যে কৌশলে বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে ফাইনালে এসেছে ইন্টার মিলান, সেই কৌশলটা কাজে লাগেনি ফাইনালে। ফলস ডিফেন্স ও কাউন্টার অ্যাটাক, কোনোটাই কাজে লাগেনি। সেসব কৌশলকে অপদস্ত করে ইন্টার মিলানকে বিধ্বস্ত করে ৫-০ ব্যবধানে জিতে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পিএসজি।
যেই ক্লাবটি কাঙ্ক্ষিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিততে ঘরের ছেলে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও সাবেক দুই বার্সা তারকা লিওনেল মেসি ও নেইমারকে দলে ভিড়িয়েছিল। সেই দলটাই কাঙ্ক্ষিত শিরোপা জিতল, যখন তিন তিনের কেউই আর পিএসজির সদস্য নন।
শনিবার (৩১ মে) রাতে মিউনিখের অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে গোলের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে প্যারিসের দলটি ইন্টার মিলানকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই প্রভাব বিস্তার করে খেলতে থাকে পিএসজি। মাত্র ১২ মিনিটে দলটি পেয়ে যায় প্রথম গোলের দেখা। আশরাফ হাকিমি দলকে এগিয়ে নেন গোল করে।
মিনিটে তিনেক পর ২১ বছর বয়সী দুয়ে ২০তম মিনিটে ব্যবধান করেন দ্বিতীয় গোল। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি।
প্রথমার্ধে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পিএসজি। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা মাঠে ফিরলে ৬৩ মিনিটে সেই দুয়েই নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করলে প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় ইন্টারের পরাজয়। সম্ভাবনা হারায় দলটি ম্যাচে প্রত্যাবর্তনের।
এরপর ম্যাচের ৭৩ মিনিটে ম্যাচের চতুর্থ গোল করেন শীতকালীন দলবদলে নাপোলি থেকে প্যারিসের ক্লাবে যোগ দেওয়া জর্জিয়ান তরুণ খাভিচা খাভারস্তকেলিয়া। বদলি নেমে মায়ুলু ৮৬ মিনিটি ইন্টারের জালে শেষ পেরেক ঠুকে দেন।
ফাইনালে ইন্টার মিলান সেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেনি প্যারিসের দলটির সামনে। ৫-০ স্কোলাইনটাই স্পষ্ট করে যে ইতালির ক্লাবটিকে কতটা চাপে রেখেছিল পিএসজি।
ইন্টার মিলানের খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের জন্য রাতটা হতাশাজনক ও দুঃখের ছিল। এ নিয়ে তিন মৌসুমের মধ্যে দুবার ফাইনালে যেয়েও ফিরতে হলো খালি হাতে।
মার্সেইয়ের পরে দ্বিতীয় ফ্রেঞ্চ ক্লাব হিসেবে জিতল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। বার্সার পর এনরিখের পিএসজির ডাগ আউটে দাঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের কীর্তি হলো।