ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফেরাল জার্মানি কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল জার্মানির খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান প্রথমার্ধে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও, ৩ গোল দিল জার্মানি মমতার দলে সংকট আরও গভীর, বিদ্রোহী এমপি বেড়ে ২২ জোটার স্মরণে বিশ্বকাপে বিশেষ উদ্যোগ নিল পর্তুগাল হোম অব ক্রিকেটে লিটনের অন্য রকম প্রথম ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামে চাঁদপুরের তিন প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যা, নেপথ্যে অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ বেরোবির রাজস্ব বাজেট ৮২ কোটি ৮১ লাখ টাকা ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন আজ ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টে গ্রেপ্তারের কথা শুনে চোখ খুলছেন না শিবির নেতা জিসান ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: শফিকুর রহমান গাংনীতে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১৭ পাবনায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ফটিকছড়িতে বায়তুল ক্বোবা তৈয়্যবিয়া জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি হস্তান্তর শ্রমিক অবরোধে আড়াই ঘণ্টা স্থবির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্দরে বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আইএইচএফ ট্রফিতে দুই বিভাগে রূপা জিতল বাংলাদেশ আলু সংরক্ষণাগারে কেজিপ্রতি ৫ টাকা ভাড়ার দাবি, ৭ দিনের আল্টিমেটাম বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫.৬৩ বিলিয়ন ডলার ইরান-মার্কিন চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে রবিবার, খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালী সোনারগাঁয় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ আতঙ্কে ঘর ছাড়া, নিরাপত্তার আশ্বাস পুলিশের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনে অভিযান ইতিহাসের দুয়ারে গিয়ে থামল বাংলাদেশ, রক্ষা পেল অজিরা চুয়াডাঙ্গায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ জব্দ করল বিজিবি গফরগাঁওয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু বরগুনায় চিরকুট লিখে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা নরসিংদীবাসীর জন্য সুখবর, অনুমোদন পেল সরকারি মেডিকেল কলেজ
Nagad desktop

আকাশে আগুন, মাঠে কান্না

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৫, ১১:২১ এএম
আকাশে আগুন, মাঠে কান্না
ছবি : সংগৃহীত

গাজা, লেবানন থেকে ইরান পর্যন্ত ছড়িয়েছে ইসরায়েলের ধ্বংসযজ্ঞ। তারই বিরূপ প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার ক্রীড়াঙ্গনে। অনেক ক্রীড়াবিদ আটকে পড়েছেন, আবার কেউ কেউ প্রাণ হারিয়েছেন বিমান হামলায়। ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে হারিয়ে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, প্রতিভা ও সাংস্কৃতিক চেতনাও। কারণ যুদ্ধ শুধু মানুষের জীবন নয়, তাদের আশা, পরিচয় ও ভবিষ্যতকেও ধ্বংস করে দেয়।

মৃত্যুর সঙ্গে বসত তারেমির

ইরানি ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি। ইন্টার মিলানের তারকা ফুটবলার। তিনি আটকা পড়েছে জন্মভূমিতে। খেলা হচ্ছে না ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে। আকাশপথের যুদ্ধে ইরান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে, তাই ৩২ বছর বয়সী স্ট্রাইকার তেহরান ছাড়তে পারছেন না। ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানার পর সব ফ্লাইট স্থগিত হয়ে যায়। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যেখানে রকেট ও বিমান হামলা পাল্টাপাল্টি চালানো হচ্ছে।

মেহেদি তারেমি এখন পরিবারসহ বাড়িতেই আটকে আছেন। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘তারেমির ক্লাব ইন্টার মিলান ইতালিতে অবস্থিত ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে, খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে সান্ত্বনা দেওয়া এবং একটি সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, যদিও বর্তমানে তা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে নিরাপদ স্থানে রয়েছেন এবং বোমা হামলার ঝুঁকি থেকে নিরাপদে আশ্রয়ে আছেন।’ গত সোমবার নিজের ইনস্টাগ্রামে তারেমি একটি স্টোরি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘ইরানকে একা থাকতে দিন।’

ক্লাব বিশ্বকাপে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ক্লাবগুলোও অংশ নিচ্ছে, যেমন- আল আহলি (মিশর), এসপেরান্সে দে তিউনিস (তিউনিসিয়া), ওয়াইদাদ কাসাব্লাঙ্কা (মরক্কো) এবং আল-আইন (সংযুক্ত আরব আমিরাত)। যুদ্ধের ছায়া যেমন মাঠের বাইরে তারেমিদের আটকে রেখেছে, তেমনি মাঠের ভেতরে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দলগুলো বিশ্বসেরা ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে সম্মানজনক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই টুর্নামেন্টে তাদের জন্য পথ সহজ নয়- প্রতিটি ম্যাচই যেন বেঁচে থাকার লড়াই, ঠিক যেমনটা হচ্ছে মাঠের বাইরের বাস্তবতায়।

মাঠে ও পথে প্রাণ যাচ্ছে ক্রীড়াবিদদের

১৩ জুন তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিল এক কিশোর তায়কোয়ানদো শিক্ষার্থী ও একজন উদীয়মান প্যাডেল খেলোয়াড়। সামরিক স্থাপনার বাইরেও বিস্তৃত এই হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে বসতবাড়ি ও পারিবারিক এলাকা। এতে বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

আমির আলি আমিনি, ফার্স প্রদেশের তায়কোয়ানদো অ্যাসোসিয়েশন যাকে ‘একজন অঙ্গীকারবদ্ধ তরুণ শিক্ষার্থী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তেহরানের শহিদ চামরান নোবোনিয়াদ কমপ্লেক্সে হামলায় এই কিশোর প্রাণ হারায়। তার বাবা রেজা আমিনি, গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মারা যান। প্রাণঘাতী হামলায় নিহত হন ২০ বছর বয়সী প্যাডেল খেলোয়াড় পারসা মনসুর, যিনি ইরানের উদীয়মান তরুণ প্রতিভাদের অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হতেন। ইরান টেনিস ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই তরুণ খেলোয়াড় নিহত হন অনুশীলন শেষে বাসায় ফেরার পথে।’

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে- রাজনৈতিক সংঘাত শুধু সীমান্তে নয় বরং খেলাধুলার মতো আশার ক্ষেত্রগুলোতেও তরুণ-সম্ভাবনাময়দের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।

২৭৩টির বেশি ক্রীড়া অবকাঠামো ধ্বংস, ৭০০-এর বেশি ক্রীড়াবিদ নিহত

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ফিলিস্তিনি জাতীয় ভলিবল দলের অধিনায়ক আহমেদ আল-মুফতি। তিনি হচ্ছেন শত শত ক্রীড়াবিদের মধ্যে একজন, যারা ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নিহত হয়েছেন। আল-মুফতি জাবালিয়া ইয়ুথ ক্লাবের হয়েও খেলতেন এবং ফিলিস্তিনি ভলিবলে ছিলেন অন্যতম পরিচিত মুখ। ফিলিস্তিনি স্পোর্টস মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের (পিএসএমএ) তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত ৭০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন এবং নিহতদের মধ্যে অন্তত ৯৫ জন শিশু ক্রীড়াবিদ।

ফিলিস্তিনি জাতীয় ভলিবল দলের অধিনায়ক আল-মুফতির মৃত্যুর পর আরও দুই ক্রীড়াবিদের মৃত্যুর খবর উঠে এসেছে। তারা হলেন হ্যান্ডবল কোচ আহমাদ হারুন ও খেলোয়াড় আনাস আল-দেবজি। চলতি বছরের শুরুতে পৃথক দুটি হামলায় তারা নিহত হন। হারুন নিহত হন নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে তার নিজ বাড়িতে চালানো গোলাবর্ষণে, আর আল-দেবজি প্রাণ হারান যখন একটি বিমান হামলায় দেইর আল-বালাহতে তার বাড়িতে আঘাত হানে।

ফিলিস্তিনি স্পোর্টস মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন (পিএসএমএ) জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের কারণে গাজার অন্তত ২৭৩টি ক্রীড়া অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে স্টেডিয়াম, জিমনেসিয়াম এবং ক্রীড়া ক্লাবের ভবন।

কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফেরাল জার্মানি

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০১:২০ এএম
কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফেরাল জার্মানি
গোলের পর জার্মানির খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে জার্মানি। কেবল জয় নয়, কুরাসাওকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। জিতেছে ৭-১ গোলে। এই জয়ে ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফেরাল জার্মানি। বিশ্বকাপে ব্রাজিলকেও ৭-১ গোলে হারিয়েছিল তারা।

রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হাস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কুরাসাওকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে ইউরোপিয়ান পাওয়ার হাউস জার্মানি। 

প্রথমার্ধে ৩ গোল দেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে কুরাসাওয়ের জালে আরও চারবার বল জড়িয়েছে তারা। অন্যদিকে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামা কুরাসাওয়ের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন লিভানো কোমেনেনসিয়া।

জার্মানির পক্ষে কাই হাভার্টজ দুটি এবং ফেলিক্স এনমেচা, নিকো শ্লটারবেক, জামাল মুসিয়ালা, নাথানিয়েল ব্রাউন ও ডেনিজ উন্দাভ একটি করে গোল করেন। 

কুরাসাওয়ের জালে সপ্তমবার বল জড়ানোর মধ্য দিয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপের ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে জার্মানি। সেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল তারা। এরপর আবারও বিশ্বকাপে ৭ গোলের দেখা পেল জার্মানি।

এসজি/

কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল জার্মানির

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০১:০০ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০১:০২ এএম
কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল জার্মানির
ছবি: সংগৃহীত

পুঁচকে কুরাসাওকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে জার্মানি। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে নামা দলটির বিপক্ষে ৭-১ গোলের ব্যবধানে জিতেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হাস্টন স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচের শুরু থেকে একের পর এক আক্রমণে কুরাসাওকে চেপে ধরে জার্মানরা। মাত্র ৬ মিনিটের পেয়ে যায় প্রথম গোলের দেখা। জামাল মুসিয়ালার একটি শট রুখে দেন কুরাসাও ডিফেন্ডার আরমান্দো ওবিস্পো। তবে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফ্লোরিয়ান ভির্টজে পাস দেন ফেলিক্স এনমেচাকে। বল পেয়ে বাঁকানো শটে জাল কাঁপান তিনি।

তবে ২১ মিনিটে আসে কুরাসাওয়ের ঐতিহাসিক গোলটি। দলের রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়া বক্সের ভেতর বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করেন। এতে গ্যালারিতে উল্লাসে মাতেন কুরাসাও সমর্থকরা।

ঐতিহাসিক গোলে সমতায় ফিরলেও তা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নামা দেশটি। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে দারুণ এক হেডে গোল করে জার্মানিকে এগিয়ে নেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। 

আর প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ান কাই হাভার্টজ। যোগ করা সময়ে বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হন জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা। এতে পেনাল্টি পায় তারা। আর স্পটকিকে বড় জালে জড়াতে ভুল করেননি কাই হাভার্টজ। 

বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় জার্মানি। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে কুরাসাওয়ের জালে আরও একবার বল জড়ায় তারা। এবার নায়ক তরুণ তারকা জামাল মুসিয়ালা। যশুয়া কিমিচের পাস ধরে দারুণ ফিনিশিংয়ে কুরাসাওয়ের জাল কাঁপান তিনি।

ম্যাচের ৬৬ মিনিটে কুরাসাও জার্মানির জালে বল জড়ালেও অফসাইডে তা বাতিল হয়ে যায়। এর ২ মিনিট পরেই (৬৮ মিনিটে) গোলের ব্যবধান ৫-১ করেন নাথানিয়েল ব্রাউন। বক্সের কিনারা থেকে ডেনিজ উন্দাভ বলটি ফ্লিক করে দেন ব্রাউনের দিকে। আর তিনি দুর্দান্ত এক ভলিতে গোলটি করেন।

কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলবন্যায় মেতেছে জার্মানি। দলের হয়ে ষষ্ঠ গোলটি করেছেন ডেনিজ উন্দাভ। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে কাই হাভার্টজ বল বাড়িয়ে দেন যশুয়া কিমিচের দিকে। কিমিচের কাছ থেকে বল পেয়ে কুরাসাও ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে গোল করেন ডেনিজ। জার্মানির প্রথম ৬ গোলের ৬টিই করেন ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড়। 

নিজের দ্বিতীয় গোল ও জার্মানির হয়ে সপ্তম গোলটি আসে কাই হাভার্টজের কাছ থেকে। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে আসে গোলটি। ম্যাচের বাকিটা সময় আর কোনো গোল হয়নি। এতে ৭-১ গোলের বড় জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

সালমান/

প্রথমার্ধে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও, ৩ গোল দিল জার্মানি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:২৯ এএম
প্রথমার্ধে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও, ৩ গোল দিল জার্মানি
ছবি: সংগৃহীত

শক্তি-সামর্থ্যে ঢের এগিয়ে থাকা জার্মানি ম্যাচের শুরু থেকে দাপট দেখাতে থাকে। মাত্র ৬ মিনিটে পেয়ে যায় গোলের দেখা। কিন্তু প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নামা কুরাসাও গড়ল ইতিহাস। পাল্টা আক্রমণে কাঁপায় জার্মানির জাল। তবে বেশিক্ষণ সমতায় থাকতে হয়নি জার্মানিকে। আর প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে পেনাল্টি থেকে গোল আদায় করে ব্যবধান ৩-১ করে জার্মানি।

রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হাস্টন স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ই’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় তারা।

ম্যাচের শুরু থেকে একের পর এক আক্রমণে কুরাসাওকে চেপে ধরে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মাত্র ৬ মিনিটের প্রথম গোলের দেখা পায় তারা। জামাল মুসিয়ালার একটি শট রুখে দেন কুরাসাও ডিফেন্ডার আরমান্দো ওবিস্পো। তবে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফ্লোরিয়ান ভির্টজে পাস দেন ফেলিক্স এনমেচাকে। বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান তিনি।  

তবে ২১ মিনিটে আসে কুরাসাওয়ের ঐতিহাসিক গোলটি। কুরাসাও রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়া বক্সের ভেতর বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করেন। এতে গ্যালারিতে উল্লাসে মাতেন কুরাসাও সমর্থকরা।

প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নামা দেশটি বেশিক্ষণ সমতা ধরে রাখতে পারেনি। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে দারুণ এক হেডে গোল করে জার্মানিকে এগিয়ে নেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। 

আর প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ান কাই হাভার্টজ। যোগ করা সময়ে বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হন জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা। এতে পেনাল্টি পায় তারা। আর স্পটকিকে বড় জালে জড়াতে ভুল করেননি কাই হাভার্টজ। 

সালমান/

জোটার স্মরণে বিশ্বকাপে বিশেষ উদ্যোগ নিল পর্তুগাল

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
জোটার স্মরণে বিশ্বকাপে বিশেষ উদ্যোগ নিল পর্তুগাল
ছবি: সংগৃহীত

না থেকেও যেন পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আছেন দিয়োগো জোটা। পর্তুগালকে চলতি বিশ্বকাপের টিকিট পাইয়ে দিতে রেখেছিলেন অবদান। কিন্তু বিশ্বকাপে খেলা হলো না তার। গত বছর স্পেনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার। দলের প্রয়াত এই খেলোয়াড়ের সম্মানে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পর্তুগাল।

আগামী ১৭ জুন বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে পর্তুগাল। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো। জোটার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবারের বিশ্বকাপে বিশেষ রিস্টব্যান্ড পরে খেলবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরা। 

জানা গেছে, পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনিগ্রো খেলোয়াড়দের বিশেষ রিস্টব্যান্ড উপহার দিয়েছেন। যেখানে রয়েছে খেলোয়াড়দের নাম। তাদের সঙ্গে যুক্ত আছে জোটার নামও। বিশেষ এই রিস্টব্যান্ড ফিফার রীতি মেনেই তৈরি হয়েছে। এতে করে তারা পুরো ম্যাচেই এই রিসব্যান্ড পরে খেলতে পারবেন। 

পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ভিতিনহা সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রিস্টব্যান্ডটির ঘটনা হলো, আমরা যখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাই, তখন তিনি আমাদের এই রিস্টব্যান্ডটি দেন। এটি এমন এক রিস্টব্যান্ড যা পরে আমরা খেলতে পারব। এতে সব খেলোয়াড়ের পাশাপাশি দিয়োগো জোটার নামও রয়েছে।

সালমান/

হোম অব ক্রিকেটে লিটনের অন্য রকম প্রথম

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
হোম অব ক্রিকেটে লিটনের অন্য রকম প্রথম
ছবি: সংগৃহীত

বিষয়টি অবাক করার মতোই। ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন লিটন দাস। কিন্তু মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে তার নেই কোনো হাফ সেঞ্চুরি। অথচ ক্যারিয়ারে তিনি ১৩টি হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন। শেষ পর্যন্ত সেই খরার অবসান হয়েছে এই স্টাইলিশ ব্যাটারের। রবিবার (১৪ জুন) নিজের ১০৪তম ম্যাচে এসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরির দেখা। ৫৮ রান করে থাকেন অপরাজিত।

লিটন কুমার দাসের ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল এই মিরপুরে। প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। ২০১৫ সালে তার সেই অভিষেক ম্যাচে আরও একজনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। একজন ছিলেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। ম্যাচটি হয়ে উঠেছিল মোস্তাফিজনামা। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন ছিন্ন-ভিন্ন করে দিয়ে মোস্তাফিজ তুলে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। মোস্তাফিজের মতো লিটন তার অভিষেক রাঙাতে পারেননি। মাত্র ৮ রান করেছিলেন। ভারত বধ সিরিজ পরে হয়ে উঠেছিল মোস্তাফিজময়। দ্বিতীয় ম্যাচে মোস্তাফিজ ছিলেন আরও ভয়ংকর। এবার উইকেট নেন আরও একটি বেশি। সংখ্যা দাঁড়ায় ৬টি। মোস্তাফিজ আবারও ম্যাচসেরা। লিটন দাস এবার করেছিলেন ৩৬ রান। তৃতীয় ম্যাচে মোস্তাফিজ আর প্রথম দুই ম্যাচের মতো ত্রাস সৃষ্টি করতে পারেননি। উইকেট নিয়েছিলেন ২টি। লিটন দাস করেছিলেন ৩৪ রান।

একত্রে শুরু করা ওয়ানডে আঙিনায় মোস্তাফিজ তার শুরুটা বর্ণাঢ্য করে রাখলেও লিটন পারেননি। কিন্তু দুজনেই এখন জাতীয় দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন বোলারের চির আরাধ্য ৫ উইকেট নেওয়া। ব্যাটারের আরাধ্য সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি না হলেও অন্তত হাফ সেঞ্চুরি। লিটন দাস হাফ সেঞ্চুরির দেখা পাওয়ার আগে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন। ২০১৮ সালে সেই ভারতের বিপক্ষেই এশিয়া কাপের ফাইনালে তিনি করেছিলেন ১১৭ বলে ১২১ রান। হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান তার দুই ম্যাচ পর চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৮৩ রানের ইনিংস খেলে। 

লিটন দাস তার এগিয়ে চলার পথে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামার আগে ৫টি সেঞ্চুরি আর ১৩টি হাফ সেঞ্চুরি করেন। কিন্তু সেগুলোর একটিও ছিল না মিরপুরের। অথচ মিরপুর তিনি একে একে খেলেছেন ২৮টি ম্যাচ (একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়াতে ব্যাটিং করেননি। যেখানে হাফ সেঞ্চুরির কাছাকাছি যেতে পেরেছিলেন একবার। এ বছরই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৬ রান করেছিলেন। এ ছাড়া ৪১ রান করে আউট হয়েছিলেন ৪ বার। প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান দুবার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারত একবার করে। তার অপর ইনিংসগুলো ছিল ভারতের বিপক্ষে ৮, ৩৬, ৩৪, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ০, ১৭, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ০, ৭, ১৭, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ০, ২৫, ভারতের বিপক্ষে ৭, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭, ০, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬, (একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল), এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭ ও ২১। তৃতীয় ম্যাচেও তার হাফ সেঞ্চুরি করার সম্ভাবনা ছিল না। ৩২ ওভার শেষে ৪৮ রানের সময় তিনি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন পায়ে ক্র্যাম্প করলে। তার যখন ক্র্যাম্প হয়, তখন মাঠে পরিচর্যা করা হয়। তিনি খেলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পারেননি। পরে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। এরপর দলের ইনিংস শেষের দিকে গড়াতে থাকে। ৪৮.২ ওভারের সময় শেখ মাহেদী হাসান আউট হলে লিটন দাস আবার ব্যাটিং করতে নামেন। তৃতীয় বল মোকাবিলা করেই ১ রান নেন। ওভারের শেষ বলে ২ রান নিয়ে তিনি মিরপুরে হাফ সেঞ্চুরির খরা দূর করেন। বল খেলেন ৭৫টি। ১টি ছক্কার সঙ্গে ছিল ৪টি বাউন্ডারি। শেষ ওভারের ২ বল খেলে ১টি ছক্কাসহ ৭ রান করে তিনি ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন। 

লিটন দাসের মতো ব্যাটার নিজেকে যেখানে নিয়ে গেছেন, সেখানে হাফ সেঞ্চুরি তার জন্য বিশেষ কিছু না। ঘরের মাঠে চট্টগ্রাম ও সিলেটে যেখানে তার সেঞ্চুরি এ হাফ সেঞ্চুরির একাধিক ইনিংস আছে, সেখানে হোম অব ক্রিকেটে তার কোনো হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস না থাকাটা ছিল বেমানান।  আর সেটিকে এখন তিনি সুন্দরে পরিণত করেছেন।