দিল্লি ক্যাপিটালস ও পাঞ্জাব কিংসের খেলা। পাঞ্জাবের ইনিংসে শেষ ওভার বোলিং করেন মোস্তাফিজুর রহমান। শেষ বল তিনি করেছিলেন মার্কোস স্টয়নিসকে। বলটি টপ এজ ছিল। পুল করতে চেয়েছিলেন স্টয়নিস। কিন্তু বল উঠে যায় মিডউইকেটের দিকে। বলের দিকে চোখ রেখে মোস্তাফিজ ক্যাচ ধরার জন্য জানপ্রাণ দিয়ে দৌড় দিয়ে শেষ পর্যন্ত আর ক্যাচ ধরতে পারেননি। এরপর আর ম্যাচের বাকি সময় মোস্তাফিজকে ব্যাট-বল স্পর্শ করতে হয়নি। কারণ পাঞ্জাবের করা ৮ উইকেটে ২০৬ রান দিল্লি ৪ উইকেট হারিয়ে অতিক্রম করে যায়। তাই মোস্তাফিজকেও ব্যাটও করতে নামতে হয়নি। ম্যাচে তিনি দারুণ বোলিং করে ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। এই ম্যাচ দিয়ে শেষ হয় মোস্তাফিজের এবারে আইপিএল অভিযান।
আইপিএলের চলতি মৌসুমে মোস্তাফিজ ডাক পেয়েছিলেন হঠাৎ করে। মূলত পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধই ছিল এর মূল কারণ। প্লে-অফে যেতে না পারায় দিল্লিরও অভিযান শেষ হয়ে যায় এই ম্যাচ দিয়ে। ২৪ মে শনিবার খেলা শেষ করে মোস্তাফিজ পরের দিন রবিবার দুবাইয়ে গিয়ে পাকিস্তানগামী জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেন। সেখান থেকেই রবিবার রাতে খবর আসে ইনজুরির কারণে মোস্তাফিজ পাকিস্তান সফরে দল থেকে ছিটকে পড়েছেন। তার পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে আরেক পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদকে।
একজন খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়তেই পারেন। মোস্তাফিজও তার ব্যতিক্রম নন। মোস্তাফিজ যখনই বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লিগ খেলতে গিয়েছেন, কম-বেশি ইনজুরিতে পড়েছেন। তবে তার এবারে ইনজুরি নিয়ে অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ইনজুরি নিয়ে প্রশ্নও তোলা হয়েছে। জানতে চাওয়া হচ্ছে, তিনি ম্যাচে কখন ইনজুরিতে পড়লেন। ইনিংসের শেষ ওভারতো ভালোভাবেই বোলিং করেছেন? এদিকে পাকিস্তান সফরে দলের সঙ্গে থাকা ফিজিও দেলোয়ার হোসেন সিভা জানিয়েছেন সেই ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে মোস্তাফিজ তার বাম হাতের বুড়ো আঙুলে ব্যথা পান। স্ক্যান করার পর আঙুলে চিড়ও ধরা পড়েছে। কিন্তু এতে করেও সবার কৌতূহল শেষ হচ্ছে না। অনেকেই যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না। বারবার মোস্তাফিজের শেষ ওভার সামনে নিয়ে আসছেন। এমনকি শেষ বলে তার ক্যাচ ধরার চেষ্টাকেও।
এ ব্যাপারে খবরের কাগজের পক্ষ থেকে ব্যাপক অনুসন্ধান করে নানাভাবে মোস্তাফিজের ইনজুরির বিষয়টি সর্ম্পকে জানার চেষ্টা করা হয়। একটি সূত্রে জানা গেছে শেষ বলেই ক্যাচ ধরতে গিয়ে মোস্তাফিজ এই ব্যথা পান। টিভিতে দেখা যায় ক্যাচ ধরার জন্য মোস্তাফিজ ও দিল্লির আরেকজন ফিল্ডার দৌড়াচ্ছিলেন। দুজনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়ার শঙ্কা ছিল। মোস্তাফিজ অবশ্য বলের বেশি কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিসিবি সূত্রে জানা গেছে মোস্তাফিজ সেই ক্যাচটি ধরতে গিয়েই এই ব্যথা পান, যা তার বাম হাতের বুড়ো আঙুলে আঘাত করে। কিন্তু দিল্লির ইনিংস শেষ হয়ে যাওয়ায়, পরে ব্যাটিং করারও প্রয়োজন না হওয়ায় মোস্তাফিজের ইনজুরির বিষয়টি আর সামনে আসেনি, যা জানা যায় মোস্তাফিজ দুবাইয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য মোস্তাফিজের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেন, ‘এটি খুবই অপ্রত্যাশিত। সে খুবই রিদমে ছিল। একজন ক্রিকেটার যেকোনো সময় ইনজুরিতে পড়তে পারে। এটা খেলারই অংশ।’ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, ‘আমি ম্যাচটি দেখিনি। তাই এ নিয়ে কোনো কিছু বলা ঠিক হবে না।’ জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার জাভেদ ওমন বেলীম গুল্লা বলেন, ‘আমার মনে হয় না, সে ইচ্ছে করে ম্যাচ খেলতে চাইবে না। যেকোনো সময় একজন খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়তে পারে