ছবি: সংগৃহীত
বিষয়টি অবাক করার মতোই। ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন লিটন দাস। কিন্তু মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে তার নেই কোনো হাফ সেঞ্চুরি। অথচ ক্যারিয়ারে তিনি ১৩টি হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন। শেষ পর্যন্ত সেই খরার অবসান হয়েছে এই স্টাইলিশ ব্যাটারের। রবিবার (১৪ জুন) নিজের ১০৪তম ম্যাচে এসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরির দেখা। ৫৮ রান করে থাকেন অপরাজিত।
লিটন কুমার দাসের ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল এই মিরপুরে। প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। ২০১৫ সালে তার সেই অভিষেক ম্যাচে আরও একজনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। একজন ছিলেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। ম্যাচটি হয়ে উঠেছিল মোস্তাফিজনামা। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন ছিন্ন-ভিন্ন করে দিয়ে মোস্তাফিজ তুলে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। মোস্তাফিজের মতো লিটন তার অভিষেক রাঙাতে পারেননি। মাত্র ৮ রান করেছিলেন। ভারত বধ সিরিজ পরে হয়ে উঠেছিল মোস্তাফিজময়। দ্বিতীয় ম্যাচে মোস্তাফিজ ছিলেন আরও ভয়ংকর। এবার উইকেট নেন আরও একটি বেশি। সংখ্যা দাঁড়ায় ৬টি। মোস্তাফিজ আবারও ম্যাচসেরা। লিটন দাস এবার করেছিলেন ৩৬ রান। তৃতীয় ম্যাচে মোস্তাফিজ আর প্রথম দুই ম্যাচের মতো ত্রাস সৃষ্টি করতে পারেননি। উইকেট নিয়েছিলেন ২টি। লিটন দাস করেছিলেন ৩৪ রান।
একত্রে শুরু করা ওয়ানডে আঙিনায় মোস্তাফিজ তার শুরুটা বর্ণাঢ্য করে রাখলেও লিটন পারেননি। কিন্তু দুজনেই এখন জাতীয় দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন বোলারের চির আরাধ্য ৫ উইকেট নেওয়া। ব্যাটারের আরাধ্য সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি না হলেও অন্তত হাফ সেঞ্চুরি। লিটন দাস হাফ সেঞ্চুরির দেখা পাওয়ার আগে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন। ২০১৮ সালে সেই ভারতের বিপক্ষেই এশিয়া কাপের ফাইনালে তিনি করেছিলেন ১১৭ বলে ১২১ রান। হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান তার দুই ম্যাচ পর চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৮৩ রানের ইনিংস খেলে।
লিটন দাস তার এগিয়ে চলার পথে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামার আগে ৫টি সেঞ্চুরি আর ১৩টি হাফ সেঞ্চুরি করেন। কিন্তু সেগুলোর একটিও ছিল না মিরপুরের। অথচ মিরপুর তিনি একে একে খেলেছেন ২৮টি ম্যাচ (একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়াতে ব্যাটিং করেননি। যেখানে হাফ সেঞ্চুরির কাছাকাছি যেতে পেরেছিলেন একবার। এ বছরই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৬ রান করেছিলেন। এ ছাড়া ৪১ রান করে আউট হয়েছিলেন ৪ বার। প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান দুবার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারত একবার করে। তার অপর ইনিংসগুলো ছিল ভারতের বিপক্ষে ৮, ৩৬, ৩৪, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ০, ১৭, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ০, ৭, ১৭, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ০, ২৫, ভারতের বিপক্ষে ৭, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭, ০, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬, (একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল), এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭ ও ২১। তৃতীয় ম্যাচেও তার হাফ সেঞ্চুরি করার সম্ভাবনা ছিল না। ৩২ ওভার শেষে ৪৮ রানের সময় তিনি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন পায়ে ক্র্যাম্প করলে। তার যখন ক্র্যাম্প হয়, তখন মাঠে পরিচর্যা করা হয়। তিনি খেলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পারেননি। পরে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। এরপর দলের ইনিংস শেষের দিকে গড়াতে থাকে। ৪৮.২ ওভারের সময় শেখ মাহেদী হাসান আউট হলে লিটন দাস আবার ব্যাটিং করতে নামেন। তৃতীয় বল মোকাবিলা করেই ১ রান নেন। ওভারের শেষ বলে ২ রান নিয়ে তিনি মিরপুরে হাফ সেঞ্চুরির খরা দূর করেন। বল খেলেন ৭৫টি। ১টি ছক্কার সঙ্গে ছিল ৪টি বাউন্ডারি। শেষ ওভারের ২ বল খেলে ১টি ছক্কাসহ ৭ রান করে তিনি ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
লিটন দাসের মতো ব্যাটার নিজেকে যেখানে নিয়ে গেছেন, সেখানে হাফ সেঞ্চুরি তার জন্য বিশেষ কিছু না। ঘরের মাঠে চট্টগ্রাম ও সিলেটে যেখানে তার সেঞ্চুরি এ হাফ সেঞ্চুরির একাধিক ইনিংস আছে, সেখানে হোম অব ক্রিকেটে তার কোনো হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস না থাকাটা ছিল বেমানান। আর সেটিকে এখন তিনি সুন্দরে পরিণত করেছেন।