের অনুপস্থিতিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া স্মিথ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেমিফাইনালের ভারতের কাছে হারার পরই। যা নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া দল ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে তার সার্ভিস পাচ্ছে না।
অবসরের বার্তায় স্টিভেন স্মিথ বলেন, ‘এটা খুবই দারুণ জার্নি ছিল, আমি এর প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করেছি। অনেকগুলো দারুণ সময় ও অসাধারণ স্মৃতি আমি পেয়েছি। দুটি বিশ্বকাপ জেতা ছিল ক্যারিয়ারের জন্য দারুণ ব্যাপার এবং দলের সেইসব সদস্যদের সঙ্গে খেলা যারা আমার সঙ্গে এই জার্নিতে ছিলেন।’
‘এখন এটি দুর্দান্ত সুযোগ তাদের জন্য প্রস্তুতি শুরু করা ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য। এটাই সঠিক সময় প্রস্তুতি নেওয়ার’ যোগ করেন তিনি।
ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও টেস্ট ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্মিথ, ‘টেস্ট ক্রিকেট বরাবরই আমার কাছে অগ্রাধিকার পেয়েছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়ন্সশিপের ফাইনালের জন্য মুখিয়ে আছি। শীতকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর এবং এরপর ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ। আমার এখনও অনেককিছু দেওয়ার রয়েছে ওখানে।’
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে স্মিথ জিতেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয় বৃষ্টিতে টস ছাড়াই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিও বৃষ্টির কারণে ফলাফল হয়নি। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকায় সেমিতে চলে যায় অজিরা।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার আগে অপরাজিত ১৯ এবং ভারতের বিপক্ষে করেন ৭৩ রান। পরিত্যক্ত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটি, যে ম্যাচে টসটাও হতে পারেনি।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জিতেছেন ২০১৫ ও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। একটি নিজেদের ঘরের মাঠে এবং অন্যটি ভারতের মাটিতে।
২০১০ সালে মেলবোর্নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হওয়া স্টিভেন স্মিথের ক্যারিয়ার থামল ১৫ বছর পর দুবাইতে ভারতের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে।
১৫ বছরে ১৭০ ম্যাচে ১৫৪ ইনিংস ব্যাটিং করে ১২ শতক ও ৩৫ অর্ধশতকে করেছেন ৫৮০০ রান। তার ব্যাটিং গড় ছিল ৪৩.২৮। ক্যারিয়ারের শুরুটা লেগ স্পিন দিয়ে করলেও ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অধ্যায়টায় বনে গিয়েছিলেন পুরোপুরি ব্যাটার। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তার ঝুলিতে আছে ২৮ উইকেট।