সাইকেল চেপে ট্রেনিং সেশনে যাচ্ছেন জার্মানির ফুটবলাররা। ছবি: সংগৃহীত
দেখতে দেখতে বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রত্যেক দলের একটি করে ম্যাচ শেষ। এখন ‘ই’ গ্রুপের দলগুলো গ্রুপ পর্বে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে। এক ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আইভরি কোস্ট। অন্য ম্যাচে ইকুয়েডরের প্রতিপক্ষ কুরাসাও। জার্মানির ম্যাচটি আজ শনিবার রাত ২টায় টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হবে। গ্রুপের অন্য ম্যাচের ভেন্যু কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে। এ ম্যাচটি মাঠে গড়াবে রবিবার ভোর ৬টায়।
‘ই’ গ্রুপে আজ অনুষ্ঠিতব্য দুই ম্যাচই গ্রুপের সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে। দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটি বলাই যায়। নিজ নিজ প্রথম ম্যাচে জার্মানি ও আইভরি কোস্ট জয় পেয়েছে। প্রথম ম্যাচ থেকে পুরো ৩ পয়েন্ট নিয়ে উভয় দল নকআউট পর্বে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে। আজ এই দুই দলের এক দল আগেভাগেই নকআউট পর্বে খেলা নিশ্চিত করতে পারে। যারাই জয় পাবে তাদের নকআউটে খেলা নিশ্চিত হয়ে যাবে।
গ্রুপের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে নিজেদের শক্তিমত্তার পরিচয় তুলে ধরে জার্মানি। প্রতিপক্ষ জানিয়ে দেয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে তারা বিশ্বকাপে এসেছে। তাদের সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রথম ধাপে নাস্তানাবুদ হয়েছিল কুরাসাও। আক্রমণভাগে জার্মানির গতি, পাসিং ও ফিনিশিং ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের গতির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পারেনি কুরাসাও। তাই তো গোল-বন্যায় ভাসতে হয়েছে তাদের। একে একে সাতবার জাল থেকে বল কুড়াতে হয়েছিল কুরাসাওয়ের গোলরক্ষককে।
তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে জার্মানি দলটি পুরোনো জার্মানির মতো। নির্মম ও সুসংগঠিত। মাঝমাঠ থেকে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, দ্রুত বলের ট্রানজিশন এবং উইং ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা–সবদিক থেকেই এগিয়ে ছিল জার্মানি। তবে আইভরি কোস্টকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আফ্রিকান দল নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আমেরিকার দল ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে।
তাদের শারীরিক সক্ষমতা, গতি ও প্রতি আক্রমণ জার্মানির জন্য বড় পরীক্ষার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণে ওঠার দক্ষতা আইভরি কোস্টের অন্যতম বড় শক্তি। জার্মানির উচ্চরক্ষণভাগের ফাঁক কাজে লাগাতে পারলে আইভরি কোস্টের পক্ষে চমক দেখানো অসম্ভব নয়।
জার্মানি অবশ্য বল দখলে রেখে খেলতে চাইবে। শুরু থেকেই চাপ তৈরি করে দ্রুত গোল আদায়ের চেষ্টা থাকবে তাদের। শুরুতেই গোল পেলে প্রতিপক্ষকে আরও বেশি করে চেপে ধরার সুযোগ পাবে তারা। অন্যদিকে আইভরি কোস্ট অপেক্ষা করবে সুযোগের। জার্মানির সামান্যতম ভুল কাজে লাগাতে চাইবে তারা। কাগজে-কলমে জার্মানি এগিয়ে থাকলেও ম্যাচটি একপেশে হওয়ার সুযোগ কম।
অন্য ম্যাচে ইকুয়েডরের সামনে ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতি। প্রথম ম্যাচে হারের কারণে এই ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প প্রায় নেই বললেই চলে। একই অবস্থা কুরাসাওয়েরও। প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে বড় ব্যবধানে হারলেও তারা জানে ইকুয়েডরের বিপক্ষের ম্যাচ থেকে তাদের পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ ম্যাচে তারা সংগঠিত ও রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে পারে। ম্যাচের শুরুতেই প্রতিরোধ গড়ে তুলে ইকুয়েডরকে হতাশ করে তোলা হবেই তাদের লক্ষ্য।
ইকুয়েডর অবশ্য আক্রমণাত্মক মনোভাবেই মাঠে নামবে। সব মিলিয়ে ‘ই’ গ্রুপের দুই ম্যাচেই দর্শকদের জন্য বাড়তি নাটকীয়তার সব উপাদানই রয়েছে। জার্মানি জয় পেলে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করবে। একই অবস্থা আইভরি কোস্টের বেলায়ও। তবে জার্মানি হারলে ম্যাচটি গ্রুপে বড় অঘটন হিসেবে বিবেচিত হবে। এই ম্যাচের জয় যেমন পরবর্তী রাউন্ডে খেলার নিশ্চয়তা, অন্য ম্যাচ অর্থাৎ ইকুয়েডর-কুরাসাও ম্যাচে হারের অর্থ বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিদায় নিশ্চিত হবে পরাজিত দলের।
‘ই’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচ শেষে জার্মানি ও আইভরি কোস্টের পয়েন্ট ৩। গোল পার্থক্যে জার্মানি পয়েন্ট টেবিলে নেতৃত্ব দিচ্ছে। অন্য দুই দলের ভান্ডার এখনো শূন্য। গ্রুপের শেষ ম্যাচে জার্মানি ইকুয়েডরের এবং আইভরি কোস্ট কুরাসাওয়ের মুখোমুখি হবে।