ইনিংসের ৮৬তম ওভারে আসিথা ফার্নান্দোর ডিফেন্সটা ঠিকঠাক করতে পারেননি ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিম। বল পেছনে চলে যাওয়ায় তৈরি হয়েছিল বোল্ড হওয়ার ঝুঁকি। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়ায় বেঁচে যান। সুযোগ পেয়ে প্রান্ত বদল করে আদায় করে নেন ক্যারিয়ারের ১২তম টেস্ট সেঞ্চুরি।
এই গলেই ২০১৩ সালে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে করেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি। সেই মাঠেই খারাপ সময় কাটিয়ে পেলেন শতকের দেখা। পাকিস্তানের মাটিতে ১৯১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের পর আরও ১৩ ইনিংস ব্যাটিং করেও ছিলেন পুরোপুরি ব্যর্থ। অবশেষে গলে পাওয়া অর্ধশতককে রূপান্তর করলেন শতকে।
ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি কেবল ৫টি চারে। নেই কোনো ছয়। নার্ভাস নাইন্টিতে দীর্ঘক্ষণ সময় নিয়েছেন ম্যাজিকাল ফিগার স্পর্শ করার আগে। মুশফিক যখন মাঠে আসেন তখন ৪৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে দেখেশুনে খেলে দলের ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন।
এই শতকের পথে অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে। দিনশেষে বাংলাদেশের বোর্ডে রান যোগ হয়েছে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৯২। জোড়া শতক হাঁকানো নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের অবিচ্ছিন্ন জুটির রান রয়েছে ২৪৭। যা কিনা চতুর্থ উইকেটে গলে সর্বোচ্চ। মুশফিকুর রহিম অপরাজিত আছেন ১০৫ রানে। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট শতক হাঁকানোর পর মারমুখি ভঙ্গিমায় খেলতে থাকতে শান্তর ব্যাটে এসেছে আরও ৩৬ রান। অপরাজিত আছেন তিনি ১৩৬ রানে।
তবে বাংলাদেশের দিনের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। মাত্র ৪৫ রানের মধ্যেই এনামুল হক বিজয়, সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হকের উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে সফরকারীরা। সেখান থেকেই দলকে টেনে তোলেন এই দুই ব্যাটার। গেল অনেকমাস ধরেই শান্ত ও মুমিনুলের পারফরম্যান্স নিয়ে হচ্ছিল সমালোচনা। আজ তাদের দৃঢ়তায় গল টেস্টের প্রথম দিনের প্রথম সেশনের বিপর্যয়ের পরও দিনটা বাংলাদেশের দখলে।
শ্রীলঙ্কার হয়ে বাংলাদেশের ইনিংসে আঘাত হানেন আসিথা ফার্নান্দো এনামুল হক বিজয়কে ০ রানে ফিরিয়ে। বাকি দুই উইকেট নেন থারিন্দু রথনায়েক ১৪ রান করা সাদমান ইসলাম ও ২৯ রান করে আউট হন মুমিনুল হক।