গতকাল ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার। রাজধানীর রাস্তা অনেকটা ফাঁকা থাকে। কিন্তু দুপুর গড়াতেই পাঁচতারকা হোটেল সোনারগাঁওয়ে ভিড় বাড়তেই থাকে। একে একে আসতে থাকেন ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন স্তরের সাবেক ও বর্তমান তারকা ক্রীড়াবিদ থেকে শুরু করে নামিদামি কোচ, সংগঠক, আন্তর্জাতিক আম্পায়ার। একটা সময় তারায় তারায় ভরে উঠে পাঁচতারকা হোটেলে। হয়ে উঠে ক্রীড়াঙ্গনের মিলন মেলা। আর সবাইকে এভাবে একত্রিত করার কাজটি করে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের সবচেয়ে প্রাচীনতম সংগঠন বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি (বিএসপিএ) তাদের কুল-বিএসপিএ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। পুরস্কারের ফাঁকে ফাঁকে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে অন্যদের মাঝে সংগীত পরিবেশন করেন জাতীয় ক্রিকেট ও হকি দলের সাবেক দুই খেলোয়াড় জাভেদ ওমর বেলিম গুল্লু ও রফিকুল ইসলাম কামাল।
জমকালো ও চোখধাঁধানো আয়োজনে জুরি বোর্ডের বিবেচনায় ২০২৪ সালের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হয়েছেন (স্পোর্টস পারসন অব দ্য ইয়ার ২০২৪) মেহেদী হাসান মিরাজ। দর্শকদের ভোটে পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের মিডফিল্ডার, নারী সাফ জয়ে অসামান্য অবদান রাখা ঋতু পর্ণা চাকমা। বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হতে মেহেদী হাসান মিরাজ পেছনে ফেলেন ঋতু পর্ণা চাকমা এবং ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করা আরচার সাগর ইসলামকে। জাতীয় দুই ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানার সঙ্গে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর বিজয়ী হন ঋতু পর্ণা। ১৫টি ক্যাটিগরিতে ১৩ ব্যক্তি, দল ও সংস্থাকে দেওয়া সেরার স্বীকৃতি। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৬৪ সাল থেকে প্রতিবছর এভাবে দেশ সেরাদের পুরস্কৃত করে আসছে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি। সেরাদের হাতে একে একে পুরস্কার তুলে দেন ক্রীড়াঙ্গনের তারকা ব্যক্তিত্বরা। মনোমুগ্ধকর এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গেস্ট অব অনার ছিলেন স্পন্সর প্রতিষ্ঠান স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু।
বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ‘বিএসপিএকে ধন্যবাদ প্রতিবছর এই আয়োজনের জন্য। এই অনুষ্ঠান প্রতিটি অ্যাথলেটের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখানে এসে হকি, ফুটবলসহ প্রতিটি ক্ষেত্রের খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। এটা খুবই ভালো লাগে।’ ভুটান লিগ খেলার জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড ঋতু পর্ণা চাকমা। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমাকে সম্মনিত করায় বিএসপিএকে আন্তরিক ধন্যবাদ। ভুটানের খেলার কারণে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারিনি। মিস করছি। এই পুরস্কার আমাকে আগামীতে আরও ভালো করার জন্য অনুপ্রাণিত করবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রথমেই বিএসপিএকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই এমন একটা আয়োজনের জন্য। এটা সবার মধ্যে স্বপ্নের ও আশার সঞ্চার করবে। আপনারা জানেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্রীড়াক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ক্রীড়াক্ষেত্রের পুনর্গঠন ও সংস্কার নিয়ে কাজ করছি। আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। ক্রীড়া বাজেটের যে স্বল্পতা আছে, আমরা সরকারকে অনুরোধ করেছি, ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও প্রণোদনা দেওয়ার।’ গেস্ট অব অনার স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, বিএসপিএর সঙ্গে আমরা ১২ বছর ধরে আছি। তারা যতদিন চাইবে, ততদিন আমরা বিএসপিএর সঙ্গে থাকব। জেলা পর্যায়ে খেলাধুলা ঝিমিয়ে গেছে, এখানে উপদেষ্টা আছেন, তার কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, তিনি জেলার খেলাধুলার দিকে দৃষ্টি দেবেন।’
২০২৪ সালের সেরা যারা
স্পোর্টস পারসন অব দ্য ইয়ার: চ্যাম্পিয়ন- মেহেদী হাসান মিরাজ (ক্রিকেট), রানারআপ- ঋতু পর্ণা চাকমা (ফুটবল) ও সাগর ইসলাম (আরচারি)। পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড- ঋতু পর্ণা চাকমা (ফুটবল)। বর্ষসেরা ক্রিকেটার- মেহেদী হাসান মিরাজ, বর্ষসেরা ফুটবলার- ঋতু পর্ণা চাকমা, বর্ষসেরা আরচার- সাগর ইসলাম, বর্ষসেরা অ্যাথলেট (ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড)- জহির রায়হান, উদীয়মান ক্রীড়াবিদ- নাহিদ রানা (ক্রিকেট), বর্ষসেরা দাবাড়ু- মনন রেজা নীড়, বর্ষসেরা দলগত সাফল্য- জুনিয়র বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া অনূর্ধ্ব-২১ জাতীয় হকি দল, সক্রিয় সংস্থা- যশোর শামস-উল-হুদা অ্যাকাডেমি, বর্ষসেরা কোচ- মওদুদুর রহমান শুভ (হকি), তৃণমূলের ক্রীড়াব্যক্তিত্ব- বীরসেন চাকমা (ফুটবল সংগঠক, রাঙামাটি), বর্ষসেরা সংগঠক- মো. ইমরুল হাসান (সভাপতি বসুন্ধরা কিংস), বর্ষসেরা আম্পায়ার- শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত ও বিশেষ সম্মাননা- হামিদুল ইসলাম (২০১০ এসএ গেমস সোনাজয়ী ভারোত্তোলক)।