হোম গ্রাউন্ড কেবল একটি মাঠ নয়। এটি অনুভূতি এবং অনুপ্রেরণা, যা তাতিয়ে তোলে স্বাগতিকদের। আত্মবিশ্বাসী খেলোয়াড়রাও নিংড়ে দেয় তাদের সবটুকুই। আজ বার্সেলোনা ফুটবলাররাও তাই করবে। কারণ তাদের ডেরায় যে ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলান। ইউরোপ সেরা টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মুখোমুখি হবে দুই দল। লড়বে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে। এস্তাদিও অলিম্পিক লুইসে খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।
সবার জানা, বার্সার মূল মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে চলছে সংস্কারকাজ। তাই ২০২৩-২৪ মৌসুম থেকে অলিম্পিক লুইস স্প্যানিশ জায়ান্টদের হোম গ্রাউন্ড। সেই ডেরায় আজ ইন্টার পরীক্ষা দেবে হ্যান্সি ফ্লিকের দল, যারা আগের ম্যাচেই শিরোপা উৎসবে রাঙিয়েছে নিজেদের। স্পেনে কোপা দেল রের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমির জন্য সেরা প্রস্তুতিই নিয়েছে কাতালুনিয়ার ক্লাবটি।
ইন্টারের মাথা নত টানা ব্যর্থতার ভারে। সিরি’আতে তারা তাদের সর্বশেষ দুই ম্যাচ হেরে হারিয়েছে শীর্ষস্থান। এই দুই হারের মাঝে ‘মিলান ডার্বি’তে পরাস্ত হওয়ায় ইতালিয়ান কাপের সেমিফাইনালে থেমেছে তাদের যাত্রা। সব মিলিয়ে টানা চার ম্যাচ জয়হীন ইতালিয়ান ক্লাবটি। সাম্প্রতিক ব্যর্থতার এই রেকর্ড স্পষ্টভাবেই বার্সার বিপক্ষে প্রথম লেগে পিছিয়ে রাখছে ইন্টারকে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, বায়ার্ন মিউনিখের মতো দলকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে ইন্টার।
এবার বার্সা আঙিনা স্তব্ধ করার চ্যালেঞ্জ ইন্টারের, যারা কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্নের মাঠে জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। কঠিন চ্যালেঞ্জে ইন্টার অধিনায়ক লাউতারো মার্টিনেজ পাচ্ছেন শক্তিশালী দল। তাকে সঙ্গ দিতে প্রস্তুত জোয়াকিন কোরেয়া-মার্কাস থুরামরা। এদিক থেকে কিছুটা চাপে বার্সা। স্বাগতিকদের খেলতে হবে চোটাক্রান্ত রবার্ত লেভানদোভস্কিকে ছাড়া। যদিও ইয়ামাল-ওলমো-পেদ্রিরা বার্সার ইঞ্জিন সচল রাখতে প্রস্তুত।
ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টে পূর্বে ১৬ বার সাক্ষাৎ হয়েছে বার্সা-ইন্টারের। অর্ধেক ম্যাচে জয় স্প্যানিশ জায়ান্টদের। ড্র ৫টি এবং হার মাত্র ৩টি। ইউরোপে দ্বিতীয়বার নকআউট ম্যাচে দেখা হবে তাদের। প্রথমবারও দেখা হয়েছিল সেমিফাইনালে, ২০০৯-১০ মৌসুমে। সেবার হোসে মরিনহোর ইন্টার বিদায় করেছিল বার্সাকে (৩-২ অগ্রগামিতায়)। এ যাত্রায় কী হয়, সেটা জানা যাবে দুই জায়ান্টের দুই লেগের লড়াই শেষে।