একটা সময় ছিল স্পেন মানেই সৌন্দর্যের ফুটবল, বলের দখল আর একের পর এক শিরোপা। ২০০৮ ইউরো, ২০১০ বিশ্বকাপ, ২০১২ ইউরো; চার বছরে তিন শিরোপা জিতে বিশ্ব ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিল তারা। কিন্তু সেই সোনালি যুগের পর দীর্ঘ অপেক্ষা। বিশ্বকাপ জয়ের মঞ্চে আবারও নিজেদের নাম লেখানোর স্বপ্ন নিয়েই আজ মাঠে নামছে লা রোজারা।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১০টায় বিশ্বকাপের ‘এইচ’ গ্রুপে স্পেনের প্রতিপক্ষ প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা আফ্রিকার ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দে। কাগজে-কলমে শক্তির ব্যবধান অনেক। তবে স্পেনের কাছে এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়, বহুদিনের অপূর্ণতার নতুন শুরু।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই অবিস্মরণীয় গোল আজও স্প্যানিশ ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্ত। কিন্তু এরপর বিশ্বকাপ যেন হয়ে ওঠে হতাশার নাম।
২০১৪ সালে শিরোপাধারী হয়েও বিদায় নিতে হয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। ২০১৮ ও ২০২২; দুই আসরেই থামতে হয়েছে শেষ ষোলোতে। ফাইনাল তো দূরের কথা, ২০১০-এর পর আর সেমিফাইনালের মুখ দেখা হয়নি স্পেনের।
তবে এবার ছবিটা অন্য রকম। গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে নিজেদের নতুন করে গড়ে তুলেছে স্পেন। ২০২৪ সালে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জিতে আবারও ফিরেছে আলোচনার কেন্দ্রে। সেই শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে; লা রোজার ফুটবল এখন শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বর্তমানের শক্তিও।
কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের হাতে দলটি গড়ে উঠেছে তরুণ ও অভিজ্ঞতার দুর্দান্ত মিশ্রণে। মাঝমাঠে অধিনায়ক রদ্রির নিয়ন্ত্রণ, পেদ্রির সৃজনশীলতা, সামনে লামিন ইয়ামালের বিস্ময়কর প্রতিভা আর নিকো উইলিয়ামসের গতি; সব মিলিয়ে আক্রমণাত্মক, ছন্দময় এক দল স্পেন। ইউরো জয়ের পর থেকে দলটির আত্মবিশ্বাসও আকাশছোঁয়া। সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে তারা। সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে পেরুকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। গোল পেয়েছেন মিকেল ও ইয়ারসাবাল ও পেদ্রি।
বিশ্বকাপ বাছাইয়েও ছিল দাপট। বলের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত আক্রমণ আর তরুণদের নির্ভীক ফুটবল; সব মিলিয়ে অনেক বিশ্লেষকের চোখে এবার শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার স্পেন।
অন্যদিকে কেপ ভার্দের গল্প অন্য রকম। জনসংখ্যা ৬ লাখেরও কম। ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে তারা। দলীয় ঐক্য আর লড়াকু মানসিকতাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম পরিণত দল।
স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের চোখে বড় স্বপ্ন, ‘আমাদের সামনে বড় স্বপ্ন আছে, কিন্তু প্রথমে শুরুটা ঠিক করতে হবে।’ অধিনায়ক রদ্রির মতে, ‘এই দলটি জিততে জানে, আর আমরা বিশ্বকাপেও সেই মানসিকতা নিয়েই নামছি।’
দুই দলের আগে কখনো দেখা হয়নি আন্তর্জাতিক ফুটবলে। তাই প্রথম সাক্ষাতেই ইতিহাস লেখা হবে। স্পেন চাইবে শুরুতেই নিজেদের শক্তির বার্তা দিয়ে দিতে। কারণ তাদের লক্ষ্য শুধু গ্রুপ পর্ব পার হওয়া নয়; দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসনে ফিরে যাওয়া।